চীনা ও রুশী অর্থ ইউরোপের বিলাসবহুল পণ্যসামগ্রীর বাজারকে উদ্ধার করবে. আজ কয়েক বছর ধরেই ইউরোপের আভ্যন্তরীণ বাজারে ক্রমবর্ধমান চাহিদাহ্রাসের ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে ব্রিক্সের অন্তর্ভুক্ত দেশগুলির নাগরিকরা. বিত্তশালী ক্রেতাদের সুবিধার্থে ইউরোপের দক্ষিণপ্রান্তের দেশগুলির বুটিকগুলোতে ঐতিহ্যগত সিয়েস্তার(দিবানিদ্রার)রেওয়াজ উঠেই গেছে. সেখানকার সেলস-গার্লরা আজকাল শুধু ক্রেতাদের রুচি সম্পর্কেই অবহিত নয়, তাদের ভাষাও তারা আয়ত্ত করেছে.

           “যদি প্রত্যেক চীনা নিয়মিত কয়েক গ্লাস করে স্প্যানিয়ার্ড ওয়াইন(সুরা)পান করতো, তাহলে তারা স্পেনের সুরাশিল্পকে জিইয়ে রাখতে পারতো”. চীনের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী লি খাছিয়ানের একসময়ে করা ঐ উক্তিটি আজকের দিনে শুধুমাত্র সুরাশিল্প বা শুধুমাত্র স্পেনের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়. বহুলাংশে চীনা লগ্নির সুবাদেই ইউরো অঞ্চলের অর্থনীতির এখনো সলিলসমাধি ঘটেনি. সর্বোচ্চমানের পণ্যসামগ্রীর বাজারের জন্যেও এই কথাটা খাটে. এবং বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করছেন, যে এই দৌড়ে রুশবাসীরা চীনাদের সাথে পাল্লা দিতে শুরু করেছে. শুধুমাত্র গতবছরেই তারা ইউরোপের বুটিকগুলোতে কয়েকশো কোটি ডলার উড়িয়েছে – বলছেন অর্থনীতি বিশারদ আলেক্সান্দ্রা লজোভায়া ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে.-

           ২০১১ সালে রুশবাসীরা ১১০ কোটি ইউরোর ক্রয় রসিদ সীমান্তে দাখিল করেছে উদ্বৃত্ত মূল্য কর(ভ্যাট)ফেরত পাওয়ার জন্য, ২০১২ সালে ঐ সংখ্যাটা ১৫০ কোটি ছাড়িয়ে গেছে. উপরন্তু অনেক ক্রেতাই উদ্বৃত্ত মূল্য কর ফেরত পাওয়ার জন্য ক্রয় রসিদ দাখিল করে না. মোটামুটি অর্ধেক লোক করে. তার মানে বাস্তবে রুশবাসীরা গতবছর ৩০০ কোটি ইউরো মূল্যের মহার্ঘ্যদ্রব্য ক্রয় করেছে ইউরোপে.

           ‘বেইন এ্যান্ড কোম্পানি’র তথ্য অনুসারে রুশবাসীরা গতবছর বিদেশে মহার্ঘ্যদ্রব্যের পেছনে ৫০০ কোটি ইউরোরও বেশি খরচা করেছে. তবে অঙ্কটাই প্রধান নয়, আসল হচ্ছে প্রবণতাটা – বলছেন সমাজতাত্ত্বিক আন্দ্রেই মিলেখিন. –

           গত কয়েক বছর ধরে আমরা বিলাসী সামগ্রী সরবরাহকারীদের সাথে কাজ করছি. সংখ্যা এই সাক্ষ্য দেয়, যে মোট খরচের পরিমানের দিক থেকে চীনারা অন্য সকলের চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকলেও ক্রেতাদের গড় রসিদ পিছু অঙ্ক অনুযায়ী, রুশবাসীরা এখন ইউরোপে ও আরব দুনিয়ায় সবচেয়ে কাঙ্খিত ক্রেতা.

           চীনা ও রুশী ভোগ্যারা এমন সক্রিয়তা প্রদর্শন করলেও খুব শীঘ্রই ইউরোপীয় বিলাস সামগ্রীর বাজার বড়সড় ঝাঁকুনি খেতে চলেছে. শুধুমাত্র বিক্রয়ের পরিমানের ক্রমবর্ধমান হ্রাসের কথাই হচ্ছে না, যা একটানা আর্থিক মন্দার পরিস্থিতিতে নিম্নমুখী গতি অব্যাহত রেখেছে. জানতে পারা গেছে, যে বিশ্বজুড়ে বিলাস সামগ্রী উত্পাদন শিল্পের অন্যতম প্রধান হোতা ‘এলভিএমএইচ’ কনসার্ন গোপনে তার মুখ্য প্রতিদ্বন্দী ‘হারমেস’ কোম্পানির শেয়ার কিনছে. আজ ‘এলভিএমএইচ’ ৬০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডকে নিজের ছত্রছায়ায় জড়ো করেছে, যাদের ব্যবসায়িক মূল্য ৭০০০ কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে চলেছে. এই কনসার্নের অতিসক্রিয়তার কি প্রভাব বাজার ও তার বিবর্তনের ওপর পড়বে, সেই সম্পর্কে কোনো পূর্বাভাস দেওয়া থেকে আপাততঃ বিশেষজ্ঞরা বিরত রয়েছেন. কিন্তু সংকটের বাতাবরনে জুড়ে যাওয়ার ও গ্রাস করার প্রক্রিয়াগুলি যে রীতিমতো নাটকীয় হবে, তা আডকেই বোঝা যাচ্ছে.