বিশ্বে রাশিয়ার লোকরাই নেতৃস্থানীয় জায়গায় রয়েছেন, যাঁরা নিজেদের পেশাদারীত্ব বাড়ানোর জন্য তৈরী – এই রকমের একটা ফল প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক ভাবে কর্ম সংস্থান কোম্পানী কেল্লী সার্ভিসেস. কর্মীদের ক্যারিয়ার উন্নতির জন্য নতুন কিছু শেখায় আগ্রহ উন্নতিশীল অর্থনীতির জন্য খুবই চরিত্র উপযোগী, এই রকমই উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা. তাঁরাই বিশেষ করে বলেছেন যে, নিজেকে উন্নত করার তৃষ্ণা অর্থনীতিতে একটি মুখ্য উদ্দীপক হতে পারে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্যই.

এই মত গ্রহণে অংশ নিয়েছে ৩২টি দেশ থেকে ১লক্ষ ২০ হাজার মানুষ, আর তাদের মধ্যে ছিলেন পাঁচ হাজারেরও বেশী রুশ মানুষ. দেখা গিয়েছে যে, শতকরা ৯২ ভাগ রুশ উত্তর দাতা মনে করেন যে, নতুন জ্ঞান তাঁদের ক্যারিয়ারের উন্নতির কাজে লাগবে. রাশিয়ার ঠিক পরেই এই তালিকায় রয়েছে থাইল্যান্ড, তারপরে মেক্সিকো ও ব্রাজিল. সব মিলিয়ে প্রথম দশটি দেশের তালিকায় শুধু উন্নতিশীল ও তথাকথিত নব্য শিল্প সমৃদ্ধ দেশ গুলিই রয়েছে. এটা একটা নিয়ম মেনেই হয়েছে বলে মনে করে কেল্লী সার্ভিসেস কোম্পানীর প্রতিনিধি দিমিত্রি কোসভ বলেছেন:

“দেশের ভিতরে এই ধরনের অর্থনীতি থাকলে লোকে বেশী সক্রিয়, জনগন চাইছেন এখানে ও এখনই রোজগার করতে, তাঁরা নিজেদের ক্যারিয়ার তৈরী করতে চাইছেন ও আরও চাইছেন এই ক্যারিয়ার নিজেরাই নিয়ন্ত্রণ করতে. এই ক্যারিয়ার নিয়ন্ত্রণের একটা উপায় হিসাবে তারা বাড়তি ট্রেনিংকে দেখছেন, নিজেদের অভ্যাস গুলিকেই আরও নিখুঁত করার জন্য. একই ভাবে এই ধরনের লোকের সংখ্যা অনেক বেশী তাই উন্নতিশীল দেশ গুলিতে, কারণ উন্নত দেশ গুলিতে এই রকম লোক কমই”.

বেশীর ভাগ রুশ উত্তরদাতা চাইছেন প্রশিক্ষণ নিতে, যাতে নিজেদের বর্তমান কাজের জায়গাতেই আরও বড় কোনও পদ পাওয়া যায়, কোন একটা বেশী বেতন সহ কাজে যোগ দিতে অথবা নিজেদের কাজ কর্মের ক্ষেত্রই পাল্টাতে. প্রায় প্রত্যেক চতুর্থ উত্তরদাতা রুশ লোকই নিজের ব্যক্তিগত ব্যবসার তৈরীর সঙ্গে নতুন প্রশিক্ষণ বিষয়কে জুড়তে চান, তাই দিমিত্রি কোসভ বলেছেন:

“কোন সন্দেহ নেই যে, এটা বেশ উঁচু সূচক. আমরা আমাদের করা নানা রকমের প্রশ্নোত্তরের ব্যবস্থা থেকে দেখতে পেয়েছি যে, রাশিয়ার কোম্পানী গুলির কর্মীরা বিশ্বের অন্যান্য জায়গার লোকদের সঙ্গে আলাদা এই কারণে যে, তাঁরা সক্রিয়ভাবে নিজেদের অবস্থানে থাকেন ও নিজেদের ব্যবসা শুরু করতে চান. এটা ঠিক যে, এখানে দেখা দরকার ইচ্ছা থেকে সেটা প্রকৃত অর্থে বাস্তবায়ন করার মধ্যে নির্দিষ্ট দূরত্ব রয়েছে আর মোটেও সকলেই, যাঁদের এই ধরনের ইচ্ছা রয়েছে, তাঁরা বাস্তবে নিজেদের ব্যবসা খুলতে পারবেন না”.

বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার লোকদের নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর দিকে লক্ষ্য আবার সেই বিষয়ের সঙ্গেও খানিকটা জড়িত যে, রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা সব সময়ে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে কাজ করার উপযুক্ত সম্পূর্ণ মানের শিক্ষা দিতে পারছে না. নিজেদের পেশাদারী দক্ষতা বাড়ানোর জন্য জনগনের ইচ্ছা – এটা ইতিবাচক প্রবণতা. প্রসঙ্গতঃ, এটা শুধুমাত্র কোম্পানী গুলির জন্যই মূল্যবান নয়, বরং রাষ্ট্রের জন্যও, যাদের উচিত্ সব রকম ভাবেই এই প্রবণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া, এই কথা উল্লেখ করে সমাজ বিদ নাতালিয়া বনদারেঙ্কো বলেছেন:

“রাষ্ট্রের এই ক্ষেত্রে ভূমিকা হল যাতে লোকে উদ্দীপিত হন, কারণ পেশাদারীত্বের মূলধন, এটা সামাজিক মূলধন – এটা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সমাজেরই মঙ্গল, যা অর্থনৈতিক প্রগতির কারণ... যদি আমাদের দেশে আধুনিকীকরণের কাজকে সামনে রাখা হয়ে তাকে, তবে রাষ্ট্রের প্রয়োজন হবে এটাকে প্রশ্রয় দেওয়া, তাতে কর্ম সংস্থান যে করে দিয়েছে, সে ছাড়াও, কর্মচারীদের জন্যেও, যারা নিজেদের রোজগারের অর্থ শুধু ভোগের জন্য খরচ না করে যেন নিজেদের কর্ম ক্ষেত্রের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের পিছনে খরচ করেন”.

এই প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রের কাজ নয় শুধু সেই সব মানুষদের সমর্থন করা, যাঁরা নতুন জ্ঞান লাভ করতে যাচ্ছেন, বরং এমন করা উচিত্, যাতে পেশাদার কর্মীরা দেশ ছেড়ে যাওয়াতে কোন আগ্রহ বোধ না করেন.