কলকাতার ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে সংরক্ষিত ভাসিলি ভেরেশাগিন অঙ্কিত '১৮৭৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলসের জয়পুরে প্রবেশ' ছবিটিকে অবিলম্বে পুনরুদ্ধার করা একান্তই প্রয়োজন. কলকাতায় রাশিয়ার কনসাল জেনারেল ইরিনা বাশকিরোভা 'রেডিও রাশিয়া'কে দেওয়া সাক্ষাতকারে এই কথা বলেছেন. তিনি উল্লেখ করেছেন, যে গ্যালারিতে ছবিটি টাঙানো রয়েছে, সেখানে বাতানুকুল ব্যবস্থা নেই. গ্রীস্মকালে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়, বাতাসের আর্দ্রতা ৯০%. ধ্বংসাত্মকভাবে এর কুপ্রভাব পড়ছে ছবিটির ওপর.

     ছবিটির দশা বহুগিন ধরেই আমাদের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে - বলছেন ইরিনা বাশকিরোভা. আমি ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের সটিব ও ব্যবস্থাপক শাকিল আহমেদের সাথে দেখা করেছিলাম. তিনি সংগ্রহশালার প্রধান পুনরুদ্ধার কর্তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন. আমাদের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে. বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় ইতিহাসের একটি ঘটনাকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা ভাসিলি ভেরেশাগিনের ছবিটির যেমন শিল্পগত, তেমনই ঐতিহাসিক মূল্য অনস্বীকার্য. এর মূল্য যেমন ভারতের জন্য, তেমনই রাশিয়ার জন্য. তাই আমরা যৌথ উদ্যোগে এই ছবি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ করার সংকল্প করেছি.

    প্রখ্যাত রুশী চিত্রশিল্পী, যুদ্ধের দৃশ্য বিশারদ, পরিব্রাজক ভাসিলি ভেরেশাগিন উনবিংশ শতাব্দীর আটের দশকে দুই বার ভারতে গিয়েছিলেন. তিনি তখন বোম্বে, দিল্লি, আগ্রা, জয়পুর, শ্রীনগর ভ্রমণ করেছিলেন. সেই সময় ভবিষ্যতে ছবির রূপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে ভেরেশাগিন প্রায় ১৫০টি স্কেচ ও খসড়া বানিয়েছিলেন. তাঁর ভারতীয় সৃষ্টিপর্বে আঁকা ছবিগুলির মধ্যে অবিস্মরণীয় হয়ে আছে - 'সিপাই বিদ্রোহ দমন', 'আগ্রার তাজমহল স্মৃতিসৌধ', 'বৌদ্ধ গুম্ফা', 'মুসলমান', 'ধর্মপ্রাণ পার্সি' ও '১৮৭৬ সালে প্রিন্স অফ ওয়েলসের জয়পুরে প্রবেশ'. চিত্রশিল্পী  ছিলেন ঐ শোভাযাত্রার প্রতক্ষ্যদর্শী এবং বিশালাকার ক্যানভাসে সেই ছবি ফুটিয়ে তুলেছিলেন. ছবিটির মাপ ৪০ বর্গ মিটার এবং সেটা পৃথিবীতে সবচেয়ে বড় ছবিগুলির একটি. ১৯০৫ সালে জয়পুরের  রাজা ছবিটি কিনেছিলেন ও পরবর্তীতে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালকে উপহারস্বরূপ সেটি দান করেছিলেন. সময়ের প্রকোপে ছবিটি মলিন হয়ে গেছে এবং বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যে এর পুনরুদ্ধারের কাজ নিয়ে গড়িমসি করা উচিত হবে না.

     ইতিনা বাশকিরোভা বলছেন - আমাদের দেশে ছবি পুনরুদ্ধারের ভালো ভালো ওয়ার্ক-শপ আছে. সেখানকার ওস্তাদরা নব্বইয়ের দশকে ভারত ঘুরে গেছে. এখন আমরা শুরু করছি এই রুশী চিত্রশিল্পীর অননুকরণীয় বিশাল ছবিটির পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণের নতুন পর্যায়. যাবতীয় খরচা বহন করার দায়িত্ব নিয়েছে রুশী পক্ষ. ভারতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতাবাস পৃষ্ঠপোষক অর্থদাতাদের সন্ধান করছে.

     রুশী পুনরুদ্ধারকর্মীদের পরিকল্পনার খসড়া পেশ করা হবে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালের তত্ত্বাবধায়ক কমিটির কাছে.