মার্কিন রাষ্ট্রপতি জন এফ কেনেডিকে হত্যা মামলায় লিনডন জনসনের বিরুদ্ধে প্রমাণ মিলেছে। সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিকসনের ব্যক্তিগত সহকারি রজার এস্তোউন কেনেডির হত্যার এ নতুন তথ্য উন্মোচন করেছেন। কেনেডি হত্যার পিছনে মূলত কে দায়ী তা নিয়ে নিজের লেখা বইয়ে বর্নণা করেছেন রজার এস্তোউন। আর নতুন এই বিতর্কের মধ্যদিয়ে প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে সংঘটিত ঘটনাটি সম্পর্কে আবারও ধূম্রজালের সৃষ্টি হলো।

রেডিও রাশিয়াকে দেয়া বিশেষ সাক্ষাতকারে আরো বিস্তারিত জানিয়েছেন বইয়ের লেখক রজার এস্তোউন।

আজ থেকে ২০ বছর আগে ১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর নিহত হন জন কেনেডি। যা এখনো মার্কিনীদের কাছে ওই হত্যার নেপথ্য অজানা রয়েছে। এক জনমত জরিপে দেখা যায়, অধিকাংশ মার্কিনীদের ধারণা কেনেডিকে ষড়যন্ত্রমূলক চক্রান্ত করে হত্যা করা হয়। রজার এস্তোউন বলেন, "সত্যা কথা হচ্ছে যে, লিনডন জনসনের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য, পরিকল্পনা ও হত্যা করার সম্ভাবনা অনেক বেশি ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮ সালে মার্কিন কংগ্রেস এক সিদ্ধান্তে উপনীত হয় এবং তা হচ্ছে কেনেডিকে ষড়যন্ত্র করে হত্যা করা হয়। তবে কে এই হত্যাকান্ড ঘটালো সে বিষয়ে তাদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে না। হত্যাকান্ডের অনেক তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে সব বিন্দু গিয়ে মিলছে একটি জাগায়। আর তা ওই লিনডন জনসনের দিকে।"

১৯৬৩ সালে লিনডন জনসনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার অভিযোগে দুটি তদন্ত শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর একটি সিনেটের ও অপরটি আইন ও বিচার মন্ত্রনালয়ের উদ্দ্যোগে হওয়ার কথা ছিল। সবাই জানতো যে, উপ-রাষ্ট্রপতির পদ থেকে জনসনকে সরিয়ে উত্তর-কারোলিনের গভর্ণর থেরি সেনফরদোমকে ওই পদে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন জন কেনেডি। আর এ করণে জনসন অনেকটা বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এই অভিপ্রায় থেকেই জনসন নিজের বিশ্বস্থভাজনকে দিয়ে জন কেনেডিকে গুলি করে হত্যা করেন। আস্থার সাথেই এমনটি বলছেন রজার এস্তোউন। তিনি আরো বলেন, "আমি মনে করি লি হারবি ওসবাল্দ গুলি করেন নি, বরং লিনডন জনসন কূটনীতিক হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালিন পুরো সময়ে তাঁর সহকারি হিসেবে যিনি কাজ করেছিলেন সেই মালকোল্ম মাকুওলেসই গুলি করেছিলেন। আর এক্ষেত্রে আমার প্রমাণ হচ্ছে, যে কক্ষে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে সেখানের একটি বাক্সে মালকোল্ম মাকুওলেসের আঙ্গুলের ছাপ খুঁজে পায় এফবিআর।"

রজার এস্তোউনের প্রকাশিত ওই বইয়ের লক্ষ্য হচ্ছে, ঐতিহাসিক ঘটনাবলী নিয়ে এতকাল ধরে বহাল থাকা ভুল তথ্যের সংশোধন করা। লিনডন জনসন ছিলেন অহংকারী প্রকৃতির লোক। যারা তাঁর সাথে কাজ করতেন তাদের প্রতি তিনি কখনোই শ্রদ্ধা-ভক্তি নিয়ে কথা বলতেন না এবং যখনই তাঁর বিরুদ্ধে কেউ অবস্থান নিত তাদের সাথেও একই আচরন করতেন তিনি। লিনডন জনসননের চারিত্রিক বৈশিষ্টে কেনেডিকে হত্যার চিত্র ফুটে ওঠে। রজার এস্তোউন এমনটি মনে করছেন।

"তাকে জেলহাজতে পাঠানোর হুমকি দেয়া হয়। সাধারণ জনগন তাঁর বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। আর এটি আরও একটি সত্যতার প্রমাণ দেয়। জন কেনেডি কোন এক সময়ে ওস্টিন, হিউস্টন ও ডালাস সফরে বের হন। ওদিকে জনসনের কাছে বেশি গুরুত্ব পায় রাষ্ট্রপতির ডালাস সফর।শুধু তাই নয়, জনসন আরো চেয়েছিলেন যেন রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর দিলি প্লাজা এলাকা হয়ে যায়। আর সেখানেই হত্য করা হয় কেনেডিকে। আর কেনেডিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ার সময়ে রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা কর্মীদের নিশ্চুত থাকতে দেখা যায়।" বলছিলেন রজার এস্তোউন।

রজার এস্তোউন বিশ্বাস করেন যে, তাঁর বইটি পড়ার পরে জনসনকে নিয়ে মার্কিনীদের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তিন হবে। যদিও রজার এস্তোউনই প্রথম নয় যিনি জন কেনেডির হত্যাকান্ডের ঘটনায় জনসনকে দোষী বলে দাবী করেছেন। সিআই সাবেক এজেন্ট হারভার্ড কান্ত ২০০৭ সালে প্রকাশিত নিজের আত্ব-জীবনীতে জন কেনেডিকে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে হত্যা করার দায়ে জনসনকে দোষী বলে উল্লেখ করেন।