কয়েকদিন আগে ভারতীয় নৌবহরের যুদ্ধ বিমানের বাহিনীতে ৩০৩ নম্বর স্কোয়াড্রন যোগ করার এক আনুষ্ঠানিক উত্সব পালন করা হয়েছে, যা রাশিয়া থেকে আমদানী করা মিগ- ২৯কা যুদ্ধ বিমান দিয়ে সম্পূর্ণ করা হয়েছে. এর অর্থ হল যে, ভারতীয় নৌবহর নীতিগত ভাবে একেবারেই নতুন সম্ভাবনা পেয়েছে, যা নিজেদের সমুদ্র তীর থেকে বহুদূরে শক্তি প্রয়োগের জন্য কাজে লাগতে পারে, যা আপাততঃ অন্য কোনও এশিয়ার দেশের আয়ত্বের মধ্যে নেই, - এই রকম মনে করেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন.

মিগ – ২৯কা – একেবারেই নতুন করে আধুনিকীকরণ করা মিগ – ২৯ বিমান. তা খুব কমই রেডিও অবস্থা নির্ণয় করার সুযোগ দেয়, তার ওড়ার পাল্লাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে আর বিমানের মধ্যেই রয়েছে শক্তিশালী রেডিও লক্ষ্য নির্ণয়ের ব্যবস্থা. মিগ- ২৯কা বিমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষত্ব হল যে, এটা শুধু আকাশেই নতুন করে জ্বালানী ভরতে পারে না বরং নিজেই যদি তাতে আলাদা করে ভর্তি করার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয় তবে উড়ন্ত অবস্থায় অন্য বিমানেও জ্বালানী ভরতে পারে. এই বিমানের ওড়ার সবচেয়ে বেশী দূরত্ব এমনিতেই ৩০০০ কিলোমিটার, আর তার পরে আর একবার জ্বালানী ভরে দেওয়া হলে উড়ে যেতে পারে ৫৫০০ কিলোমিটার. ২০০৪ সালে মিগ- ২৯কা ও মিগ – ২৯কাউবে (দুজন বিমান চালকের উপযুক্ত) বিমান ক্রয়ের প্রথম চুক্তি অনুযায়ী ভারত পেয়েছে ১২টি বিমান (সরবরাহ শেষ করা হয়েছে ২০১১ সালে, আর ২০১০ সালে আরও ২৯টি বিমান দেড়শো কোটি ডলারের বিনিময়ে সরবরাহ করার চুক্তি করা হয়েছে.

ভারতীয় সামরিক বাহিনীর নেতৃত্বের ঘোষণা অনুযায়ী ও ভারতীয় সমরাস্ত্র বৈজ্ঞানিকদের কাজ অনুযায়ী, ভারতীয় নৌবহরের সামনে কাজ ছিল ভারত মহাসাগরের জলসীমার মধ্যে নিজেদের শক্তি প্রয়োগ করার উপযুক্ত প্রয়োজনীয় ক্ষমতা অর্জন করা, আর পরবর্তী কালে – বিশ্বের আরও দূরবর্তী এলাকাতেও তা করতে পারা. রাশিয়া থেকে নতুন বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ যোগাড় করার পরে ও তাতে জাহাজের উপরে ওঠানামায় সক্ষম স্কোয়াড্রন আধুনিক যুদ্ধ বিমান যোগ করার পরে, এই দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে.

মিগ – ২৯কা খুবই সহজে নিজের সম্ভাবনা অনুযায়ী সু- ৩৩ বিমানের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে, যে বিমানকে নকল করে চিনে বানানো হয়েছে জে -১৫ যুদ্ধ বিমান. এই প্রসঙ্গে মিগ- ২৯কা আকৃতিতে ছোট হওয়ার কারণে আবার জাহাজের উপরে অনেক বেশী বিমান রাখার সম্ভাবনা করে দেয়. রাশিয়ার নৌবহর ২০১২ সালে ২৪টি মিগ- ২৯কা ও মিগ-২৯কাউবে বিমানের বায়না দিয়েছে, যা রাশিয়ার অ্যাডমিরাল কুজনেত্সভ নামক বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজের প্রধান দল হতে চলেছে.

মিগ – ২৯ প্রকল্পের নতুন করে তৈরী করা, যা ভারতীয় নৌবহরের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী করা হচ্ছে, তা এই ধরনের বিমানের একটি ভূমি থেকে ওড়ার যোগ্য এক নতুন রকমের ধরণ তৈরীতে সাহায্য করেছে – মিগ- ২৯এম ও মিগ- ২৯এম২ (দুজন পাইলটের জন্য). তার ভিত্তিতেই আধুনিকীকরণের প্রকল্প হয়েছে মিগ- ২৯ইউপিজি বিমান. ভারতের বিমান বাহিনী ২০০৮ সালে চুক্তি করেছে ৫৩টি ভারতীয় মিগ- ২৯ বিমানকে ৯-১২বি ধরণ থেকে মিগ-২৯ইউপিজি ধরনের আধুনিকীকরণ করার, আর নটি মিগ-২৯উবে বিমান, যেগুলি ছিল ৯-৫১ ধরনের, সেই গুলিকে আধুনিকীকরণ করে মিগ- ২৯উবে-ইউপিজি বানিয়ে নেওয়ার.

ভারতীয় বিমানবাহিনীকে প্রথম এই ধরনের বিমান সরবরাহ করা হয়েছে ২০১২ সালে. মিগ-২৯কা প্রকল্পের ভিত্তিতে আধুনিকীকরণ এই বিমানের যুদ্ধের ক্ষমতাকে অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে. তাই ভারতের পক্ষ থেকে নতুন করে উত্পাদিত মিগ-২৯ইউপিজি বিমান আরও ক্রয়ের সম্ভাবনাকেও বাতিল করা যায় না.

মিগ-২৯ বিমানের সম্পূর্ণ আধুনিক করে তৈরী ধরণ রাশিয়া সেই সমস্ত দেশে রপ্তানীর কথা ভাবছে, যারা আগে মিগ-২৯ বিমানের অন্যান্য ধরণ ব্যবহার করেছে. এই ক্ষেত্রে ক্রেতারা অনেক অর্থ কম খরচ করতে পারবে, কারণ এর জন্য আলাদা করে পরিকাঠামো, মেরামত ও পরিষেবার ব্যবস্থা ও প্রশিক্ষণে খরচ খুব বেশী হবে না. নতুন মিগ-২৯ ধরনের বিমান তৈরী করা হয়েছে খুব একটা ধনী নয় অথচ উন্নতিশীল দেশ গুলির জন্য, যারা নিজেদের জন্য আরও ভারী ও শক্তিশালী সু মার্কা যুদ্ধবিমান কিনতে অপারগ. মিগ-২৯ বিমানের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হবে চিনের বিমান গুলি, যেমন জে- ১০ ও এফসি-১.