রাশিয়াতে “জাদুঘরের রাত” অনুষ্ঠান হয়ে গেল. প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভ্লাদিভস্তক শহর থেকে বাল্টিক সমুদ্র তীরের কালিনিনগ্রাদ অবধি সারা দেশ জুড়েই বিশাল সংখ্যক মানুষ এই আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন. এটা আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসে পালিত শেষ অনুষ্ঠান, যা সারা বিশ্বে পালিত হয় ১৮ই মে. সবচেয়ে বেশী লোকের “জাদুঘরের রাত” পালিত হয়েছে মস্কো শহরে – তাতে দশ লক্ষেরও বেশী মানুষ যোগ দিয়েছেন.

রাশিয়ার রাজধানীতে এই “জাদুঘরের রাত” নামের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবারে হল সপ্তম বার. আর লোকের ঢল যে নামতে চলেছে, তা আগে থেকেই জানা ছিল. সূর্যাস্ত থেকে মাঝরাত অবধি, আর কিছু জায়গায় একেবারে ভোর পর্যন্ত খোলা এই ধরনের জাদুঘরের সংখ্যাই মস্কোতে ছিল দুশোটিরও ওপরে. এবারে এই অনুষ্ঠান শুধু প্রদর্শনী গুলিতেই হয় নি, বরং তার বাইরেও হয়েছে. “রাত্রের জাদুঘরে পদযাত্রার” সঙ্গে যোগ দিয়ে শহরের রাস্তায় নেমেছে নাচগানের কার্নিভ্যাল, যার সঙ্গে সঙ্গেই একসাথে অনেক গুলি জাদুঘরে যাওয়া গিয়েছে. অনেক মাঝ রাতের অতিথিরা এই রকমই করেছেন. যাঁদের অকাদেমির প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তাঁরা সন্ধ্যাবেলায় গিয়েছিলেন অঙ্কন ও স্থাপত্যের প্রকৃষ্ট এক জাদুঘর, যা বিশ্ব বন্দিত কবি পুশকিনের নামাঙ্কিত, সেখানে গিয়েছিলেন, কারণ সেখানে দেখানো হয়েছে বেঁচে ওঠা স্থাপত্যের এক অসাধারণ শো, আর রাত বাড়ার সঙ্গে তাঁরা গিয়েছেন “তসারিতসিনো” জাদুঘর ও উদ্যানে, যাতে সেখানে বসে খোলা আকাশের নীচে শোনা যায় সিম্ফনিক অর্কেস্ট্রা বাদন. যাঁরা শুধুই নতুন যুগের শিল্পে আগ্রহী, তাঁদের জন্য প্রিয় হয়েছিল আধুনিক শিল্প জাদুঘর. মস্কোর একটি সবচেয়ে জনপ্রিয় জাদুঘর এখন জায়গা নিয়েছে এক পুরনো মদ উত্পাদনের কারখানাতে. এটার নাম “ভিনজাভোদ” সেন্টার. এই কমপ্লেক্সের সামনের চত্বরে বহু সংখ্যক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন – সেখানে আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল যে, আকাশে বেলুন ছাড়া হবে. অবশ্যই সেখানে যুবক যুবতীরা সংখ্যায় ছিল বেশী. বিরাট এক যুব দল এখানে এসেছিল বিশেষ করে বিংশ শতকের স্পেনের এক বিখ্যাততম শিল্পী হুয়ান মিরো কি এঁকেছেন তা দেখতে, মস্কো শহরে এই প্রদর্শনী নিয়ে আসা হয়েছে মাইওরকা নামের জায়গা থেকে. এক ভবিষ্যতের স্থপতি মেয়ে লারিসা কভালিওভা এই প্রদর্শনী দেখে নিজের অনুভূতি ভাগ করে বলেছেন:

“সম্পূর্ণ অসাধারণ এক আনন্দের অনুভূতি হচ্ছে! এমন একটা অনুভূতি, যেন তুমি নিজেই মিরো যেখানে বসে আঁকছেন, সেই স্টুডিওতে রয়েছো. তিনি আমার প্রিয় শিল্পী. সত্যিই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে তাঁর কাজের ঘরটিকে, সমস্ত রকমের আসবাব পত্র সমেত, আর অবশ্যই তাঁর আঁকার প্যালেট এনে রাখা হয়েছে. বহু ছবি রয়েছে, সবই খুব ইতিবাচক. এটা এত আশাবাদী অতিবাস্তববাদ! এক কথায় খুব ভাল!”

অবশ্যই খুব ভাল শুধু মস্কো শহরেই ছিল না. সেন্ট পিটার্সবার্গে যেমন “হিপিদের রাত” পালিত হয়েছে কানে শোনার হেডফোন লাগিয়ে ডিস্কো নাচের আসর বসিয়ে. নভোসিবিরস্ক শহরে সাইবেরিয়ার প্রজাতিদের ইতিহাস নিয়ে জাদুঘরে পাথরের যন্ত্র ও অন্যান্য সব অস্ত্র তৈরী আর প্রাচীন কালের বোনার কায়দা নিয়ে বিশেষ রকমের শেখার ব্যবস্থা করা হয়েছিল. আর ভলগা নদী পারের নিঝনি নভগোরদ শহরে জাদুঘরের কর্মীরা ঐতিহাসিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি নিয়ে প্যারেড শুরু করেছিলেন, সত্যিকারের কামান থেকে গোলা ছুঁড়ে!