যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংগঠনের দেশ গুলি সমঝোতায় পৌঁছেছেন তাজিক- আফগান সীমান্ত প্রতিরক্ষার জন্য ২০১৪ সালে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী আফগানিস্তান থেকে প্রত্যাহারের পরে শক্তি জড়ো করার. বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি সংগঠনের পক্ষে সম্ভব হবে বহু সংখ্যক সীমান্ত পার হয়ে আসা বিপদের উপযুক্ত বাধা দান করার, যা এই এলাকাতে এখন তৈরী হচ্ছে.

আফগানিস্তানের অস্থিতিশীলতার ঢেউ, যা অবধারিত ভাবেই মধ্য এশিয়ার রাষ্ট্র গুলির উপরে আছড়ে পড়তে চলেছে, তা নিয়ে নানা ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি কারী ও প্রায় বিপর্যয়ের সঙ্কেত সহ কথাবার্তার মধ্যেই এক অনাড়ম্বর পরিস্থিতিতে এই সংগঠনের সদস্য দেশ গুলির রাষ্ট্র প্রধানরা শীর্ষ প্রধানদের বৈঠক হয়ে গেল. স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের দেশ গুলিকে নিয়ে গবেষণা ইনস্টিটিউটের মধ্য ও কেন্দ্রীয় এশিয়া বিভাগীয় দপ্তরের প্রধান আন্দ্রেই গ্রোজিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“দুঃখের কথা হল যে, এখন খবর আসছে যে, তাজিক – আফগান এবং তুর্কমেনিয়া- আফগান সীমান্ত এলাকায় জড়ো হচ্ছে বিভিন্ন ধরনের ঐস্লামিক গোষ্ঠীর জঙ্গী লোকেরা. তা অবশ্যই শুধু তালিব নয়, বরং তাদের জোটের লোকরাও. আর এই অস্থিতিশীলতা এবারে উত্তরের দিকে রওয়ানা হয়েছে, যা যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংগঠনের দায়িত্বের এলাকার কাছেই এগিয়ে আসছে. সময়ের সঙ্গে এই হুমকি আরও বেশী করেই সংজ্ঞাবহ হয়ে উঠছে. কেন্দ্রীয় এশিয়ার রাষ্ট্র গুলি খুবই গুরুতর সময় এখন পার হচ্ছে”.

যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংগঠনের সাধারন সম্পাদক নিকোলাই বরদ্যুঝা যেমন বলেছেন যে, এই সংগঠনের সদস্য দেশ গুলির নেতারা চাইছেন আমেরিকার সেনা বাহিনীকে আফগানিস্তান থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরে সেখানে পরিস্থিতি তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠার ফলে অবধারিত নেতিবাচক পরিণতিকে যথাসম্ভব কম করে ফেলার (বিশেষজ্ঞরা বলছেন সেখানে এমনকি সম্পূর্ণ মানের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়ে যাতে পারে).

আফগানিস্তান থেকে যখন আমেরিকার লোকরা চলে যাবে, তখন সমস্যা দেখা দেবে সমস্ত এলাকার জন্যই, এই কথার সাথে একমত হয়ে স্ট্র্যাটেজিক কমিউনিকেশনস সেন্টারের ভাইস প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি আবজালভ বলেছেন:

“নিরাপত্তার ব্যাপারেই আসল ঝুঁকি রয়েছে. এটা – সন্ত্রাস পাচার করা নিয়ে. বিশেষ করে ফেরগানা উপত্যকায়. আর তাই, তারই সঙ্গে মাদক পাচার বেড়ে যাওয়ার. এখানে কথা হচ্ছে যেমন, যৌথ সামরিক বাহিনী তৈরী করার, যারা মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ করবে, আর সেই বিষয়ে ফলপ্রসূতা বৃদ্ধি করবে. আফগানিস্তান থেকে পাচার বাড়ার ফলেই তাজিকিস্তানের অবস্থানের গুরুতর ক্ষতি হয়েছে. বাস্তবে সেই দেশ পরিণত হয়েছে এক বিশাল চলাফেরার রাস্তায়”.

এই মাদক পাচার হল সবচেয়ে বেশী উদ্বেগের একটি অন্যতম কারণ. প্রান্তর পার হওয়া লাল গাঁজা ফুলের ক্ষেতের ঝলকানি এখন আফগানিস্তানের সবচেয়ে দূরের ও সবচেয়ে অন্ধকার সামাজিক ও রাজনৈতিক মডেলের গলিঘুঁজি গুলিতে আলো করে রেখেছে. আফগানিস্তানে পশ্চিমের জোটের সেনা বাহিনী থাকার সময়ে হেরোইন তৈরীর পরিমান বেড় হয়েছে দশ গুণ.

বিপদ শুধু বেড়েই চলেছে, যদি ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী বের হয়ে যাওয়ার পরে আফগানিস্তান বেশ কিছু আলাদা কেন্দ্র সমেত খণ্ডিত রাষ্ট্রে পরিণত হয়, তাহলে. তারই ফল হিসাবে আফগানিস্তানের এলাকায় সন্ত্রাসবাদী সংগঠন গুলির ঘোঁটের সংখ্যাও বাড়বে. বাস্তবে, আগামী বছর থেকেই আফগানিস্তান এক স্থায়ী বিরোধের এলাকায় পরিণত হতে চলেছে, যেখানের থেকে ঐস্লামিক গোঁড়ামী, অস্ত্র ও জেহাদের জন্য অর্থ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে. আর সেই বাস্তব যে, আমেরিকার লোকরা আফগানিস্তানে নিজেদের সম্ভাব্য সবচেয়ে কম সেনা বাহিনী মোতায়েন করে রাখবে, তা সবাইকে শান্ত করার জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়. শুধু সেই জন্যই তৈরী হলে চলবে না যে, মাদক দ্রব্য এখানে প্লাবনের মতো আসতে থাকবে, বরং তার জন্যও তৈরী হতে হবে, যাতে সমস্ত গোষ্ঠী, যারা এই মাদক পাচারের অর্থের সাহায্যে বেঁচে রয়েছে, তারাও অস্ত্র হাতে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় এশিয়ার দেশ গুলিতে যুদ্ধ করতে আসবেই.