ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার বিশ্বে সমার্থক প্রতিক্রিয়া তৈরী করে নি. নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে লন্ডন ও প্যারিসের জোর করে কাজ আদায়ের নীতি ইউরোপীয় সঙ্ঘেই বাস্তবে ফাটল তৈরী করেছে.

সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র না দেওয়ার বিষয়ে এক সবচেয়ে প্রতিবাদী দেশ অস্ট্রিয়া. এই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী যদি সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র দেওয়া শুরু করা হয়, তবে তাঁরা গোলান হাইটস এলাকায় রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তি রক্ষা বাহিনীর গোষ্ঠী থেকে স্বেচ্ছায় আলাদা হয়ে যাবেন. ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত তা সিরিয়ার একাংশ হিসাবেই ছিল. এক পক্ষকে বিরোধের সময়ে সাহায্যের অর্থ হল অন্য পক্ষের জন্য নিজেদের সৈন্য বাহিনীকে লক্ষ্য পর্যবসিত করা – অস্ট্রিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মিকায়েল স্পিন্ডেলেগ্গের এই কথা উল্লেখ করে বলেছেন:

“ইউরোপীয় সঙ্ঘের উচিত্ হবে না এই সীমানা পার হওয়ার, আমরা কখনোই কোন বিরোধে কোন পক্ষের হয়ে অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সমর্থন জানাই নি. আমরা শান্তির সমাজ, আর আমরা চাইব যে, আমরা যেন শান্তির পক্ষে থাকা সমাজ হয়েই থাকি”.

মস্কোর এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ছিল অনুমান যোগ্য, নেতিবাচক ও কঠোর. রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানিয়েছেন যে, রাশিয়া সিরিয়াতে প্রতিরক্ষা মূলক জেনিথ রকেট কমপ্লেক্স এস – ৩০০ সরবরাহের চুক্তি পালন করতে তৈরী রয়েছে. তিনি এই ধরনের সরবরাহকে বলেছেন “স্থিতিশীল করার কারণ”, যা কূটনীতিবিদের কথামতো, কিছু “মাথা গরম লোককে, সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরা নিয়ে চিন্তা করার সময়ে এই বিরোধকে বিদেশী শক্তির অনুপ্রবেশে একটা আন্তর্জাতিক চরিত্র দান করা থেকে নিরস্ত করতে সক্ষম হবে”.

রিয়াবকভ সরাসরি উল্লেখ করেছেন যে, মস্কো এস- ৩০০ সরবরাহ করে ২০১১ সালের লিবিয়া কাণ্ডের পুনরাবৃত্তি আটকাতে চায়. তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটো জোট এই দেশের আকাশকে উড়ান মুক্ত এলাকা বলে ঘোষণা করে বোমা বর্ষণ করতে শুরু করেছিল ও মুহম্মর গাদ্দাফির বিরোধী গোষ্ঠীদের সমর্থন করেছিল এই দিয়ে.

সিরিয়ার বিরোধীদের অস্ত্র দেওয়া নিয়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘের নিষেধাজ্ঞা বহাল বিষয়ে অমত সিরিয়াতে সশস্ত্র যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে শক্তি প্রয়োগকে নষ্ট করছে, বলে উল্লেখ করে এক সাংবাদিক সম্মেলনে সের্গেই রিয়াবকভ বলেছেন:

“এটা একটা দুঃখজনক পদক্ষেপ, যা আমাদের ইউরোপীয় সহকর্মীদের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দ্বিচারিতার প্রকাশ মাত্র. এক দিকে রক্তক্ষয় বন্ধ করার জন্য ঘোষণা করে আর অন্য দিকে সিরিয়াতে অস্ত্র দিয়ে ভর্তি করে দিয়ে চলা যেতে পারে না. ইউরোপীয় সঙ্ঘ বাস্তবে এই বিরোধের আগুনেই ঘৃতাহুতি করতে চলেছে ও সিরিয়ার রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের জন্য আয়োজিত সম্মেলনের ফলপ্রসূ হওয়ার পথকেই সংকীর্ণ করে দিচ্ছে, যা সাফল্য নিয়ে তাদেরই নীতিগত ভাবে উত্সাহী থাকা উচিত্”.

এই ধরনের ঘটনা পরম্পরা যে করে দেখা হচ্ছে, তা ২৭শে মে সিরিয়াতে আমেরিকার রিপাব্লিকান দলের সেনেট সদস্য জন ম্যাকেইনের সফরই প্রমাণ দিয়েছিল. সে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্ত পার হয়ে তথাকথিত সিরিয়ার স্বাধীন সামরিক বাহিনীর নেতা জেনারেল সলিম ইদ্রিশের সঙ্গে দেখা করেছে. সিরিয়ার আকাশ উড়ান মুক্ত করার বিষয়ে ম্যাকেইন একজন সবচেয়ে আগ্রহী পক্ষ ও সেই চেয়েছে জঙ্গীদের হাতে ভারী অস্ত্র তুলে দিতে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি মুখপাত্র জে কার্নি যেমন ঘোষণাই করেছেন যে, প্রশাসন ম্যাকেইন যে সিরিয়া যাচ্ছে, তা জানত ও অপেক্ষা করে রয়েছে ফলাফল জানার জন্য তার সঙ্গে দেখা করার.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সিরিয়াতে সামরিক অপারেশন তৈরী করার বিষয়ে কানাঘুষো ওয়াশিংটনে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে. পেন্টাগনে এমনকি ২৮শে মে “নিউজ উইক” পত্রিকায় বের হওয়া খবরকে অস্বীকার করতে হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, এই সামরিক দপ্তরে সক্রিয় ভাবে পরিকল্পনা চলছে আক্রমণের. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জর্জ লিটল ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়াতে সামরিক অনুপ্রবেশ করার পরিকল্পনা নিয়ে কোন রকমের নতুন সক্রিয়তা করা হচ্ছে না. বহু লোকেরই এই আগে থেকেই নেতিবাচক ঘোষণা শুনে সন্দেহ হয়েছে.