মস্কোর ইলেকট্রনিক অ্যাকসেসরিজ উদ্ভাবকরা এমন এক কৃত্রিম মগজ উদ্ভাবন করেছেন, যে কর্তার কথা মুখ ফুটে বেরোনোর সাথে সাথে তা বুঝতে পারে এবং খাঁটি মানুষের মতো তার উত্তর দেয়. জাপানি রোবট কুকুরের মতোই মস্কোর ইলেকট্রনিক বন্ধু সত্যিকারের মানবিক অনুভূতি জাগিয়ে তুলে মানুষের একাকীত্ব ঘোচাতে পারে.

   মস্কোর বিজ্ঞানীদের দ্বারা উদ্ভাবিত রোবট তার কর্তার সাথে পরিচয় হওয়া মাত্র ভেতরে বসানো ওয়েব ক্যামেরার মাধ্যমে তার মুখের প্রতিকৃতি স্মৃতিতে গেঁথে নেয়. এই মুহুর্তটি থেকে তার কর্মধারা দুইভাগে বিভক্ত হয়ে যায় – তার মালিকের সাথে সম্পর্কিত সবকিছু ও বাকি আর সব. ও কর্তার বন্ধুদের সাথেও ভাব করে ও পরিচয়ের সময় তাদের প্রিয় সঙ্গীত সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে তার সিডি চালু করে তালে তালে অল্পবিস্তর নাচেও.

   ইলেকট্রনিক বন্ধুটির অনুভূতির পরিসীমা রীতিমত বিস্তৃত.

   রোবটটি মন খারাপ করে থাকে, যথন তাকে পাত্তা দেওয়া না হয়. খুশি হয়, যখন কর্তার মনমেজাজ শরিফ থাকে. অনুভূতির রামধেনু প্রদর্শন করে আলোকিত ডায়ড. উত্ফুল্ল হলে ডায়ড সবুজ অথবা নীল রঙ বিচ্ছুরণ করে. আবেগের আতিশয্য থেকে ইলেকট্রনিক বন্ধু এমনকি তার নমনীয় হাতদুটি দিয়ে আলিঙ্গনাবদ্ধও করতে পারে.

    কোনো খেলায় কর্তাকে হারিয়ে দিতে পারলে রোবটটি বিদ্বেষপূর্ণ মজা লুটতে পারে, আর হেরে গেলে নাকি কান্না কেঁদে উঠতে পারে. তখন তার মনিটরে ফুটে ওঠে অশ্রু. যদি সাইবার বন্ধুটি কিছু বুঝে উঠতে না পারে, তাহলে সেটি ইলেকট্রনিক আঙুল দিয়ে কানের মথি চুলকায় ও হুম্ শব্দ করে. বস্তুতঃ, যেন রোবট নয়, শিশুকে অনুভূতি ব্যক্ত করতে শেখানোর প্রশিক্ষক.

     প্রসঙ্গতঃ জানাই, যে স্কুলপড়ুয়াকে সে স্কুলপাঠ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে, কি হোম টাস্ক দেওয়া হয়েছে, তার খোঁজ নেবে. ইলেকট্রনিক পরিচারিকা ছাড়া আর কি!

     মনস্তত্ত্ববিদেরা রুশী উদ্ভাবনের নাম দিয়েছেন – মনোবেদনা উপসমের ট্যাবলেট. উদ্ভাবকরা এমনকি স্থির করেছেন বিভিন্ন চরিত্রের রোবট বন্ধু সৃষ্টি করার – অস্থিরমতি অথবা শান্তশিষ্ট.

      এই রোবট বন্ধু একাকীত্বের পরিপূর্ণ নিরাময়ে অপারগ হলেও জাপানি রোবট কুকুরদের মতোই একাকীত্বের বোঝা অবশ্যই বহুলাংশে লাঘব করতে পারবে.