রাশিয়ার নতুন প্রজন্মের বাহকরকেট আঙ্গারা এই মাসের শেষদিকে রওনা দেবে ভাবী উত্ক্ষেপণের জায়গায়. এখন উত্পাদক খ্রুনিচেভ সেন্টারে তার ধাপগুলি বাক্সবন্দী করে তোলা হচ্ছে রেলের ওয়াগনে. ২০১৪ সালের জন্য ধার্য করা আছে এর প্রথম উত্ক্ষেপণ. রুশী মহাকাশবিদ্যার জন্য নতুন বিস্তৃত সম্ভাবনা সৃস্টিকারী প্রকল্পটি তার চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করতে চলেছে.

    আঙ্গারা চালু হলে রাশিয়া মহাকাশে সমস্ত রকমের মহাজাগতিক যন্ত্র পাঠাতে সক্ষম হবে. বর্তমানে কার্যরত বাহকরকেটগুলির তুলনায় আঙ্গারার সামর্থ্য কোথায় বেশি - সেই প্রসঙ্গে বলছেন খ্রুনিচেভ সেন্টারের অন্তর্গত সাল্যুত্ নামক ডিজাইন ব্যুরোর প্রধান ডিজাইনার ইউরি বাখভালভ.-

     আঙ্গারার সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে তার বহুমুখীনতা. আমরা বিভিন্ন শ্রেণির একসারি বাহকরকেট নির্মান করতে পারবো, যেগুলি দুই থেকে শুরু করে পঞ্চাশ টন পর্যন্ত মালপত্র পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে দিতে পারবে. আঙ্গারা হবে পরিপ্রেক্ষিতসমৃদ্ধ, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন শ্রেণির বাহকরকেটের সমাহার - হাল্কা, মাঝারি এবং ভারী. তাদের ইঞ্জিনগুলি অভিন্ন কার্যনীতি অনুসরণক্ষম অক্সি-কেরোসিনে চলবে. মুখ্য বৈশিষ্ট্য হবে এই, যে রকেটবাহকগুলি নির্মান করা হবে দুই ধাপের মড্যিউল দিয়ে. প্রথম ধাপে একটি মড্যিউল থাকলে সেটি হবে হালকা শ্রেণির, দুটো থাকলে মাঝারি আর ভারী রকেটবাহকের প্রথম ধাপে তিনটি মড্যিউল থাকবে. উত্পাদক কারখানাটির সহকারী আধিকারিক ভ্লাদিমির নেস্তেরভ জানাচ্ছেন বর্তমানে ব্যবহৃত  বাহকরকেটগুলির তুলনায় কোথায় আঙ্গারা এগিয়ে.-

     এগুলি সম্পর্কিত যেমন উপাদানের সঙ্গে তেমনই এক্কেবারে নতুন প্রযুক্তিগত, নির্মানগত ও বৈজ্ঞানিক সমাধানের সাথে. যেহেতু নতুন উপাদান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, তাই ওজনের নিরিখে আঙ্গারা এখনকার বাহকরকেটগুলির থেকে উত্কর্ষতর. এখানে গতি ও অভিমুখ পরিচালন ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অন্য গোত্রের - এখানে থাকবে ককপিটের মতো অত্যাধুনিক ডিজিট্যাল কম্পিউটেশন. রীতিমতো উত্কর্ষসাধন করা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার.

     আঙ্গারা প্রথমদিকে ছাড়া হবে প্লিসেত্স্ক মহাকাশ উড়ান বন্দর থেকে. সেগুলি শুধু রাষ্ট্রীয় ফরমায়েশ পালন করবে, মানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক এবং রসকসমসের মালপত্র পৃথিবীর কক্ষপথে পৌঁছে দেবে. প্লিসেত্স্কে উত্ক্ষেপণ মঞ্চ এখন নির্মানের শেষ পর্যায়ে, সাজসরঞ্জামের চূড়ান্ত মন্তাজ সারা হচ্ছে. সর্ববিধ নিরীক্ষার জন্য নভেম্বর মাসে ঐ মঞ্চ প্রস্তুত হয়ে যাওয়ার কথা. দূরপ্রাচ্যে ভস্তোচনিতেও নতুন মহাকাশ উড়ান বন্দর নির্মানের কাজ জোরকদমে এগোচ্ছে. সেখান থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে আঙ্গারা বাহকরকেট উত্ক্ষেপ করার পরিকল্পনা রয়েছে.