স্বনামধন্য ইউরো পার্লামেন্টের সদস্যরা, যারা বছরের বেশীর ভাগ সময়ে নিজেদের দেশ গুলির অর্থনৈতিক সঙ্কট থেকে উদ্ধারের পথ না খুঁজে অন্যান্য দেশের গণতন্ত্র নিয়ে ঝাঁঝালো বক্তৃতা দিয়ে থাকেন, তারা এবারে সিরিয়াতে নিজেদের জোটের লোকদের প্রবল ধোলাই দেখে শঙ্কিত হয়ে জেনেভা ২০১২ সম্মেলনের এক বছর পরে বলছেন যে, সিরিয়াতে সঙ্কট সমাধান হওয়া দরকার রাজনৈতিক ভাবেই – অথচ গত বছরে এই কথাটাই তারা শুনতেও চান নি, খালি লাফাচ্ছিলেন সিরিয়াতে লিবিয়ার মতো করে নিজেদের মাত্স্যান্যায় ছড়িয়ে দিতে.

তাদের দলিলে তারা লিখেছেন যে, সিরিয়াতে গত বছরের সারা সময় ধরে বহু প্রসারিত, ধারাবাহিক ভাবে ও প্রবল রকমের মানবাধিকার খণ্ডনের জন্য দোষীদের শাস্তি পেতেই হবে – অর্থাত্ বাশার আসাদ ও তার জঙ্গী দমনকারী সেনা বাহিনীকে ইউরোপের লোকরা পারলে নাজী কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে চুল্লীতে পুড়িয়ে মারতে চায়, কারণ তারা নিজেদের দেশে বাইরের দেশ থেকে জঙ্গী ঢোকায় বাধা দিয়েছে.

এই সব ইউরোপের পার্লামেন্ট সদস্যরা চাইছে এই দেশে তাদের পেটোয়া আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল পাঠাতে.

প্রতিবেশী দেশ গুলি অর্তাত্ তুরস্ক ও জর্ডনে উদ্বাস্তু শিবির খোলার জন্য তারা ধন্যবাদ দিয়েছে ও এই সব শিবিরের নামে জঙ্গী প্রশিক্ষণ ক্যাম্পের জন্য অর্থ বরাদ্দকে ত্রাণ নাম দিয়ে করে যাচ্ছে. তারা এবারে এখানে ভাড়ায় লড়াই করতে আসা সৈন্যদের চেহারা ও কাজকর্ম দেখে নিজেরাই ভয় পেয়েছে ও বলছে যে, এবারে তাদের দেশ গুলিতেই ভারসাম্য নষ্ট হতে চলেছে, এরই জলজ্যান্ত প্রমাণ গ্রেট ব্রিটেনে ফৌজী হত্যা.

এবারে তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছে, যাতে বিশেষত রাশিয়া ও চিন সিরিয়ার যুদ্ধের অবসান করে ইউরোপকে জঙ্গী মুক্ত হতে সাহায্য করে. অবশ্য এটাকে তারা বলছে সিরিয়ার জনগনের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ ও দমনের রাজনীতি বন্ধ করার বিষয়ে রাশিয়া ও চিনের দায়িত্ব পালন. যদি ইউরোপের পার্লামেন্ট সদস্যরা নিজেদের দায়িত্ব বিগত পাঁচশো বছর ধরে একটিও পালন করতেন. তবে বিশ্বে কোন বড় অন্যায়ই হতে পারত না.