বিশ্বের চোদ্দটি দেশের চারশোটিরও বেশী কোম্পানী মস্কো শহরে আন্তর্জাতিক বহুমুখী নিরাপত্তা – ২০১৩ প্রদর্শনীতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দেখানোর জন্য এনেছে. রাশিয়ার কোম্পানী গুলির জিনিষপত্র সাক্ষ্য দিচ্ছে যে, রাশিয়া বিশ্ব অর্থনীতির দ্রুত উন্নতিশীল এই নিরাপত্তা সুরক্ষা ব্যবস্থার শিল্পোত্পাদন অংশে খুবই সফল ভাবে সমাকলিত হতে পেরেছে.

আজ বহুমুখী নিরাপত্তা ধারণা আগের চেয়ে অনেক বেশী গভীর হয়েছে. বর্তমানের শতকে এটা শুধু একজন মানুষের নিরাপত্তা রক্ষা করাই নয়, বরং প্রযুক্তি ও প্রকৃতি থেকে উদ্ভূত বিপর্যয় থেকে রক্ষাও রয়েছে, আর রয়েছে সন্ত্রাসবাদীদের হাত থেকে বেশী গুরুত্বপূর্ণ জায়গা গুলিকেও রক্ষা করা, তাছাড়া পাইরেসী থেকেও রক্ষা করা. আগের মতই, একটি মুখ্য বিপদ রয়ে গিয়েছে অগ্নিকাণ্ড. তাই সমস্ত দেশেই অবিরল ভাবে নতুন প্রযুক্তি তৈরী করা হচ্ছে খুবই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড, যেমন গৃহস্থালীতে, তেমনই শিল্পোত্পাদনের ক্ষেত্রে নির্বাপণ করার. কামাজ কোম্পানী – রাশিয়ার এক নেতৃস্থানীয় বড় পণ্য বাহী ট্রাকের প্রস্তুতকারক সংস্থা, তারা এই প্রদর্শনীতে নিয়ে এসেছে নতুন দমকলের গাড়ী. সুইজারল্যান্ডের কোম্পানী হিরোম্যাক্সের সাথে একসাথে এই গাড়ী তৈরী করা হয়েছে, এই নিয়ে বিশদ করে বলেছেন কামাজ সংস্থার দমকলের প্রযুক্তি সংক্রান্ত প্রধান বিশেষজ্ঞ এলদার ইউসুপভ:

“বিশেষত্ব হল যে, এই গাড়ী তৈরী করা হয়েছে শুধুই জং ধরে না এমন ধাতু দিয়ে, আর অ্যালুমিনিয়ামের ও প্লাস্টিক দিয়ে. তাতে স্বাভাবিক সমস্ত দরকারি জিনিষ পত্রই রয়েছে, কিন্তু এর বিশেষত্ব হল যে, তাতে হিরোম্যাক্স কোম্পানীর জলের কুয়াশা নামক ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, যা বাড়ীর ভিতরে আগুন নেভানোর কাজে লাগে, প্রতিবেশীদের জলে না ডুবিয়ে দিয়ে. এই গাড়ীতে তিন টন জল বয়ে নিয়ে যাওয়া হয়, কিন্তু ফলপ্রসূতার দিক থেকে তা ১৫ টন জলের সমান. তা দিয়ে কোন বাড়ীতে লাগা আগুন যেমন নেভানো সম্ভব, তেমনই সম্ভব কোন খনিজ তেল ও গ্যাস পরিশোধন কারখানার জ্বালানীর ট্যাঙ্ক নেভানোর জন্য. এই নতুন প্রযুক্তি যিনি বানিয়েছেন, তিনি নিজে বলেছেন যে, কামাজ যখনই ইউরো – ৫ স্ট্যান্ডার্ডের স্যাসী তৈরী করতে পারবে, তখনই এই গাড়ীর বিশাল চাহিদা তৈরী হবে. বছরে এই ধরনের গাড়ী কম করে হলেও ২০০টি তৈরী করা হবে”.

“গনেত্স” নামের উপগ্রহ মাধ্যমে যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরীর কোম্পানী এই প্রদর্শনীতে নিয়ে এসেছে তাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা, যা পৃথিবীর কাছে নীচের কক্ষপথে উড়তে থাকা উপগ্রহের সহায়তা নিয়ে বানানো হয়েছে. এটা দিয়ে কোন বিপর্যয়ের এলাকায় ত্রাণ কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়. দেশের দূরের এলাকায় বিপর্যয়ের খবর দেওয়া যায়. যে কোন ধরনের পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার সঙ্গেই এটা জুড়ে দেওয়া যায়.

খনিজ তেল ও গ্যাস ব্যবসার প্রতিনিধিদের বিশেষ আগ্রহের কারণ হয়েছে অ্যাটল কোম্পানীর প্রযুক্তি. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক এলাকা, যেমন বন্দর, টার্মিনাল, খনিজ তেল উত্তোলনের প্ল্যাটফর্ম ইত্যাদির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য তৈরী করা হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে কোম্পানীর প্রতিনিধি ইগর কুজমেনকভ বলেছেন:

“এখন খুবই বেশী রকমের হয়েছে সন্ত্রাসবাদী অন্তর্ঘাতের বিপদ. আমরা এমন সব ব্যবস্থা বানাচ্ছি, যা এই ধরনের জায়গার কাছে বিপজ্জনক লোকজনের এসে পৌঁছনোর আগেই খবর দেবে, যারা জলের উপর দিয়ে ভেসে আসতে পারে. এই ব্যবস্থায় আবার জলের তলায় লক্ষ্য করার জন্য হাইড্রোলোকেটর ব্যবস্থা রয়েছে, তাছাড়া রেডিওলোকেটর ও লক্ষ্য করার ব্যবস্থা সমেত অ্যাকাউস্টিক সিগন্যালিং ব্যবস্থাও রয়েছে”.

এই প্রদর্শনীতে রাশিয়ার কোম্পানী গুলি অনেক উদ্ভাবনী কাজ কর্মের নিদর্শন রেখেছে, যাতে নানা রকমের নতুন পদার্থ ও ব্যবস্থা ব্যবহার করা হয়েছে, যা দিয়ে আমাদের সামনে উপস্থিত নতুন রকমের বিপদের প্রত্যুত্তর দেওয়া যেতে পারে, আর তার মধ্যে রয়েছে সন্ত্রাসের সম্ভাবনাও.