গত কয়েকদিন ধরে জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়া থেকে যে রকেট ছোঁড়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অমান্য করেই করা হয়েছে বলে মনে করা যায় না. স্বল্প পাল্লার রকেট ছোঁড়া সরকারি ভাবে নিষেধ করা হয় নি. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ.

বিগত কিছু দিন ধরে উত্তর কোরিয়া জাপান সাগরের দিকে বেশ কয়েকটি রকেট ছুঁড়েছে. কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি অতিরিক্ত রকমের উত্তেজক, তাই এই ধরনের রকেট ছোঁড়ার ব্যাপারকে যেমন কোরিয়ার কাছের প্রতিবেশী দেশ গুলি, তেমনই দূরের দেশ গুলি থেকেও খেয়াল করা হয়েছে. বিশেষজ্ঞদের ধারণা অনুযায়ী ছোঁড়া হয়েছে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত উড়ে যেতে পারে এমন রকেটই. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ আহ্বান করেছেন উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা নিয়ে তাড়াহুড়ো না করতে, তিনি বলেছেন:

“যদি সংবাদ মাধ্যমে যা বলা হচ্ছে, তা বিশ্বাস করতে হয়, তবে এখানে কথা হচ্ছে স্বল্প পাল্লার রকেট নিয়ে, যেই গুলির কোনও ব্যালিস্টিক উড়ানের পথ থাকে না. ঠিক করে বললে, রাষ্ট্র সঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়াকে নিষেধ করা হয়েছে সেই সব রকেট ছোঁড়া বন্ধ করতে, যেগুলির ব্যালিস্টিক উড়ানের পথ আছে. আর যদি কথা হয় অন্য ধরনের রকেট নিয়ে, যেমন ব্যালিস্টিক নয়, তবে সরকারি ভাবে এটা নিষেধ করা হয় নি ও উত্তর কোরিয়া এই ধরনের পরীক্ষা আগেও বহুবার করেছে. এটা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা ভাঙা হয়েছে বলে কোন অভিযোগের কথা হয় নি”.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুন উত্তর কোরিয়াকে আহ্বান করেছেন পরবর্তী কালে প্ররোচনা থেকে বিরত থাকতে. কিন্তু এর আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘে স্বীকরা করা হয়েছে – স্বল্প পাল্লার রকেট ছোঁড়া নিরাপত্তা পরিষদ নিষেধ করে নি. উত্তর কোরিয়ার রকেটের পাল্লা এখনও স্থির করার দরকার রয়েছে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী মনে করেন যে, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যেতে পারে, তাই তিনি বলেছেন:

“আমরা খুবই সেটা নিয়ে উদ্বিগ্ন, যে কি করে কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকার চারপাশ জুড়ে পরিস্থিতি এই বছরের প্রথম দিকের মাস গুলিতে ঘনীভূত হয়েছিল, বিশেষ করে পারমানবিক পরীক্ষা ও ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার পরে. এখন আমার মনে হচ্ছে যে, বলা যেতে পারে এই উত্তেজনা কিছুটা করে কম হচ্ছে. শুধু উত্তর কোরিয়ার উচিত রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিক্রিয়া থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়, বরং অন্যান্য আগ্রহী দেশেরও এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার করা উচিত্ হবে না, যাতে এই এলাকায় নিজেদের সামরিক পেশী শক্তি প্রদর্শন করার অজুহাত বলে ব্যবহার করা যায়. আমি আশা করবো যে, এই শান্ত হওয়ার প্রবণতা কাজ দিয়ে মজবুত করা হবে আর এটা এমন পরিস্থিতি তৈরী করতে পারে, যাতে ছয় পক্ষের আলোচনা আবার শুরু করা যায়”.

এই এলাকায় পরিস্থিতিকে শান্ত করার জন্য ছয় পক্ষের আলোচনা হওয়া দরকার, তাতে অংশ নিয়ে থাকে চিন- রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, দক্ষিণ ও উত্তর কোরিয়া.