অর্থনীতির বিরুদ্ধে প্রকৃতি উপস্থিত. রাষ্ট্রসঙ্ঘের হিসাব মতো একবিংশ শতকের শুরু থেকে মানব সমাজ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে হারিয়েছে দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার কোটি ডলার. প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমানো ও তার পরিণতি সবচেয়ে কম করার জন্য রাষ্ট্র ব্যক্তিগত ব্যবসার সঙ্গে হাত মিলিয়ে কাজ করতে পারত, এই রকমই মনে করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষজ্ঞরা.

এখন বিপর্যয়ের পরিণতি সম্পূর্ণ ভাবে হিসাবের মধ্যে আনা যাচ্ছে না, জোর দিয়ে বলা হয়েছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের রিপোর্টে, যাতে ৫৬টি দেশের প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে ক্ষতির পর্যালোচনা করে দেখানো হয়েছে. তারই মধ্যে শুধু ২০১২ সালেই ৩১০টির বেশী প্রাকৃতিক বিপর্যয় হয়েছে – ভূমিকম্প, বন্যা, ঝড়, যা থেকে বিশ্বের দশ লক্ষেরও বেশী মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়নে এখন মূল অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে ঝড় ও ভূমিকম্প থেকে. কিন্তু ঝুঁকি রয়েছে যা এখনও সম্পূর্ণ মাত্রায় কখনও হয় নি, তার থেকেও. যেমন, মানব সমাজকে আপাততঃ, কোন বড় উল্কা বা গ্রহাণুর আঘাত থেকে ঘটা পরিণতির সমানে দাঁড়াতে হয় নি. যদিও চেলিয়াবিনস্কের কাছে একটি নাতিবৃহত্ গ্রহাণুর পতন থেকে বিচার করা সম্ভব যে, বিপর্যয়ের মাত্রা কি রকমের হতে পারে, এই কথা উল্লেখ করে গুবকিনের নামাঙ্কিত খনিজ তেল ও গ্যাস ইনস্টিটিউটের প্রফেসর আলেকজান্ডার লোবুসেভ বলেছেন:

“প্রধান প্রাকৃতিক বিপর্যয়, যা মানব সমাজকে উদ্বিগ্ন করেছে তা মহাকাশের সঙ্গে আর পৃথিবীর আভ্যন্তরীণ শক্তির সঙ্গে জোড়া রয়েছে. মহাকাশের ঘটনা, এটা প্রধানতঃ বড় উল্কা ও গ্রহাণু, যা যেমন স্থল ভূমিতে তেমনই জলেও পড়তে পারে. ফলে সেই গুলি বড় আকারের ত্সুনামি ডেকে আনতে পারে, যার পরিণতি ভয়ঙ্কর. পৃথিবীর ভিতরের শক্তি সম্বন্ধে যা বলা হতে পারে, তা হল প্রাথমিক ভাবে সেই ভূমিকম্প, তার ফলেও ত্সুনামি হতে পারে. যদি এই ব্যাপার ঘন জন বসতি পূর্ণ এলাকায় হয়, তাহলে মানুষের মৃত্যু হতে পারে খুবই বড় সংখ্যায়”.

বর্তমানের সভ্যতার বেদনা দায়ক বিন্দু গুলি বিশেষজ্ঞের মতে, হয়ে দাঁড়াচ্ছে বড় শহর ও তার বিশাল লোকসংখ্যা, যাতে রয়েছে বহু জটিল পরিকাঠামো, আর তারই সঙ্গে যান্ত্রিক সমস্ত কেন্দ্র, যেমন প্রাথমিক ভাবে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র. তাদের উপরে কোন রকমের বিপর্যয় বহু গুনে বাড়িয়ে দিতে পারে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধ্বংসের ক্ষমতা. উদাহরণ জাপানের ফুকুসিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র, যার জলজ্যান্ত প্রমাণ.

আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি কমাতে পারে, কিন্তু মানব সমাজ যথেষ্ট শক্তি প্রয়োগ করছে না এই দিকে, এই রকম মনে করে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ বরিস রেঝাবেক বলেছেন:

“বর্তমানের প্রযুক্তি বিশারদরা যা করছেন, তা শুভ বুদ্ধির থেকে অনেক দূরের বিষয়. প্রযুক্তি বৃদ্ধি হচ্ছে কোন রকমের সামঞ্জস্য না রেখে ও তা হচ্ছে ক্ষুদ্র স্থানীয় কাজের দিকে তাকিয়ে. নিজে থেকে প্রযুক্তি স্রেফ একটা হাতিয়ার. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আজকের দিনে হল রাজনৈতিক শুভেচ্ছা, কিন্তু মানব সমাজ খুবই বহুধা বিদীর্ণ হয়ে রয়েছে. তাই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করে পারছে না, যার সঙ্গে মানব সমাজ নীতিগত ভাবে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রয়োগে সংগ্রামের উপযুক্ত”.

আজ বিশেষজ্ঞরা দুটি প্রাকৃতিক বিপদ থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য প্রধান পথের কথা বলেছেন – এটা পূর্বানুমান ও জানান দেওয়ার ব্যবস্থার উন্নতি ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে সামাল দিতে পারে, এই ধরনের বাড়ীঘর ও পরিকাঠামো নির্মাণের. কিন্তু বিশেষজ্ঞরাই স্বীকার করেছেন যে, ব্যবসা এখনও এই ধরনের খরচা করার জন্য কমই তৈরী. বরং উল্টো, অনেক সময়েই নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় খরচা কম করা হচ্ছে. ফুকুসিমা বিপর্যয়ের পরে যে শোচনীয় পরিণতি হয়েছে, তা কিছু বিশেষজ্ঞের মতে, বিপদের সঠিক মূল্যায়ণ না করা ও এই কেন্দ্রের কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে বাড়তি অর্থনৈতিক খরচ না করার ইচ্ছার উপরেই কিছুটা নির্ভর করছে.