সিরিয়ার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্যালেস্টাইন – ইজরায়েল শান্তি প্রয়াস অনেকটাই ভুলে যাওয়া ঘটনার মত মনে হয়েছে. তারই মধ্যে বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরিয়ার সমস্যা না মিটিয়ে প্যালেস্টাইন প্রশ্নের সমাধান করা যাবে না.

নিকটপ্রাচ্যে সব কিছুই সকলের সঙ্গে জোড়া রয়েছে. এই কারণেই সিরিয়ার কারণ বেশী গুরুত্বপূর্ণ হয়েছে প্যালেস্টাইনের চেয়েও. এই কথা উল্লেখ করে মস্কো রাষ্ট্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য গবেষণা বিভাগের প্রফেসর ইরিনা জ্ভিয়াগেলস্কায়া বলেছেন:

“এই সব সর্বজনীন অস্থিতিশীলতা ও অনির্দিষ্ট থাকার মতো ঘটনার পারিপার্শ্বিক আরব বসন্তের পটভূমিতে যা এখন সিরিয়াতে হচ্ছে, তার মধ্যে প্যালেস্টাইন – ইজরায়েলের মধ্যে শান্তি প্রয়াস আমার মতে আগে থেকেই অসফল হতে চলেছে. স্রেফ অনেক গুলি কারণ রয়েছে, যা এটাকে হতে দেবে না. প্রথমতঃ, যদি আমরা দেখি ইজরায়েলের পরিস্থিতির বিষয়ে, তবে দেখাই যাবে যে, বর্তমানের পরিসরে ইজরায়েলের মন্ত্রীসভা খুব কমই আগ্রহী এই পথে অগ্রসর হতে. তা সিনাই ও সিরিয়াতে হওয়া ঘটনার কারণেই হচ্ছে. এই ক্ষেত্রে আলোচনা করতে যাওয়া, যার মানে হল এলাকা প্রত্যর্পণ, তার জন্য কোনও উদ্যোগ করার মতো কারণ নেই”.

প্যালেস্টাইনের লোকদের সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তো তা হল যে, তাদের বরং প্রশংসাই করা দরকার, তারা তাও চেষ্টা করছে এক রকমের ঐক্যবদ্ধ সরকার তৈরী করার. হামাস চাইছে ফাতেহ গোষ্ঠীর সঙ্গে ও ফাতেহ চাইছে হামাসের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার, যদিও এটা এখনও হয় নি. প্যালেস্টাইনের আন্দোলনের রাজনৈতিক ভাবে বহু খণ্ড হয়ে থাকাও প্রক্রিয়াকে দ্রুত করতে সাহায্য করছে না. বাইরের শক্তিরাও অন্যান্য সমস্যা নিয়ে জর্জরিত.সুতরাং প্যালেস্টাইন ও ইজরায়েলের সমস্যা বর্তমানে দ্বিতীয় সারিতে রয়েছে খুবই বাস্তব সমস্ত কারণের জন্য.

এখানে আগ্রহের বিষয় হল যে, সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাপ থাকলেও ইজরায়েলের জন্য খুব সম্ভবতঃ লাভজনক হয় আসাদ প্রশাসনের নেতৃত্ব দিলেই. ইজরায়েলের এক গুপ্তচর ব্রিটেনের সংবাদ মাধ্যমে সাক্ষাত্কারে বলেছেন যে, চেনা শয়তানই এক গুচ্ছ উন্মাদের ভাল, যদি সেই দেশ এবারে মাত্স্যন্যায় ও প্রশাসন বিহীণ হয়ে যায় তাহলে. এই পরিস্থিতিতে ইজরায়েলের প্যালেস্টাইন নিয়ে মাথাব্যাথা করার সময় নেই. আবার প্যালেস্টাইনের লোকদের জন্যও এখন গুরুত্বপূর্ণ নয় – তাঁরা নিজেরা কে কোন দলের, আবার ইজরায়েল নিয়েও চিন্তার সময় নেই. এই প্রসঙ্গে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ইজরায়েল গবেষণা বিভাগের কর্মী দিমিত্রি মারিয়াসিস বলেছেন:

“প্যালেস্টাইনের লোকদের জন্য এটা খুবই জটিল পরিস্থিতি. অন্তত পক্ষে সেই কারণে যে, তা এত দিনের থাকা যোগাযোগ নষ্ট করছে. সিরিয়া খুবই সক্রিয় ভাবে হামাস গোষ্ঠীকে সহায়তা করেছিল. আবার অন্য দিক থেকে সিরিয়ার বিরোধীদের মধ্যেও যথেষ্ট ঐস্লামিক লোকজন রয়েছে, তারা আবার আল- কায়দা দলের লোক. তাদের প্রশাসনে আসতে পারা সম্ভব ধরে নিলে সিরিয়া ফাতেহ দলের জন্য নেতিবাচক মনে হতে পারে. কারণ ফাতেহ একটি জাতীয় গোষ্ঠী, কোন ধর্মীয় গোষ্ঠী নয়”.

সংক্ষেপে বললে, এখন নিকটপ্রাচ্যের পরিস্থিতি একেবারেই সিরিয়ার প্রিজম দিয়ে দেখা হচ্ছে – সেখানে এখন এক দাবানলের কুণ্ড তৈরী হয়েছে, যা সারা এলাকাতেই ধরে যেতে পারে. আর প্যালেস্টাইন – ইজরায়েলের সঙ্কট শুধু কিছুটা ঝিমিয়ে রয়েছে, তা ভেতরে জ্বলছে, কিন্তু শিখা দেখা যাচ্ছে না.

বলা যেতে পারে যে, এই বিরোধের অংশীদাররা আজ নিজেরাই সঙ্কটকে তীব্র করে তুলতে চাইছে না. আরব বসন্ত এর চেয়ে অনেক বেশী ফেলে রাখার পক্ষে অনুপযুক্ত সমস্যার সৃষ্টি করেছে.