ভারত সরকার দেশে ধর্ষণের ভয়ে বিদেশ থেকে মহিলা পর্যটক আসা কমে যাওয়াতে চিন্তিত. দেশের মন্ত্রীসভা থেকে ইজিপ্টে নথিভুক্ত সাইট bikyanews.com কে উচ্চপদস্থ সূত্র খবর দিয়েছেন বলে সাইটে লেখা হয়েছে. সূত্রের খবরে প্রকাশ যে, ভারতের প্রশাসন পরিকল্পনা করেছে বিদেশ থেকে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করার. এই বিষয়ে আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ তাঁর মন্তব্য লিখেছেন.

আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ভারতে মহিলাদের প্রতি অপরাধ নিয়ে বহু প্রচার করা হয়েছে, আর তা সবচেয়ে বেশী করে করা হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে রাজধানী নয়াদিল্লী শহরে রাতে বাসের ভিতরে এক যুবতীকে গণ ধর্ষণ করার পরে. এই ট্র্যাজেডি আন্তর্জাতিক ভাবে প্রতিধ্বনির সৃষ্টি করেছিল ও তার পরে ঘটে যাওয়া একই ধরনের কয়েকটি অপরাধ, যাতে বিদেশী মেয়েদের উপরেও অত্যাচার করা হয়েছে, তা প্রচারের আলোতে উঠে এসেছিল. এর পরে প্রায় তিন মাসের বেশী সময় কেটে গিয়েছে, কিন্তু অবস্থার কোনও পরিবর্তন হয় নি. দিল্লীতে গণ ধর্ষণে অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তি হওয়াও অন্যান্য অপরাধকে বন্ধ করতে পারে নি. মহিলাদের প্রতি অত্যাচারের খবর, তার মধ্যে বিদেশী মেয়েদের প্রতি এখনও নিয়মিত পাওয়া যাচ্ছে.

মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে মধ্য প্রদেশ রাজ্যে সুইজারল্যান্ডের এক ৩৯ বছর বয়সী মহিলা, তাঁর স্বামীর সঙ্গে সাইকেলে চেপে ভারত ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন, তাঁকে সেখানে একদল দুষ্কৃতী বলাত্কার করেছিল. এর কিছু দিন পরেই আগ্রা শহরে, যেখানে বিশ্ব খ্যাত তাজমহল রয়েছে, সেখানে এক ব্রিটিশ মেয়েকে তার হোটেলের ঘর থেকে ধর্ষকামী পুরুষদের হাত থেকে বাঁচার জন্য জানলা দিয়ে লাফ দিতে বাধ্য হতে হয়েছিল, পরে তাকে স্বাস্থ্য ফেরাতে হাসপাতালে থাকতে হয়েছিল. মার্চ মাসে ভারতের উত্তরে ঋষিকেশ শহরে এক ২৩ বছর বয়সী রুশী মেয়ে পর্যটক আলেকসান্দ্রা কাপিতোনভা স্থানীয় দুর্বৃত্তের হাতে পড়েছিল, যে তাকে দ্রষ্টব্য স্থান দেখানোর নাম করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণে উদ্যত হয়েছিল, মেয়েটি কোন রকমে পালিয়ে বাঁচে, অপরাধী তার মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ সব কেড়ে নিয়েছে.

রাজনৈতিক প্রযুক্তি কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই মাকারকিন এই প্রসঙ্গে বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, পর্যটন শিল্প নির্ভর করবে, ভারত সরকার কতখানি ফলপ্রসূ ভাবে এই ধরনের অপরাধের মোকাবিলা করতে পারবে, তার উপরে. যদি এই ধরনের স্ক্যান্ডাল তৈরী করার মতো খবর আরও আসে, এই ধরনের ভয়ঙ্কর ঘটনা যদি আরও ঘটে, তবে এটা অবশ্যই ট্যুরিস্টদের উপরে খুবই নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে”.

গত বছরে ভারতে গিয়েছিলেন ৬৬ লক্ষ বিদেশী পর্যটক. পর্যটন শিল্প থেকে আয় হয়েছিল প্রায় দুশো কোটি ডলার. তার পরে থেকে ভারতে ট্যুরিস্টদের প্রবাহ অনেকটাই কমে গিয়েছে, দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকা ভারতের সংযুক্ত শিল্প বাণিজ্য পরিষদ অ্যাস্সোচ্যাম সংস্থার উল্লেখ করে জানিয়েছে যে, ভারতে মহিলা পর্যটকদের সংখ্যা গত এক বছরে শতকরা ৩৫ ভাগ কমেছে. অনেকেই ভারতের জায়গায়, বর্তমানে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও অন্যান্য দেশ বেছে নিয়েছেন. অনেক লোকের উপরে সংবাদ মাধ্যমে বের হওয়া তথ্য প্রভাব ফেলেছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, ভারতে প্রতি কুড়ি মিনিটে একটি ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে.

এরই মধ্যে ভারত পরিকল্পনা করেছে ২০১৬ সালে শতকরা ১২ ভাগ পর্যটক সংখ্যা বাড়িয়ে তুলতে আর পর্যটন থেকে আয় দ্বিগুণ করার. ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সমস্ত রাজ্য ও সংযুক্ত এলাকায় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বিদেশী ও দেশের পর্যটকদের সুরক্ষার জন্য আলাদা করে পুলিশ বাহিনী তৈরী করার.

কিন্তু যদি এই ব্যবস্থা যথেষ্ট ফলপ্রসূ না হয় আর বর্তমানের প্রবণতা বজায় থাকে, তবে এই সব পরিকল্পনাই শেষ অবধি কাগজেই রয়ে যাবে.