ভারতের আসাম রাজ্যে তিনজন রুশ নাগরিককে জুয়াচুরি করার দায়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছে. যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে – তাদের একজন আলেক্সেই মুরাতভ, খুব সম্ভবতঃ মাভরোদি মন্ডিয়াল মানিবক্স (সংক্ষেপে “এমএমএম”) ভারত কোম্পানীর প্রধান, বাকি দুজনের পরিচয় এখন সঠিক করে জানার চেষ্টা করা হচ্ছে. তাদের সঙ্গে আরও গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাদের ভারতীয় সহকর্মীদের – দীনেশ কোটিয়ান ও রিমিশ বালান, যারা মুম্বাই শহরের লোক ও আসামের স্থানীয় এক এজেন্ট নবজিত্ দাস. তারা সকলেই স্থানীয় বিনিয়োগ পিরামিড এমএমএম তৈরীর সঙ্গে জড়িত বলে সন্দেহ করা হয়েছে. বৃহস্পতি বারে এই খবর দিয়েছে ভারতের দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্র.

এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এই মাভরোদি মন্ডিয়াল মানিবক্স, ইন্ডিয়া, কোম্পানীর নামই বলে দেয় এর লোকজনের সঙ্গে রাশিয়ার কুখ্যাত টাকা পয়সার বিষয়ে জুয়াচোর সের্গেই মাভরোদি নামের ব্যক্তির সঙ্গে এদের যোগ সাজশের কথা. ১৯৮৯ সালে সে এমএমএম কোম্পানী তৈরী করেছিল ও তার মধ্যে বেশ অনেক গুলি ব্যবসায়িক কোম্পানীও নথিভুক্ত করেছিল, তাদের মধ্যেই ছিল আবার এমএমএম লিমিটেড, যা রাশিয়ার ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক পিরামিড তৈরী করেছিল. তাদের কাজকর্মে বিভিন্ন মূল্যায়ণ অনুযায়ী এক থেকে দেড় কোটি লোক ফেঁসেছিল. ২০০৩ সালে রাশিয়াতে বিরাট অঙ্কের জুয়াচুরি করার দায়ে সের্গেই মাভরোদি জেলে গেয়েছিল.

এই লোকের অভিজ্ঞতাকেই তার ভারতীয় ভক্তরা পুনরাবৃত্তি করতে চেয়েছে. ভারতের বিনিয়োগ ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর আমান আগরওয়াল উল্লেখ করে বলেছেন

তথাকথিত বিনিয়োগ পিরামিড, তৈরী হয়ে থাকে ছোট খাট জমা টাকা দিয়ে, যা জমা নেওয়া হয় পরে অনেক লাভ সমেত ফেরত দেওয়ার আশা দিয়ে. এই ধরনের বিনিয়োগ পিরামিড বিভিন্ন দেশে তৈরী হয়. ভারত এ ব্যাপারে বাদ যায়নি. কিন্তু এই সব আশ্বাস কখনই পূরণ করা হয় না, টাকা ফেরত হয় না. গরীব লোকদের আসলে একেবারে উলঙ্গ করে ছাড়ে বড় লোকরাই. প্রায়ই এই ধরনের পিরামিড তারা ব্যবহার করে তারাই, যারা টাকা লুকোতে চায়. কিন্তু এর ফলে বহু সাধারন ভাল মানুষের ক্ষতি হয়ে থাকে. ভারত সরকারের জন্যও এই ধরনের কাজ কারবার এক মাথাব্যথায় পরিণত হয়েছে, যা নিয়ে এখন লড়াই করা হচ্ছে. এরই একটা সদ্য ঘটা উদাহরণ – এই এমএমএম কোম্পানীর লোকদের গ্রেপ্তার হওয়া, যাদের মধ্যে আবার রুশ লোকরাও রয়েছে.

“তারা টাকা যোগাড় করছিল দাতব্যের নামে” – এই ঘোষণা করেছেন স্থানীয় পুলিশের ইন্সপেক্টর এল আর বিসনয়. তবে এটাও ঠিক যে, রশ জুয়াচোর মাভরোদি যা করেছে, এরা ঠিক তার মতো করে এখনও বড় কারবার করে ফেলতে পারে নি. এই দলের পরিকল্পনা ছিল নিজেদের কাজ কারবার আসাম রাজ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার. মঙ্গলবারে এই বদমাস লোকরা আবার একটা সেমিনারের আয়োজন করেছিল লোকের কাছে টাকা তোলার ধান্ধা নিয়ে. পুলিশের তথ্য অনুযায়ী এমএমএম কোম্পানী আসামে ২৫ জন লোককে ঠকাতে পেরেছে. তার থেকে এই পিরামিডের অনেক বেশী লোক বিনিয়োগ করেছিল পাঞ্জাব রাজ্যে. “পাঞ্জাবের পুলিশ সমর্থন করেছে যে, সেখানে ঠকে যাওয়া লোকজন হারিয়েছেন ১৫ কোটি টাকা, মানে প্রায় ২৬ লক্ষ ডলারের মতো,” - খবর দিয়েছেন পুলিশ ইন্সপেক্টর বিসনয়.

এর আগে পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও অন্ধ্র প্রদেশ রাজ্যের প্রশাসন তাদের অধিবাসীদের সাবধান করে দিয়েছে ভারতীয় “এমএমএম কোম্পানীর কাজ কারবার” নিয়ে. তা স্বত্ত্বেও বহু সরল লোকই এই সব জুয়াচোরদের কাছে নিজেদের টাকা পয়সা দিয়ে এসেছিল.

বর্তমানে রাশিয়াতে এই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ পিরামিডের স্রষ্টা সের্গেই মাভরোদি পুলিশের কাছ থেকে গা ঢাকা দিয়েছে. তাকে খোঁজা হচ্ছে তার নামে আবার করে ২০১২ সালে নতুন মামলায় অভিযুক্ত হিসাবে.