“গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের উপরে আক্রমণ” বলে নাম দিয়েছেন ছত্তিশগড় রাজ্যে নকশাল জঙ্গীদের আক্রমণকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ ও কংগ্রেস দলের সভাপতি সোনিয়া গান্ধী. এই আক্রমণের ফলে ছত্তিশগড় রাজ্যে বস্তার অঞ্চলে কম করে হলেও ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে ও ২৪ জন আহত হয়েছেন. নিহতদের মধ্যে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলের সভাপতি মহেন্দ্র কর্মা. তিনি সক্রিয়ভাবে মাওবাদী বিরোধী প্রচার করেছিলেন ও নিজে জঙ্গীদের বিরুদ্ধে বহু অপারেশনের পর্যবেক্ষক ছিলেন. অপহৃত হয়েছিলেন মাওবাদীদের হাতে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের আঞ্চলিক দপ্তরের সভাপতি নন্দ কুমার পটেল ও তাঁর পুত্র দীনেশ. আহত হয়েছিলেন বিদ্যাচরণ শুক্ল, যিনি একসময়ে বেশ কয়েকটি মন্ত্রী পদে আসীন ছিলেন. আজ সকালে পটেল ও তাঁর পুত্রের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ পাওয়া গিয়েছে বস্তারের জিরাম উপত্যকা থেকে.

এই জঙ্গী অধ্যুষিত এলাকাতে ভারত সরকার বাড়তি বাহিনী পাঠাচ্ছে. মাওবাদীদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য দেওয়া হচ্ছে হেলিকপ্টার ও আধুনিক অস্ত্র. কিন্তু এই সব ব্যবস্থা, যা ছত্তিশগড় রাজ্যে সদ্য ঘটে যাওয়া ঘটনা দেখিয়েছে, তা আশানুরূপ ফল দিচ্ছে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও ভারতবিদ্ ফেলিক্স ইউরলভ বলেছেন:

“এই সমস্যা সমাধান হওয়া দরকার একই সঙ্গে, তার মধ্যে দেশের সবচেয়ে গরীব লোকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ারও দরকার রয়েছে. এটা ঠিক যে, প্রশাসন বিদ্রোহীদের দমনের জন্য প্রভূত শক্তি রাখে. কিন্তু শুধু শক্তি প্রয়োগ করেই সমস্যার সমাধান হবে না, আর তার পরিণতি হতে পারে খুবই সঙ্গীণ. ফলপ্রসূ সামাজিক- অর্থনৈতিক ব্যবস্থা না নিয়ে আমি এই পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ দেখতে পাচ্ছি না”.

নকশাল জঙ্গীরা ১৯৬৭ সাল থেকে সরকার বিরোধী লড়াই করছে. নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে তারা দেখেছে ভারতের মধ্যে স্বাধীন এলাকা তৈরী করা, যেখানে প্রশাসন থাকবে কমিউনিস্ট মতবাদে বিশ্বাসীদের হাতে. ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের খবর অনুযায়ী নকশাল জঙ্গীরা ভারতের ২৮টির মধ্যে ২০টি রাজ্যে সক্রিয়. ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংহ তাদের কাজকর্মকে দেশের নিরাপত্তার বিষয়ে সবচেয়ে বড় হুমকি বলেছেন.

বিগত বছর গুলিতে কিছু সময় ধরে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গলের জনপ্রিয়তা ক্রমাগত কমছে ও ক্ষমতাসীন জোটও সমর্থন হারাচ্ছে. কেন্দ্রীয় সরকারকে আরও নিয়মিত ভাবে অভিযোগ করা হচ্ছে তাদের কাজের ফল না হওয়া আর দেশের সামনে থাকা সমস্যা সমাধান করতে অক্ষম বলেই.

এই সবই হচ্ছে ক্ষমতাসীন জোটের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক দল গুলির সমর্থন তুলে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে, যারা বিগত বছর গুলিতে অভূতপূর্ব শক্তি অর্জন করতে পেরেছে. গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার থেকে বের হয়ে গিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস.তার পরে দেশের দুটি তামিল দলের একটি – ডিএমকে.

কেন্দ্রে নেতৃস্থানীয় দলের জনপ্রিয়তা হারানোর সঙ্গে আঞ্চলিক দলের প্রভূত শক্তি অর্জন এক বিপজ্জনক প্রবণতার সাক্ষী হয়েছে: ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার আরও বেশী করেই দেখিয়ে দিচ্ছে দেশ চালানোর বিষয়ে ফলের অভাব, যখন সিদ্ধান্ত নেওয়া কেন্দ্র দেশের কেন্দ্র থেকে অঞ্চলের হাতে চলে যাচ্ছে.

বস্তার এলাকায় হামলা আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে যে, সরকার খুবই খারাপ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে, আর তাদের জঙ্গী দমনের উপরে বাজী ধরা, যা দেশের বর্তমান অবস্থার উপরেই খুবই শক্তিশালী অসন্তোষের পরিস্থিতিতে হয়েছে, তাতে শুধু শক্তি প্রয়োগ করলেই কাজ হবে না. এটা ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অবস্থানের উপরেই এক শক্তিশালী আঘাত, বিশেষ করে সেই বিষয়কে হিসাবের মধ্যে আনলে যে, এই বছরের শেষের আগেই ছত্তিশগড় রাজ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নির্বাচন হতে চলেছে.