নয়াদিল্লিতে চলতি ‘রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্তি-২০১৩’ নামক প্রদর্শনীতে যোগ দিয়েছে রাশিয়ার দশটি বিশ্ববিদ্যালয়. আন্তর্জাতিক বিদ্যাশিক্ষার রুশী কেন্দ্রের

প্রধান ইলেনা বারমান ব্যাখ্যা করে বলছেন – “১৯৯২ সাল থেকেই ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ভারতীয়দের রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষালাভের সুযোগ সম্মন্ধে অবগত করার জন্য আমরা প্রতিবছর এই রকম প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকি”. এবছর সম্ভাব্য ভারতীয় উচ্চ শিক্ষাপ্রার্থী ও তাদের মা বাবাদের প্রতিক্রিয়া ও মনোযোগ আমাদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গেছে. প্রদর্শনীতে প্রথাগত অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি এবার রাশিয়ার কয়েকটি উচ্চ শিক্ষায়তন এই প্রথম যোগদান করলো. তাদের মধ্যে আছে গুবকিনের নামাঙ্কিত রাষ্ট্রীয় অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়.

 এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি গালিনা ত্রেতিকোভা সগর্বে উল্লেখ করছেন, যে ভারতের অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সেক্টরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় সুপরিচিত, কারণ সেখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করা বহু ভারতীয় বিশেষজ্ঞ এই সেক্টরে আজ সাফল্যের সাথে কর্মনিয়োজিত আছেন.-

 

 গালিনা ত্রেতিকোভা বলছেন – ভারতে এই প্রথমবার আমরা রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্তির প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছি. ভারতীয় ছাত্রসমাজ, তাদের অভিভাবকরা এবং এখানকার উচ্চ শিক্ষায়তনগুলির প্রতিনিধিরা আমাদের ফ্যাকাল্টিগুলি সম্মন্ধে, পাঠ্যসূচী সম্পর্কে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করছেন. প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগে আমরা গেছিলাম জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে, আম্বেদকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে কথাবার্তা হয়েছে. আর প্রদর্শনীর উদ্বোধনীর দিনে তাদের প্রতিনিধিরা আমাদের কাছে এসেছিলেন বিবিধ যৌথ প্রকল্প রূপায়নের প্রস্তাব নিয়ে. আমরা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং, কম্পিউটার টেকনোলজির

বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কর্মসূচী গ্রহণ করবো এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৬ মাসের জন্য এই সব উচ্চ শিক্ষায়তনে পাঠরত ভারতীয় স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের মস্কোয় ফেলোশিপ দেওয়ার বন্দোবস্ত করবো. আমাদের আশা এই, যে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় ছাত্ররাও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবে, যাদের মধ্যে থাকবে তারাও, যারা এখন নয়াদিল্লিতে রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে প্রদর্শনীতে যাতায়াত করছে.

 

এই প্রদর্শনী দেখতে আসা লক্ষ্ণৌ শহরের ২৩-বছর বয়সী যুবক শুভম শর্মা ইতিমধ্যেই গুবকিন অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এ্যাডমিশন কমিশনের কাছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব দলিলপত্র গুছিয়ে নিয়েছে.-

 

ভারতে লোকে জানে, যে রাশিয়ায় ইঞ্জিনীয়ারিং শিক্ষার মান খুব উঁচু. আমি গুবকিন অয়েল এ্যান্ড গ্যাস ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই. এর আগে আমি লক্ষ্ণৌয়ে পলিটেকনিক কলেজ থেকে পাস করেছি. আমার আশা এই, যে ভারতে ও রাশিয়ায় পাওয়া শিক্ষা আমার বহুদিনের স্বপ্ন সার্থক করবে – আমি পেট্রো-মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারের ডিগ্রি পাব.

 তবে পরিসংখ্যান এই সাক্ষ্য দিচ্ছে, যে ভারত থেকে উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য রাশিয়ায় যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠরা চিকিত্সাবিদ্যা আয়ত্ত করতে যায়. রাশিয়ার মেডিক্যাল কলেজগুলির মধ্যে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যার দিক দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে তভের মেডিক্যাল অ্যাকাডেমি – সেখানে এখন আটশোরও বেশি প্রবাসী ভারতীয় শিক্ষারত. তভের শহরটি মস্কো থেকে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত. শিক্ষারত ভারতীয়দের সংখার দিক দিয়ে তার পেছনেই আছে ভলগোগ্রাদ মেডিক্যাল কলেজ. প্রদর্শনীতে কাজান রাষ্ট্রীয় মেডিক্যাল অ্যাকাডেমির প্রতিনিধি মারাত আখমেতভ বলছেন, যে তাদের কলেজেও বছরের পর বছর ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়. তাদের আকর্ষন করে পরিমিত টিউশন ফি, আরামদায়ক ছাত্রাবাস এবং যেহেতু পঠনপাঠন চলে ইংরাজি ভাষার মাধ্যমে.

 

মারাত আখমেতভ বলছেন – ভর্তি হতে ইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী আমাদের স্টলে এসে ভর্তি হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সবিশদে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন. বর্তমানে আমাদের মেডিক্যাল অ্যাকাডেমিতে সাড়ে তিনশো ভারতীয় শিক্ষারত. কোর্সের মেয়াদ – ৬ বছর, তারপরে ২ বছর ট্রেনিশিপে থাকা. গতবছর আমাদের কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফেরা ১২০ জন ভারতীয়দের সবাই সাফল্যের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভারতে ডাক্তারি প্র্যাকটিস করার অধিকার অর্জন করেছে.

 রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষালাভে ইচ্ছুক ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বহুল পরিমানে বাড়তে পারে, যদি শিক্ষাদানের মাধ্যমটি হয় ইংরাজি ভাষা – এরকম মত প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিদ্যাশিক্ষার রুশী কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা. রাশিয়ার উচ্চ শিক্ষাকেন্দ্রগুলি ক্রমশঃ এই পথে এগোচ্ছে. আজকের দিনে রাশিয়ার শুধুমাত্র কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ ও অ্যাকাডেমিতেই ইংরাজি ভাষায় শিক্ষালাভের ব্যবস্থা আছে. টেকনিক্যাল স্ট্রীমে পড়াশোনা করার জন্য প্রথমে ১ বছর

প্রস্তুতি বিভাগে রুশী ভাষা আয়ত্ত করতে হয়. রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্তি-২০১৩’ প্রদর্শনীটি নয়াদিল্লিতে সমাপ্ত হওয়ার পরেই চালু হবে কোলকাতায়. আর তারপরে সেটা যাবে চেন্নাই ও মুম্বাইয়ে.

 

নয়াদিল্লিতে চলতি ‘রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্তি-২০১৩’ নামক প্রদর্শনীতে যোগ দিয়েছে রাশিয়ার দশটি বিশ্ববিদ্যালয়. আন্তর্জাতিক বিদ্যাশিক্ষার রুশী কেন্দ্রের প্রধান ইলেনা বারমান ব্যাখ্যা করে বলছেন – “১৯৯২ সাল থেকেই ব্যবসায়িক ভিত্তিতে ভারতীয়দের রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষালাভের সুযোগ সম্মন্ধে অবগত করার জন্য আমরা প্রতিবছর এই রকম প্রদর্শনীর আয়োজন করে থাকি”. এবছর সম্ভাব্য ভারতীয় উচ্চ শিক্ষাপ্রার্থী ও তাদের মা বাবাদের প্রতিক্রিয়া ও মনোযোগ আমাদের প্রত্যাশা ছাপিয়ে গেছে. প্রদর্শনীতে প্রথাগত অংশগ্রহণকারীদের পাশাপাশি এবার রাশিয়ার কয়েকটি উচ্চ শিক্ষায়তন এই প্রথম যোগদান করলো. তাদের মধ্যে আছে গুবকিনের নামাঙ্কিত রাষ্ট্রীয় অয়েল অ্যান্ড গ্যাস বিশ্ববিদ্যালয়. এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি গালিনা ত্রেতিকোভা সগর্বে উল্লেখ করছেন, যে ভারতের অয়েল অ্যান্ড গ্যাস সেক্টরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয় সুপরিচিত, কারণ সেখান থেকে ডিগ্রি অর্জন করা বহু ভারতীয় বিশেষজ্ঞ এই সেক্টরে আজ সাফল্যের সাথে কর্মনিয়োজিত আছেন.

 গালিনা ত্রেতিকোভা বলছেন – ভারতে এই প্রথমবার আমরা রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্তির প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছি. ভারতীয় ছাত্রসমাজ, তাদের অভিভাবকরা এবং এখানকার উচ্চ শিক্ষায়তনগুলির প্রতিনিধিরা আমাদের ফ্যাকাল্টিগুলি সম্মন্ধে, পাঠ্যসূচী সম্পর্কে খুবই আগ্রহ প্রকাশ করছেন. প্রদর্শনী শুরু হওয়ার আগে আমরা গেছিলাম জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে, আম্বেদকার বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের সাথে কথাবার্তা হয়েছে. আর প্রদর্শনীর উদ্বোধনীর দিনে তাদের প্রতিনিধিরা আমাদের কাছে এসেছিলেন বিবিধ যৌথ প্রকল্প রূপায়নের প্রস্তাব নিয়ে. আমরা মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং, কম্পিউটার টেকনোলজির বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের কর্মসূচী গ্রহণ করবো এবং সেপ্টেম্বর মাস থেকে ৬ মাসের জন্য এই সব উচ্চ শিক্ষায়তনে পাঠরত ভারতীয় স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীদের মস্কোয় ফেলোশিপ দেওয়ার বন্দোবস্ত করবো. আমাদের আশা এই, যে সেপ্টেম্বর মাসে ভারতীয় ছাত্ররাও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তি হবে, যাদের মধ্যে থাকবে তারাও, যারা এখন নয়াদিল্লিতে রুশী বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে প্রদর্শনীতে যাতায়াত করছে. এই প্রদর্শনী দেখতে আসা লক্ষ্ণৌ শহরের ২৩-বছর বয়সী যুবক শুভম শর্মা ইতিমধ্যেই গুবকিন অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে এ্যাডমিশন কমিশনের কাছে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় সব দলিলপত্র গুছিয়ে নিয়েছে.

 ভারতে লোকে জানে, যে রাশিয়ায় ইঞ্জিনীয়ারিং শিক্ষার মান খুব উঁচু. আমি গুবকিন অয়েল এ্যান্ড গ্যাস ইউনিভার্সিটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করতে চাই. এর আগে আমি লক্ষ্ণৌয়ে পলিটেকনিক কলেজ থেকে পাস করেছি. আমার আশা এই, যে ভারতে ও রাশিয়ায় পাওয়া শিক্ষা আমার বহুদিনের স্বপ্ন সার্থক করবে – আমি পেট্রো-মেকানিক্যাল ইঞ্জিনীয়ারের ডিগ্রি পাব. তবে পরিসংখ্যান এই সাক্ষ্য দিচ্ছে, যে ভারত থেকে উচ্চ শিক্ষালাভের জন্য রাশিয়ায় যাওয়া শিক্ষার্থীদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠরা চিকিত্সাবিদ্যা আয়ত্ত করতে যায়. রাশিয়ার মেডিক্যাল কলেজগুলির মধ্যে ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যার দিক দিয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে তভের মেডিক্যাল অ্যাকাডেমি – সেখানে এখন আটশোরও বেশি প্রবাসী ভারতীয় শিক্ষারত. তভের শহরটি মস্কো থেকে মাত্র ১৭০ কিলোমিটার দূরত্বে অবস্থিত. শিক্ষারত ভারতীয়দের সংখার দিক দিয়ে তার পেছনেই আছে ভলগোগ্রাদ মেডিক্যাল কলেজ. প্রদর্শনীতে কাজান রাষ্ট্রীয় মেডিক্যাল অ্যাকাডেমির প্রতিনিধি মারাত আখমেতভ বলছেন, যে তাদের কলেজেও বছরের পর বছর ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয়. তাদের আকর্ষন করে পরিমিত টিউশন ফি, আরামদায়ক ছাত্রাবাস এবং যেহেতু পঠনপাঠন চলে ইংরাজি ভাষার মাধ্যমে.


মারাত আখমেতভ বলছেন – ভর্তি হতে ইচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী আমাদের স্টলে এসে ভর্তি হওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে সবিশদে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন. বর্তমানে আমাদের মেডিক্যাল অ্যাকাডেমিতে সাড়ে তিনশো ভারতীয় শিক্ষারত. কোর্সের মেয়াদ – ৬ বছর, তারপরে ২ বছর ট্রেনিশিপে থাকা. গতবছর আমাদের কলেজ থেকে ডিগ্রি অর্জন করে দেশে ফেরা ১২০ জন ভারতীয়দের সবাই সাফল্যের সঙ্গে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভারতে ডাক্তারি প্র্যাকটিস করার অধিকার অর্জন করেছে. রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষালাভে ইচ্ছুক ভারতীয় ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা বহুল পরিমানে বাড়তে পারে, যদি শিক্ষাদানের মাধ্যমটি হয় ইংরাজি ভাষা – এরকম মত প্রকাশ করছেন আন্তর্জাতিক বিদ্যাশিক্ষার রুশী কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞরা. রাশিয়ার উচ্চ শিক্ষাকেন্দ্রগুলি ক্রমশঃ এই পথে এগোচ্ছে. আজকের দিনে

রাশিয়ার শুধুমাত্র কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ ও অ্যাকাডেমিতেই ইংরাজি ভাষায় শিক্ষালাভের ব্যবস্থা আছে. টেকনিক্যাল স্ট্রীমে পড়াশোনা করার জন্য প্রথমে ১ বছর প্রস্তুতি বিভাগে রুশী ভাষা আয়ত্ত করতে হয়. ‘রাশিয়ায় উচ্চ শিক্ষাপ্রাপ্তি-২০১৩’ প্রদর্শনীটি নয়াদিল্লিতে সমাপ্ত হওয়ার পরেই চালু হবে কোলকাতায়. আর তারপরে সেটা যাবে চেন্নাই ও মুম্বাইয়ে.