ভারত জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পোত্পাদনের প্রথম ক্রেতা রাষ্ট্র হতে পারে. টোকিও শহরে হয়ে যাওয়া আলোচনা, যা প্রধানমন্ত্রী সিঞ্জো আবে ও ভারতের মন্ত্রীসভার প্রধান মনমোহন সিংহের মধ্যে হয়েছে, তাতে দুই পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, ভারতে সরবরাহ ও সম্ভাব্য যৌথ উত্পাদন করা হতে পারে জাপানের উভচর বিমান ইউএস-২ এর. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

১৯৬৭ সাল থেকে জাপানে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের উত্পাদিত পণ্য দেশের বাইরে রপ্তানী করা নিষিদ্ধ. তাই সামরিক বিমান রপ্তানী করা যেতে পারে শুধু অসামরিক ব্যবহারের উপযুক্ত করেই.

২০১২ সালেই জানা গিয়েছিল যে, জাপান ভারতকে দুটি সামরিক বিমান অসামরিক বিমানের যন্ত্রপাতি লাগিয়ে বিক্রী করতে চাইছে. তখন কথা হয়েছিল শিন মেওয়া কোম্পানীর তৈরী দুটি ইউএস- ২ বিমান ভারতকে দেওয়া হবে সমুদ্রের ত্রাণ কার্যের জন্যই.

আসলে এটি একটি আমেরিকার বিমানের আধুনিকীকরণের পরের মডেল. ১৯৯৬ সালে জাপান নতুন উভচর বিমান তৈরী উপযুক্ত অর্থের অভাবে স্রেফ আমেরিকার জলে নামা ওঠার উপযুক্ত বিমান ইউএস- ১এ আধুনিক করে নিয়েছিল. তাতে নতুন টার্বো এঞ্জিন রোলস্ রয়েস এই ২১০০ বসানো হয়েছিল, ডানার গঠন পাল্টে, তাতে ফুয়েল ট্যাঙ্ক যোগ করা হয়েছে, কিন্তু সব থেকে আসল হল বিমানের নাকের ডগায় নতুন ফরাসী রেডিও নির্ণয়ের ব্যবস্থা থ্যালেস ওসান মাস্টার লাগানো হয়েছে.

ভারতীয়রা ইজরায়েলের নতুন খোঁজ করার যন্ত্রপাতির খুবই উচ্চ মূল্যায়ণ করে আগ্রহ প্রকাশ করেছে ইজরায়েলের অ্যাভিওনিক্স ব্যবহার করে ইউএস- ২ বিমান সরবরাহের বিষয়ে.

চার এঞ্জিনের বিমান ইউএস-২ সমুদ্রের ত্রাণের কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে, আর তারই সঙ্গে অনুসন্ধানের কাজ করার জন্যও ব্যবহার করা সম্ভব, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

“এখানে কথা হচ্ছে জাপানের থেকে ভারতকে সেই রকমের বিমান সরবরাহ করার, যা সামরিক ও অসামরিক দুই ক্ষেত্রেই ব্যবহার করা সম্ভব. এটা জাপান – ভারত সম্পর্কের প্রথম প্রভাতের পক্ষী, যা দুই দেশের মধ্যে সামরিক – প্রযুক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতার ক্ষেত্রে শুরু হয়েছে. জাপান খুবই আগ্রহী এই এলাকার দেশ গুলির সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করতে. ভারত একটি ক্রমাগত উঠে আসা বিশ্বের নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র, যা দক্ষিণ এশিয়াতে আজ এমনিতেই প্রাধান্য পেয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মত, তারাও বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে চিনের সামরিক ক্ষমতা বৃদ্ধিতে চিন্তিত হয়েছে. ভারতকে বিমান সরবরাহ করে জাপানীরা নিজেদের শক্তি বৃদ্ধ করছে, নিজেদের ভিত্তিকে মজবুত করে. তারা এই জন্যই আগ্রহী যে, যাতে ভারতের শক্তি বৃদ্ধি হয়, আর ভারত সমর্থ হয় চিনকে আটকে রাখতে. এই ভাবেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের অবস্থান তৈরী করা হচ্ছে চিনের শক্তি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেকে. প্রসঙ্গতঃ ভারতকে এই রাজনীতিতে করার জন্য আলাদা করে ভূমিকা দেওয়া হয়েছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রকমের”.

পর্যবেক্ষকরা একই সঙ্গে লক্ষ্য করেছেন যে, ভারত ও জাপানের প্রধানমন্ত্রীরা নিয়মিত ভাবে জাপানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নৌবহর ও ভারতের নৌবহরের সম্মিলিত প্রশিক্ষণের বিষয়ে চুক্তি করেছেন.

ভারত- জাপানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি গণ প্রজাতান্ত্রিক চিনের বিরক্তির কারণ হয়েছে. একই সঙ্গে ভারতে মনমোহন সিংহের জাপান সফরকে ও তাঁর সিঞ্জো আবের সঙ্গে আলোচনাকে বৃহত্ সাফল্য বলেই মনে করা হয়েছে.