রাশিয়ার সাথে সহযোগিতার ক্ষেত্রে আগামী কয়েক
দশক ধরে ভারতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসাবে থেকে যাবে জ্বালানী
শক্তি. এই বিষয়ে সুনিশ্চিত নয়াদিল্লি স্থিত ইনস্টিটিউট অফ পিস এ্যান্ড কনফ্লিক্ট
স্টাডিজের অধ্যাপক বলদাস ঘোষাল. সম্প্রতি তিনি মস্কো ঘুরে গেলেন রাষ্ট্রীয়
মানবতাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে. এখানে তিনি রাশিয়ার সম পেশার লোকজনের সাথে
মতবিনিময় করেছেন, মস্কোর উচ্চ শিক্ষায়তনগুলির ছাত্রছাত্রীদের সামনে বক্তব্য
রেখেছেন. অধ্যাপক ঘোষাল উল্লেখ করেছেন, যে বিগত কয়েক বছর ধরে দেশের অর্থনৈতিক
উন্নয়নের জন্য এবং কেন্দ্রীয় বিদেশনীতির মুখ্য অভিমুখ অনুসরণ করার লক্ষ্যে মূল
কর্তব্য হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতের জ্বালানী শক্তি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা. এক্ষেত্রে
ভারতের বিশ্বস্ত অগ্রগণ্য স্ট্র্যাটেজিক দোসর রাশিয়ার সাথে পারস্পরিক তালমিল রেখে
কাজ করা বিশেষ তাত্পর্য্য বহন করে.-

অধ্যাপক বলরাম ঘোষাল উল্লেখ করছেন, যে রাশিয়া
থেকে খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানী করা ও এই ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী সহযোগিতা
ভারতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষতঃ পৃথিবীর অন্যান্য এলাকার তুলনায়,
যেখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি টালমাটাল, রাশিয়া থেকে আমদানী অনেক বেশি নিরাপদ ও
নির্ভরযোগ্য. ‘সাখালিন-১ প্রকল্পের ২০ শতাংশ শেয়ারের অধিকারি ভারতের ওএনজিসি
কর্পোরেশন. ঐ প্রকল্পের আওতায় রাশিয়ার গাজপ্রোম ইতিমধ্যেই পাঁচ দফায় বড় পরিমানে
ভারতকে তরল গ্যাস সরবরাহ করেছে, ভারত আরও পেয়েছে ১ কোটি টন খনিজ তেল. এই
কর্মধারাকে গভীরতর করার প্রয়াসী ওএনজিসি তোমস্ক রাজ্যে একটি ভূগর্ভস্থ তেল ও গ্যাস
ভান্ডার থেকে খনিজ পদার্থ নিষ্কাশনের লাইসেন্স কিনেছে. ‘সাখালিন-৩’ প্রকল্পে আমাদের সম্ভাব্য যোগদান নিয়েও
কথাবার্তা এগোচ্ছে. ভারতের আভ্যন্তরীন বাজারে গ্যাস পরিবহনের পরিকাঠামো গড়ার
কাজেও রাশিয়ার যোগদানের ব্যাপারে আমরা আগ্রহশীল. ‘বরোদা-দহেজ উরান’, ‘বারুচ-জামনগর’,
‘বিজাপুর-দাদরি’ সহ একসারি অন্তর্দেশীয় গ্যাস পাইপলাইনস্থাপন করার কাজে রাশিয়ার
স্ত্রোইট্রান্সগাজ কোম্পানি বড় অবদান রেখেছে. নতুন নতুন
পাইপলাইন বসানোর কাজেও তাদের সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে. বার,
কোরবা তাপবিদ্যুত্ কেন্দ্র, কোটেশ্বর জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণের সফল অভিজ্ঞতার
ওপর ভরসা রেখে ভারত রাশিয়ার সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলির পরবর্তী বড় বড় তাপ ও
জলবিদ্যুত্ কেন্দ্র গড়ার প্রকল্পগুলিতে যোগদানের আশা রাখছে.


0অধ্যাপক বলদাস ঘোষাল স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যে


0বিদ্যুত্শক্তি উত্পাদনে ইন্দো-রুশী সহযোগিতার ক্ষেত্রে পারমানবিক বিদ্যুত্ বিশেষ


0ভূমিকায় থেকেই যাচ্ছে.-



0অধ্যাপক ঘোষাল বলছেন – এই ক্ষেত্রে বিপুল


0কর্মকান্ড চলছে. রাশিয়া কুদানকুলামে পারমানবিক বিদ্যুত্কেন্দ্র স্থাপন ও


0রিএ্যাকটরগুলি নির্মাণের কাজে অংশ নিচ্ছে. সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দারা অন্যের


0মুখে ঝাল খেয়ে রিএ্যাকটরগুলি চালু করতে না দেওয়ার জন্য আন্দোলনে নেমেছিল. তবে


0সরকার সেই সমস্যা মিটিয়ে ফেলেছে, কারণ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পারমানবিক বিদ্যুত্শক্তির


0যোগান একান্তই অপরিহার্য. প্রথম রিএ্যাকটরটি সেখানে চালু হওয়ার মুখে. চুক্তি


0অনুযায়ী রাশিয়ার আরও ৩টি রিএ্যাকটর ভারতকে বিক্রি করার কথা. ভারতের বিশেষজ্ঞ সমাজ


0পারমানবিক বিদ্যুত্শিল্পে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার উত্তম পরিপ্রেক্ষিত সম্পর্কে


0স্থিরবিশ্বাসী.



0সব শেষে অধ্যাপক বলদাস ঘোষাল বলছেন – “শুধুমাত্র খনিজ জ্বালানী


0পদার্থ সরবরাহতেই ইন্দো-রুশী সহযোগিতা সীমাবদ্ধ নেই. পরিকাঠামো গড়া, ভারী


0প্রযুক্তি সরবরাহও এই সহযোগিতা ক্ষেত্রের অন্তর্ভুক্ত, যেটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ”.