ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা শেষ হতে চলেছে ৩১শে মে. ২৭শে মে ব্রাসেলস শহরে শুরু হওয়া ইউরোপীয় সঙ্ঘের পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে যে বৈঠক শুরু হয়ে বহু ঘন্টা ধরে চলার পরে, পরের দিন অর্থাত্ আজ ভোরে শেষ হয়েছে, তার প্রধান ফল হয়েছে শুধু এটাই. সামরিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিরুদ্ধে বিতর্ক এতই প্রবল ছিল যে, মন্ত্রীরা যেমন অস্ত্র সরবরাহের পক্ষে, তেমনই বিপক্ষেও কোন রকমের সমঝোতায় পৌঁছতে পারেন নি. আর এবারে নিষেধাজ্ঞার নিয়ম স্বয়ংক্রিয় ভাবেই শেষ হয়ে যাবে.

সরকারি ভাবে ১লা জুন থেকেই ইউরোপের যে কোনও দেশ সিরিয়ার বিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহ করতেই পারে. কিন্তু বাস্তবে গ্রেট ব্রিটেন ও ফ্রান্স ছাড়া ইউরোপে কেউই এটা করতে প্রস্তুত নন. ইউরোপের মন্ত্রীরা সিরিয়ার সঙ্কট নিরসনের জন্য নতুন সম্মেলনের আহ্বানকে সমর্থন করেছেন আর আহ্বান করেছেন আগষ্ট মাসের আগে বিরোধীদের অস্ত্র সরবরাহ শুরু না করতে, যাতে জেনেভা – ২ সম্মেলনের কোন ফল দেওয়ার সুযোগ থাকে. কিন্তু এটা বাধ্যতা মূলক ভাবে এই বৈঠকের কোনও দলিলেই লেখা হয় নি. শুধু সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়েছে সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে আরও এক বছরের জন্য বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করার.

সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্যাকেজ বহাল করা হয়েছে ২০১১ সালের গরম কাল থেকে. সিরিয়াতে বিরোধী পক্ষকে অস্ত্র রসদ সরবরাহ করা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা বড় কোনও ফল দেয় নি, কারণ এখানে বহু দিন ধরেই অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে বেআইনি ভাবে, এই রকমের বিশ্বাস নিয়ে নিকটপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি বলেছেন:

“নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই বিরোধীদের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে. তা যথেষ্ট আধুনিক ব্যবস্থা দেওয়া হয়েছে. আর সিরিয়ার সরকারি ফৌজের কাছে সাঁজোয়া গাড়ী ও বিমান বহরের বিষয়ে যে বাড়তি ক্ষমতা রয়েছে- এটা খুবই স্বাভাবিক. যে কোন অন্য ধরনের অস্ত্রই পশ্চিম থেকে বিরোধী দের দেওয়া হয়েছে”.

নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার বিষয়ে একজন প্রধান উদ্যোগী ব্যক্তি গ্রেট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ, তিনি ঘোষণা করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়ে আসার সাথে সিরিয়ার সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনার সময়ও শেষ হয়ে আসছে. এর সঙ্গে, প্রসঙ্গতঃ, তাঁর বেশ কিছু সংরক্ষণশীল দলের সহকর্মীই একমত হতে পারেন নি. যেমন, পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষের সদস্য জন ব্যারন ঘোষণা করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা তুলে দেওয়া – এটা ঐতিহাসিক পরিমাপেই একটা ভুল, যা নিকটপ্রাচ্যে বিরোধের পরিসরকেই প্রসারিত করতে পারে.

এই মতের সঙ্গে বহু রুশী বিশেষজ্ঞই একমত হয়েছেন. এই এলাকা অস্ত্র দিয়ে প্লাবিত করে তোলা – এটা শান্তি পূর্ণ সমাধানের জন্য খুবই সন্দেহ জনক পথ, এই কথাই মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর ইউরোপ ইনস্টিটিউটের জার্মান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান ভ্লাদিস্লাভ বেলভ বলেছেন:

“অস্ত্র সরবরাহ নিয়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার – এটা কোন বিরোধ সমাধানের পথ নয়, বরং তা আরও উস্কে দেওয়ারই পথ. এখনই এই যুদ্ধের সমস্ত পক্ষ কোন না কোনও পথে অস্ত্র পাচ্ছে. সেই সমস্ত গোষ্ঠী, যারা আসাদের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারা খুব ভাল করেই অস্ত্র সজ্জিত, আর তাদের সবচেয়ে আধুনিক সমরাস্ত্রও রয়েছে. নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া শুধু বিরোধকেই বাড়িয়ে তুলবে ও আরও বেশী করেই মানুষের ক্ষয় ক্ষতি করাবে”.

ইউরোপীয় সঙ্ঘের মন্ত্রীরা ১লা আগষ্টের আগে সিরিয়ার প্রশ্ন নিয়ে আলোচনায় ফেরার বিষয়ে সমঝোতা করেছেন.তাও এখনও একটা আশা রয়েছে যে, পরিকল্পিত জেনেভা সম্মেলন দেশে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকে কাছে নিয়ে আসতে পারে.