সিরিয়া সংক্রান্ত নতুন একটি আন্তর্জাতিক শান্তি সম্মালেন আয়োজন করা নিয়ে চলতি সপ্তাহজুড়ে পরামর্শ ও মতামতগ্রহণ অব্যহত ছিল।

সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মাসে এ সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।

একদিকে যখন এই শান্তি সম্মেলন আয়োজনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক তখন কিছু পশ্চিমা বিশেষজ্ঞরা সিরিয়ার সরকারবিরোধী বিদ্রোহীদের সামরিক রসদ দিয়ে সহযোগিতা করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন। আর যদি এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হয় তাহলে সিরিয়ার সংকট নিরসণ আরো জটিল হয়ে পড়বে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের আসন্ন সম্মেলনে লন্ডন ও প্যারিস সিরিয়ার সরকারবিরোধী জোটকে অস্ত্র সরবরাহের পূর্বের বলবত নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যাচ্ছে। সত্য হলেও তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, ওই অস্ত্রের চালান শুধু সিরিয়ায় বিরোধীদলকে সরবরাহ করা হবে যাদের সাথে জঙ্গি সংগঠনগুলোর যোগসূত্র নেই। তাহলে লন্ডন ও প্যারিস কিভাবে সনাক্ত করবে কারা অস্ত্রধারী যোদ্ধা আর কারা জঙ্গি। যদি সিরিয়ায় চলমান গৃহযুদ্ধের দিকে আমরা তাকাই তাহলে সেখানের চিত্রপট হলো-মূল সামরিক শক্তি বিরোধীদের কাছে নয় বরং আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়দার সাথে সংযুক্ত বিদ্রোহীরা এ যুদ্ধ পরিচালনা করছে।

স্ট্রাটেজিক কার্নেগী সেন্টারের পরিচালক ইভান কানাভালোভ সিরিয়ার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের দেয়া মন্তব্যে বলেন, "সিরিয়ার সরকারবিরোধী দলের অভ্যন্তরীণ পরিকাঠামো বর্নণা করা খুবই কঠিন একটি কাজ। কিন্তু, সবাই ভাল করে জানে যে, বিরোধী দলের একটা বড় শক্তির অংশ হচ্ছে উগ্রবাদী জঙ্গিরা। আর এরা পুরো বিশ্বে নিজেদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এদের উপস্থিতি লিবিয়ায় পাওয়া যায়।"

এদিকে কাতারে প্রতিষ্ঠা হওয়া সিরিয়ার বিরোধী দলের কোয়ালিশন জোটের এক সম্মেলন ইস্তামবুলে অনুষ্ঠিত হয়। মূলত এটি অভিবাসীদের নিয়ে গড়ে ওঠা একটি সংগঠন যার পরিচালনা করছে পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ। আর ওই দিকে আম্মানে বৈঠক করে ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এদের মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, সৌদি আরব, কাতার ও তুরষ্ক। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা রাজনৈতিক উপায়ে সিরিয়ার সংকট সমাধানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তবে আম্মানে সিরিয়ার বর্তমান সরকারকে অপসারন করা নিয়ে একাধিকবার স্লোগান শোনা যায়। বাস্তবে, ফ্রেন্ডস অব সিরিয়া বলে যারা নিজেদের দাবী করছে তারা হচ্ছে মূলত সিরিয়ার বিরোধীদলের বন্ধু। আর তারা সিরিয়ার জনগনের ভবিষ্যত কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে চান স্বয়ং সিরিয়ার জনসাধারণকে বাদ দিয়েই। যা কখনোই ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে না।

ধীরে হলেও একে একে বিশ্বের পরাশক্তির দেশগুলো সিরিয়ার সংকটকে রাজনৈতিক উপায়ে সমাধান করা নিয়ে ঐক্যমতে পৌঁছাচ্ছে। আর এমনটি মনে করছেন স্ট্রাটেজিক ও এ্যনালাইজ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সেরগেই দেমিদেনকো। তিনি বলেন, "সিরিয়া প্রশ্নে প্রধান প্রধান দেশ যেমন যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ধীরে ধীরে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে উত্তীর্ণ হয়েছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হচ্ছ, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নই এখন নিজেদেরকে সিরিয়ার বিরোধীজোটের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। আর এখানে পরিষ্কার যে, বাশার আসাদের পদত্যাগের পর বিরোধীদের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব চলে যাবে ঠিক তা নয়। আর দেশের সংকট কাটিয়ে উঠতেও অনেক সময়ে লেগে যাবে। এই দুটি বিষয় নিয়ে আগামী সংলাপে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।"

সরকারবিরোধী জোটকে শুরু থেকেই আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানিয়ে আসছে রাশিয়া। আর এরপর সিরিয়ার জনগনই নির্ধারণ করবে কে দেশ পরিচালনা করবে। এখানে বলা বাহুল্য, বিদেশি নেতাদের সাথে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সমসাময়িক সাক্ষাতকালে আলোচনায় অন্যতম গুরুত্ব পায় সিরিয়া প্রসঙ্গ।