রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি রক্ষী বাহিনীর – ৬৫ বছর. এই বছর গুলিতে বাহিনী বহু মিশনে গিয়েছে ও নিজেদের সারিতে হারিয়েছে বহু শত সৈনিককে. কখনও রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি রক্ষী বাহিনীর কাজকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে, কিন্তু প্রতি বছরের সঙ্গেই এই নীল হেলমেট পরা দলের প্রয়োজনীয়তা খালি বেড়েই চলেছে. বর্তমানে বিশ্বের চোদ্দটি এলাকায় তারা শান্তি রক্ষার কাজ করছে.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি রক্ষার প্রয়োজনে সামরিক বাহিনীর ঐতিহাসিক শুরু হওয়ার দিনটি ধরা হয় ১৯৪৮ সালে. তখন সদ্য গঠিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ ঠিক করেছিল আরব- ইজরায়েল যুদ্ধের নড়বড়ে শান্তি চুক্তি রক্ষার বিষয়কে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রাখার. নিকটপ্রাচ্যে এই বিরোধের এলাকায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে পর্যবেক্ষক দল পাঠানো হয়েছিল. আর ১৯৫৬ সালে নীল হেলমেট পরা সৈন্যরা শান্তি রক্ষার মিশন নিয়ে জরুরী সামরিক শক্তি হিসাবে প্রথমবার নিজেদের কাজ করেছিল, তারা সুয়েজ প্রণালী থেকে সমস্ত বিদেশী সৈন্য বাহিনীর বেরিয়ে যাওয়া নিয়ন্ত্রণ করেছিল. প্রথম আরব- ইজরায়েল যুদ্ধ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত নীল হেলমেট সেনাদল প্রায় সত্তরটি শান্তি রক্ষা মিশনে সারা বিশ্বে কাজ করেছে.

দুঃখের বিষয় হল যে, কিছু শান্তি রক্ষার মিশন লক্ষ্য পূরণে সফল হয় নি. যেমন ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি রক্ষা বাহিনীর পক্ষে সম্ভব হয় নি রুয়ান্ডা রাষ্ট্রের নৃশংস খুনোখুনি বন্ধ করার আর তেমনই তারা পারে নি ১৯৯৫ সালে বসনিয়ার সেরেব্রেননিত্সা এলাকায় গণহত্যা বন্ধ করতে. মনে করা হয় যে, দুটি ক্ষেত্রেই শান্তি রক্ষা বাহিনীর যথেষ্ট সৈনিক ছিল না ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রযুক্তি সম্ভারও পর্যাপ্ত পরিমাণে ছিল না.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সামরিক বাহিনীর সমস্ত অপারেশনই আদর্শ নয়, আর নীল শিরস্ত্রাণ পরা লোকদের কাজকর্মের আলাদা কিছু জায়গার সমালোচনা করার ভিত্তি রয়েছে. কিন্তু রাষ্ট্রসঙ্ঘের সামরিক বাহিনী তৈরী করার ধারণা প্রসারিত অর্থে প্রমাণিত সত্য – এই রকম মনে করে রাশিয়ার পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা নীতি পরিষদের তিমোফেই বর্দাচেভ বলেছেন:

“বিগত দশক গুলিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষক বাহিনীর লোকরা বিশাল সংখ্যায় মানুষের জীবন রক্ষা করেছে. তাদের কাজকর্ম, তাদের প্রত্যেক দিন নেওয়া নিজেদের প্রাণের ঝুঁকি সহায়তা করেছে আন্তর্জাতিক ভাবে সত্যিকারের কার্যকরী শক্তি হিসাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মর্যাদা পাওয়ার, যার সিদ্ধান্ত ও কাজকর্ম মানুষের জীবনের উপরে প্রভাব ফেলে”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষক বাহিনী তৈরীর সিদ্ধান্ত আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও নিকট প্রাচ্যে বহু এলাকায় অনেক বিরোধ সমাধানে কাজে লেগেছে বলে উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মী নিজে তরফ থেকে বলেছেন:

“দেখাই যাচ্ছে যে, আমরা আন্তর্জাতিক শান্তি রক্ষক বাহিনীর বিকাশ লক্ষ্য করতে থাকবো, কারণ আধুনিক বিশ্বে এক সারি নতুন বিপদের সূচনা হয়েছে, যা নতুন ধরনের নীতি নেওয়ার প্রয়োজন বোধ করে, নতুন রসদের দরকার পড়ে, হুমকির বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা রাখার প্রয়োজন হয়. যেমন, পারমানবিক অস্ত্র প্রসারের প্রশ্নে একই সঙ্গে বহু দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা দরকার হয়. বোধহয়, শান্তি রক্ষার অভ্যাস সেই কারণেই আরও উপকারী যে, এই বাহিনীর ভিত্তিতে তৈরী করা যেতে পারে দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখানোর উপযুক্ত সামরিক বাহিনীর যারা সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের বিরুদ্ধে অপারেশন করতে পারে, যাদের পারমানবিক শক্তি থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা যেতে পারে”.

একই সময়ে এক গুরুতর সমস্যা রয়েছে সেই সমস্ত শর্তের কারণে যে, যা শান্তি রক্ষা মিশনের উপরে প্রয়োগ করা হয়. সাধারণতঃ, শান্তি রক্ষক বাহিনী কোন রাষ্ট্র বা এলাকায় গিয়ে ঘাঁটি তৈরী করে, যেখানে স্থানীয় প্রশাসন হয় দুর্বল, অথবা একেবারেই অক্ষম. ফলে শান্তি রক্ষা বাহিনীর লোকরা সমস্ত ধরনের জঙ্গী গোষ্ঠীর জন্যই হয়ে দাঁড়ায় সহজ লক্ষ্য, যাদের কাছ থেকে স্থানীয় জনতাও বাধ্য হয় প্রতিরক্ষা করতে. এই পরিস্থিতি বর্ণনা করা যেতে পারে কয়েকদিন আগে সিরিয়ার জঙ্গী গোষ্ঠীর হাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষক বাহিনীর সেনাদের বন্দী হওয়া, যা ঘটেছে গোলান হাইটস এলাকায়.

তার থেকেও খারাপ হল যে, শান্তিরক্ষকদের মেরে ফেলা হয়ে থাকে. সাইপ্রাস দ্বীপে ১৯৬৪ সালে শান্তি রক্ষার সময়ে ১৮১ জন সৈনিককে মেরে ফেলা হয়েছিল. ১৯৭৮ সালে লেবাননে শান্তি রক্ষা অপারেশনের সময়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে আসা ২৯৬ জন সৈনিককে হত্যা করা হয়েছিল. এটা ছিল একটি নির্দিষ্ট অপারেশনের সময়ে সবচেয়ে বড় ক্ষতি.