গত সপ্তাহজুড়ে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক বেশি সক্রিয় ছিলেন। রাশিয়ার সোচি নগরীতে রাষ্ট্রপতির বাসভবনে পুতিন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনসহ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রনেতাদের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। এতে অর্থনীতি, আসন্ন শীতকালিন অলিম্পিক গেমস, মানবিক খাতে উন্নয়ন করাসহ বিশ্ব রাজনীতির এ সময়ের সবচেয়ে আলোচ্য ঘটনা সিরিয়া সংকট নিয়ে আলোচনা হয়।

পুতিনের সাথে সোচিতে প্রথম যিনি সাক্ষাত করেন তিনি হচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। রুশ রাষ্ট্রপতি ওই সাক্ষাতে বলেন, সিরিয়া পরিস্থিতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরীর হুমকি দিচ্ছে। তাই এ সংকট নিরসণে আগ্রহী প্রতিটি পক্ষকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পুতিন আরো বলেন, "ইসরাইলি সহকর্মির সাথে আমাদের একই দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। আর তা হলো, সিরিয়ায় এ যুদ্ধ চলতে থাকলে সে দেশের জন্য অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থার সৃষ্টি করবে। এ পথ থেকে উত্তরনের একমাত্র উপায় হচ্ছে যত দ্রুত সম্ভব অস্ত্রযুদ্ধ বন্ধ করা।"

ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেন, সিরিয়া প্রশ্ন নিয়ে রাশিয়া ও ইসরাইলের মধ্যে রাষ্ট্রীয় ও গোয়েন্দা সংস্থা পর্যায়ে আলাপ-আলোচনা অব্যহত থাকবে।

গত ১৫ মে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী এনগুয়েন তান দুংয়ের সাথে সোচিতে সাক্ষাত করেন। উভয় দেশের নেতারা রাশিয়া-ভিয়েতনাম স্ট্রাটেজিক সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার দৃড়তা পুনঃব্যক্ত করেন। পুতিন বলেন, মস্কো ও হ্যানয়ের মধ্যে অর্থনীতি, শুল্ক ইউনিয়ন, জ্বালানী ও সামরিক প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় রাশিয়ার জন্য অন্যতম বানিজ্য সহযোগি দেশ হচ্ছে ভিয়েতনাম। পুতিন আরো বলেন, "বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা সত্বেও গত বছর দুই দেশের মধ্যে বানিজের পরিমাণ শতকরা ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। যদিও এই পরিসংখ্যান আরো বেশি হওয়ার সম্ভাবনা ছিলো। তবে ইতিবাচক দিক আমরা দেখতে পাচ্ছি।"

মস্কো-হ্যানয়ের মধ্যে স্ট্রাটেজিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ হতে যাচ্ছে রাশিয়া, বেলারুশ ও কাজাকিস্তানকে নিয়ে গঠিত শুল্ক ইউনিয়নে ভিয়েতনামের যোগদান। এ ঘটনাকে রাশিয়া এবং ওই অঞ্চলের দেশগুলোর সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এক মাইল ফলকে উন্নীত হওয়া বলে অভিহিত করেছে ভিয়েতনাম সরকার। রাশিয়ায় ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ সফরে দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন খাতে একাধিক চুক্তিপত্র সই হয়।

১৬ মে ভ্লাদিমির পুতিন ও দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জুমার সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরমাণু জ্বালানি বিষয়টি আলোচনায় প্রধান গুরুত্ব পায়। আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার দেশটিতে ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ করে অন্তত ১০টি জ্বালানি চুল্লি নির্মাণ করার পরিকল্পনা করছে। পরমাণু প্রযুক্তি নির্ভর রাশিয়ার রসআতোম কোম্পানি এ খাতে সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রস্তুত রয়েছে।

১৭ মে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সাথে বৈঠকে মিলিত হন। পুতিন বিশ্ব রাজনীতিতে জাতিসংঘের ভূমিকা ও বিশেষকরে সংস্থার প্রধান হিসেবে বান কি মুনের অবদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নিজের বক্তব্যে জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, "আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে রাশিয়া শীর্ষ ভূমিকা পালন করে চলছে। তিনি আরো বলেন, সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠ্রেয় জি- ২০ সম্মেলন, সোচিতে ২০১৪ অলিম্পিক গেমস ও রাশিয়ার প্রতিনিধিত্বে আয়োজিত জি-৮ সম্মেলনকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এখন দৃষ্টি রাশিয়ার দিকে।"