সিরিয়া নিয়ে নতুন জেনেভা সম্মেলন আয়োজনের ক্ষেত্রে বাড়তি জটিলতার উদ্রেক হয়েছে.সিরিয়ার জাতীয় বিরোধী ও বৈপ্লবিক শক্তির জোট দাবী করেছে যে, তাদের দেশের রাষ্ট্রপতি পদ থেকে বাশার আসাদের হঠে যাওয়ার গ্যারান্টি দিতে হবে. জাতীয় কোয়ালিশনের প্রতিনিধিরা এর মধ্যেই এক সপ্তাহ হল ইস্তাম্বুলে আলোচনা করছে. তারা ঘোষণা করেছে যে, রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ রাজনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে বাদ যেতে বাধ্য. সরকারি ভাবে দামাস্কাস একাধিকবার ঘোষণা করেছে যে, তারা দেশের প্রধানের পদত্যাগ নিয়ে কথা বলতেই রাজী নয়. এই প্রসঙ্গে বিরোধী পক্ষের ঘোষণায় বলা হয় নি যে, জোট জেনেভার বৈঠকে অংশ নেবে কি না.

ঘটনার এই ভাবে মোড় ফেরা দেখে রুশ আমেরিকা কূটনৈতিক দপ্তরে সক্রিয়তা খুবই বিস্ফোরক ভাবে বেড়ে গিয়েছে. ২৯শে মে সন্ধ্যাবেলায় রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরির কথা হয়েছে টেলিফোনে. তাঁরা সিরিয়া নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন সম্বন্ধে আলোচনা করেছেন.

সের্গেই লাভরভ একাধিকবার তাঁর আমেরিকার সহকর্মীকে আহ্বান করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এই বিরোধীদের উপরে ব্যবহার করে কোন রকমের প্রাথমিক শর্ত ছাড়াই তাদের আলোচনার টেবিলে বসতে রাজী করাতে. জাতীয় জোটের অবস্থান জেনেভা – ২ সম্মেলনে সব কিছু ঠিক করে দেওয়ার মতো হতে পারে না, কারণ এই জোট নিজেই বিরোধী পক্ষের সম্পূর্ণ প্রতিনিধি নয়, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ, তাঁর কিউবার সহকর্মীর সঙ্গে আলোচনার পরে মস্কোয় ৩০শে মে দেওয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন:

“এমন একটা ধারণা তৈরী হচ্ছে যে, জাতীয় জোট ও তাদের আঞ্চলিক পৃষ্ঠপোষকরা যে কোন রকমের উপায় বের করে সব কিছুই করছে, যাতে এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়া শুরু হতেই না পারে, তার মধ্যে এবারে শুরু হয়েছে পশ্চিমে সামাজিক মত তৈরীর চেষ্টা, যাতে সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশ করানো যায়. আমরা মনে করি যে, এই ধরনের উপায় নেওয়া চলতে পারে না ও সেই অবস্থান থেকেই আমরা বলছি যে, এই জাতীয় জোট, তা নিয়ে যে যা খুশী বলুক না কেন, সমস্ত সিরিয়ার জনগনের মোটেও একমাত্র আইন সম্মত প্রতিনিধি নয়, যা তারা আদতে সবাইকে প্রমাণ করতে চাইছে, আর আরও অনেক গুরুতর বিরোধী শক্তিও রয়েছে, যারা মোটেও আগ্রাসী ভাবে বক্তব্য প্রকাশ করছে না, তারা বরং দেশের প্রতি ভালবাসা নিয়েই এগিয়ে আসছে”.

জাতীয় জোট যে, বাস্তবে সিরিয়ার ভিতরে প্রভাব হারিয়েছে, তা নিয়ে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিরোধী পক্ষের ঘোষণা থেকেই বোঝা গিয়েছে. সিরিয়ার বৈপ্লবিক আন্দোলন এক বড় গোষ্ঠী, যারা বিরোধী ও তারা ঘোষণা করেছে যে, এই জাতীয় জোট দেশের ভিতরে কি হচ্ছে, তার সঙ্গে কোনও বাস্তব যোগাযোগ রাখে না. লন্ডনের “দ্য ইনডিপেন্ডেন্ট” সংবাদপত্রে তাদের ঘোষণা ছাপা হয়েছে এই ভাবে যে, জাতীয় জোট সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে খুবই অসভ্য ভাবে বিদেশী রাষ্ট্র গুলির হস্তক্ষেপ হতে দিয়েছে. ব্রিটেনের এই সংবাদপত্র লিখেছে যে, এটা সরাসরি ভাবে সৌদী আরব ও কাতারের বিভিন্ন বিরোধী গোষ্ঠীর দিকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে. জাতীয় জোটের প্রাক্তন নেতা মুয়াজ আল-হাতীব এই সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, মার্চ মাসে তিনি সরে গিয়েছেন নিজের পদ ছেড়ে শুধু এই জন্যে যে, জোট বর্তমানে সৌদী আরব ও কাতারের হাতের পুতুলে পরিণত হয়েছে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভের কথামতো, সিরিয়াতে প্রচুর বিরোধী জোট রয়েছে, যারা দেশপ্রেমের অবস্থান থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে. তার উদাহরণ হিসাবে তিনি নাম করেছেন জাতীয় কোঅর্ডিনেশন কমিটির আর সিরিয়ার কুর্দ সমাজের কথা. সের্গেই লাভরভ আসা প্রকাশ করেছেন যে, তাঁর আমেরিকার সহকর্মী তাও নিজেদের অবিভাবকত্বের অধীনে থাকা লোকদের উপরে প্রভাব সৃষ্টি করবেন ও জেনেভা – ২ সম্মেলন হওয়ার পথে কৃত্রিম বাধা গুলিকে দূর করবেন, তাই এই প্রসঙ্গে আরও যোগ করে লাভরভ বলেছেন:

“আশা করবো যে, তাও সুস্থ শক্তি পাওয়া যেতে পারে আমেরিকার লোকদের মধ্যেই, যারা সেই সমস্ত লোকদের প্রয়োজনে সুর বেঁধে এই ধরনের একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়, এমন ধরনের আগ্রাসী পথ, যা জাতীয় জোট নিয়েছে, তা আটকে দেবেন আর যারা চেষ্টা করছে এই জোটকে একমাত্র কাঠামো হিসাবে প্রমাণ করতে, যাদের সঙ্গে সিরিয়ার সরকার কথা বলতে বাধ্য”.

রাশিয়া ও আমেরিকার কূটনীতিবিদেরা তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যাতে এই জেনেভা – ২ সম্মেলন আয়োজন সার্থক হয় ও তা করা যায়. এই আলোচনার একমাত্র উল্টো উপায় হতে পারে হিংসার বৃদ্ধি ও এই দেশের পরিস্থিতি লিবিয়ার মত করেই পরিবর্তিত হওয়া.