এপ্রিল মাসের পরিসংখ্যান থেকে দেখা গিয়েছে যে, ভারতে ইরানের খনিজ তেল আমদানী শতকরা ৩৪, ২ ভাগ কমেছে. যদুও ভারত সরকারি ভাবে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার সঙ্গে যোগ দেয় নি, তবুও, বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, ইরান থেকে আমদানী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে করা রাজনৈতিক চাপের সঙ্গে যুক্ত.

ভারতে ইরানের খনিজ তেল আমদানী কমানো চলছে আজ প্রথম মাস নয়. গত আর্থিক বছরে ভারতে ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানী কমানো হয়েছে ১৮ থেকে ১৩ মিলিয়ন টন. এখানে আগে ইরান দ্বিতীয় রপ্তানীকারক দেশ ছিল আর এখন সৌদী আরব, ইরাক, ভেনেজুয়েলা, কুয়েইত ও সংযুক্ত আরব আমীরশাহীর পরে ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে.

জ্বালানী শক্তি নিয়ে নীতি তৈরী করার সময়ে দিল্লী বাধ্য হচ্ছে পশ্চিমের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সম্ভাবনা বিচার করার, - এই কথা উল্লেখ করে মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন:

“ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক বিকাশ করতে চাইছে, তাই তারা ওয়াশিংটন থেকে আসা সঙ্কেতের উপরে গুরুত্ব না দিয়ে পারছে না. বর্তমানের পরিস্থিতিতে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে, নিষেধাজ্ঞা লক্ষ্য পূরণের যোগ্য ও ফলপ্রসূ হবে. এই প্রসঙ্গে ওয়াশিংটন অন্যান্য দেশের উপরে চাপ সৃষ্টি করেছে, তাদের একতরফা নিষেধাজ্ঞার সমর্থন করার জন্য. আর সেই সমস্ত নিষেধাজ্ঞা মানার জন্যও, যা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া হয়েছে. এই দৃষ্টিকোণ থেকে ভারত বাধ্য হয়েছে ইরানের উপর নির্ভরতা কমিয়ে দিতে জ্বালানীর আমদানী নিয়ে, ইরানের তেল আমদানী কমাতে হয়েছে”.

এপ্রিল মাসের শুরুতে ভারতের প্রশাসন “ইরানো হিন্দ শিপিং কোম্পানীর” কাজ কারবার বন্ধ করেছে, যারা ইরান থেকে তেল নিয়ে আসত. এই কোম্পানী ইরানের উপরে নিষেধাজ্ঞার কারণে বীমা সংক্রান্ত অসুবিধায় পড়েছে.

ভারতের সংবাদ মাধ্যমে একাধিকবার বলা হয়েছে যে, স্থানীয় খনিজ তেল পরিশোধন কারখানা গুলি ইরান থেকে কালো সোনা আমদানী কেনা বন্ধ করতে পারে, কারণ বীমা কোম্পানী গুলি খনিজ তেল বয়ে নিয়ে আসার ট্যাঙ্কার বীমা করতে চাইছে না. মার্চের শুরুতে ভারতের “মেরকাটর লাইন”, যা দেশের দ্বিতীয় লজিসটিকস কোম্পানী, তার ঘোষণা করেছে যে, ইরান থেকে আর খনিজ তেল আনবে না. ওমভাতি প্রেম নামের ট্যাঙ্কার এই অপারেটরের একমাত্র ট্যাঙ্কার ছিল, যাতে খনিজ তেল আনার বিষয়ে ফোর্স মেজর পরিস্থিতিতে তেল আনা বীমা করা ছিল, তাতে ইরানের খনিজ তেল কোম্পানী তেল পাঠাতো ভারতের “ম্যাঙ্গালোর রিফাইনারি অ্যান্ড পেট্রো কেমিক্যালস” পরিশোধন কারখানার জন্য.

তা স্বত্ত্বেও ওয়াশিংটনের তরফ থেকে চাপ দেওয়া উপেক্ষা করে ভারত সম্পূর্ণ ভাবে ইরান থেকে খনিজ তেল কেনা বন্ধ করতে চায় না. ভারতের পররাষ্ট্র সচিব রঞ্জন মাথাই বলেছেন যে, কালো সোনা আমদানীর বিষয়ে পরিমান কম হওয়া, যা বিগত সময়ে দেখা গিয়েছে, তা পরিবহন ও বীমা সংক্রান্ত অসুবিধার কারণেই হয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়াতে ঐস্লামিক রাষ্ট্র থেকে খনিজ তেল নিয়ে আসে. অর্থনৈতিক চিন্তা থেকেই কোম্পানী গুলি আমদানী কমিয়েছে, আর তাতে দেশের সরকার কোনো রকমের অংশ নেয় নি. “আমরা ইরান থেকে খনিজ তেল আমদানী চালিয়ে যাবো” – বলেছেন রঞ্জন মাথাই.

দুটি ভারতীয় বীমা কোম্পানী, তাদের মধ্যে রাষ্ট্রীয় “জেনারেল ইনসিওরেন্স কর্পোরেশন” ইরান থেকে আনা খনিজ তেল বীমা করা চালিয়ে যাচ্ছে.

ইরান ভারতের একটি বৃহত্তম অর্থনৈতিক সহযোগী দেশ. ভারতের প্রয়োজন ইরানের খনিজ তেল. নিজেদের পক্ষ থেকে ভারতের পণ্যের প্রয়োজন বোধ করে ইরান. ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রক ইরানের সঙ্গে কুড়ি তিরিশ লক্ষ টন গম রপ্তানীর চুক্তি করতে রাজী হয়েছে, বিনিময়ে ইরান থেকে আমদানী করা হবে খনিজ তেল. এই ধরনের বিনিময় ব্যবহারের ফলে ডলার ব্যবহারের দরকার পড়বে না ও দিল্লীর পক্ষে সহজ হবে ইরানের খনিজ তেলের জন্য দাম দেওয়া ও একই সঙ্গে আর্থিক, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা ও অন্যান্য নিষেধাজ্ঞার থেকে রেহাই পাওয়া যাবে.