ভারতে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্রামোসের যুদ্ধ জাহাজ থেকে ছোঁড়া ধরনের পরীক্ষা সফল হয়েছে. এই বিষয়ে ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় খবর দিয়েছে.বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

২৯০ কিলোমিটার অবধি দূরে থাকা লক্ষ্য নির্ভুল ভাবে ধ্বংস করতে পারে এই রকেট, আর তার মধ্যে মাটি থেকে ১০ মিটার অবধি উঁচু লক্ষ্যও ধ্বংস করা সম্ভব. ব্রামোস রকেট ভারতের পদাতিক বাহিনীর কাছে এখনই আছে, তাতে দেশের নৌবহরের জাহাজ গুলিকেও সমৃদ্ধ করা হয়েছে. মার্চ মাসে প্রথম জলের তলা থেকে এই রকেট ছোঁড়ার পরীক্ষা সফল ভাবে করা হয়েছিল. এই বছরের মধ্যেই আকাশ থেকে এই ধরনের রকেট ছোঁড়ার পরীক্ষা শেষ হতে চলেছে.

জাহাজের উপর থেকে ছোঁড়া রকেট এই ধনের অস্ত্রের নানা রকমের পরীক্ষার পরিকল্পনার মধ্যেই হয়েছে, যা রাশিয়াতে তৈরী ফ্রিগেট তারকাশের উপরে বসানো হয়েছিল. ১১৫৩৬ নম্বর প্রকল্পে তৈরী জাহাজ গুলি, তারকাশ যে ধরনের, সেই জাহাজ গুলি ব্যবহার করা হতে পারে মহা সমুদ্রে ও সাগরে, এই ধরনের জাহাজ যেমন একাই যুদ্ধ করতে পারে, তেমনই পারে দলবদ্ধ ভাবে নৌবাহিনীর সাথে কাজ করতে আর পারে পাহারা দিয়ে নিয়ে যেতে. এই জাহাজের যুদ্ধ করার ক্ষমতা দিয়ে জলের তলায় থাকা ডুবোজাহাজ, শত্রু পক্ষের জাহাজ, এমনকি আকাশে ওড়া বিমানকেও আঘাত করা সম্ভব, ফলে দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষার কাজে এই জাহাজ অনন্য. তাছাড়া এই জাহাজ ব্যবহার করে স্থল যুদ্ধে পদাতিক বাহিনীকে যেমন সাহায্য করা সহায়তা দেওয়া যায় সমুদ্র থেকে, তেমনই এই জাহাজ থেকে বাহিনী নামানো যেতে পারে অন্যের এলাকায়.

ব্রামোস রকেট দিয়ে রাশিয়াতে তৈরী তিনটি ফ্রিগেট সমৃদ্ধ করা হবে. এই তারকাশ, তেগ ও ত্রিকণ্ড নামের তিনটি জাহাজের মধ্যে শেষ ত্রিকণ্ড বর্তমানে কালিনিনগ্রাদে রয়েছে ও খুব শীঘ্রই ভারতীয় নৌবাহিনী এটিকে পাবে. ভারতের নৌবহরে এই জাহাজ গুলির সংযোজন দেশের ক্ষমতাকে অনেকাংশেই বাড়িয়ে দিয়েছে ও তার আঘাত হানার ক্ষমতাও বাড়িয়েছে. ব্রামোস রকেট দিয়ে ভারতের অন্যান্য যুদ্ধ জাহাজকেও আধুনিক করা হবে, তার মধ্যে থাকছে রাশিয়াতে তৈরী বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ বিক্রমাদিত্য, যা ভারতের নৌবহর পেতে চলেছে এই বছরেই, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক রকেট বাহিনীর সদর দপ্তরের প্রাক্তন প্রধান ভিক্টর এসিন বলেছেন:

“ব্রামোস ব্যালিস্টিক মিসাইল – রুশ ভারত যৌথ প্রকল্পের একটি. এটি এমনকি রকেটের নামেই দেখা যাচ্ছে. রাশিয়া ও ভারতের যৌথ প্রকল্প ব্রামোস এরোস্পেস লিমিটেড কোম্পানীর নাম দেওয়া হয়েছে দুটি নদীর নাম থেকে ব্রহ্মপুত্র ও মস্কো. কিন্তু উল্লেখ করবো যে, এই কোম্পানীর সদর দপ্তর রয়েছে ভারতেই. রকেট তৈরী করা হচ্ছে ভারতীয় ও রুশ ইঞ্জিনিয়ারদের সম্মিলিত উদ্যোগে, আর তাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে ভারতের পক্ষই, এই রকমই চুক্তিতে কথা ছিল. এই রকেট তৈরীর ভিত্তি ছিল রাশিয়ার শব্দাতীত রকেট, তবে এখন ভারতে যে রকেট তৈরী করা হচ্ছে, তা গুণমান অনুযায়ী অনেক ভাল”.

ব্রামোস রকেট খুবই উচ্চ প্রযুক্তি বহন করে. তা খুবই প্রসারিত ভাবে ভারতের পদাতিক বাহিনীতে ব্যবহার হচ্ছে. অংশতঃ, এই ধরনের রকেট দিয়ে ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সহ অনেক এলাকাতেই সীমান্ত রক্ষার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে. ভারতের বিমান বাহিনীও এই রকেট নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে আর খুব শীঘ্রই সু- ৩০ এমকাই ও মিগ -২৯ ধরনের বিমানে এই রকেট বসানো হবে.

ব্রামোস রকেট ২০০৫ সালে ভারতীয় সেনা বাহিনীকে দেওয়া শুরু হয়েছে. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, এই ধরনের রকেটের মতো রকেট, যার এত বেশী গতিবেগ, তা বর্তমানে বিশ্বে আর কারও কাছে নেই. বিদেশে তৈরী এই ধরনের রকেটের সঙ্গে তুলনা করলে ব্রামোস গতিতে তিন গুন এগিয়ে আর প্রতিক্রিয়া করতে পারে তিন- চার গুন বেশী. রাডার যন্ত্রে এই রকেট কম ধরা পড়ে. তবে এটা সত্যি যে, আন্তর্জাতিক আইন বাঁচানোর জন্য এর পাল্লাকে রেখে দেওয়া হয়েছে ২৯০ কিলোমিটার. ভিত্তি মূলক ধরনে তিন টন ওজনের এই রকেট ওড়ে ১০ থেকে ১৪ হাজার মিটার উচ্চতা দিয়ে ও ওড়ার সময়ে ক্রমাগত পথ পাল্টায়. যে কোন রকমের সামনে আসা বাধা, যেমন পাহাড়, খাদ ইত্যাদি অন্যান্য বিষয়ও অনায়াসে এটা পার হয়ে যেতে পারে আর পারে পাহাড়ের পিছনে তাকা লক্ষ্যভেদ করতে. এই রকেটে সেই নীতি ব্যবহার করা হয়েছে, যাকে বলা হয়, “গুলি করে ভুলে যাও” – কারণ এটা নিজেই নিজের লক্ষ্য স্থির করতে সক্ষম.