চলতি সপ্তাহজুড়ে মস্কো, লন্ডন, ওয়াশিংটন, আংকারা, প্যারিস ও বার্লিনে সিরিয়া সংকট নিরসণ সংক্রান্ত আসন্ন জেনেভা-২ সম্মেলন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়। এক অর্থে বলা যায় সিরিয়া প্রশ্ন অন্যান্য কূটনৈতিক বিষয়গুলিকে দ্বিতীয় সারিতে সরিয়ে রেখেছে।

গত ১৭ মে রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুনের সাথে সোচিতে সাক্ষাত করেন। সিরিয়া সংকট নিয়ে রাশিয়ার দৃষ্টিভঙ্গি পুনরায় ব্যক্ত করেন পুতিন। সেই দিনই তিনি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সাথে টেলিফোনে আলাপ করেন। আর ১৬ মে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জ্যুমার সঙ্গে সিরিয়া বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। ওই দিনই সিরিয়া সম্মেলন আয়োজন নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা করেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ও তুর্কি প্রধানমন্ত্রী এরদোগান।

0জেনেভা-২ সম্মেলনকে কূটনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ। সিরিয়ায় অত্যাধুনিক জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র পাঠিয়েছে রাশিয়া, এ নিয়ে পশ্চিমা গণমাধ্যমের সংবাদকে তাকে বেশ কয়েকবার অস্বীকার করতে হয়েছে। সোচিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের সাথে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে ল্যাভরোভ বলেন, এ ধরণের কোন কিছুই ঘটে নি। তিনি আরো বলেন, “গণমাধ্যম কেন বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি করতে চাইছে তা তার বোধগম্য নয়। আমরা চুক্তি মোতাবেক সিরিয়ায় অস্ত্র সরবরাহ করছি এবং তা গোপন করছি না। রাশিয়া আন্তর্জাতিক নিয়ম ভেঙে কোনো কিছু সরবরাহ করেনি। সিরিয়ায় বিদেশি সামরিক আগ্রাসন মোকবেলায় ওই সব অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে।“

ওদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের মুখপাত্র জেনিপার পাসাকি জানান, ইয়াখোন্ত ক্ষেপণাস্ত্রের আধুনিক সংস্করণ রাশিয়ায় যে সিরিয়ায় সরবরাহ করেছে সেই ধরণের কোন তথ্য তাদের কাছে নেই। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অস্ত্র সরবরাহের এই খবরকে পরিস্থিতি উল্টোদিকে মোড় নেয়ার জন্য সিরিয়ার বিরোধীজোটের অপচেষ্টা বলে দাবী করা হচ্ছে। চলতি সপ্তাহে সিরিয়ার এক সেনাকে হত্যার পর তাঁর কলিজা ও হৃৎপিণ্ড চিবিয়ে খেয়েছেন বিদ্রোহী জোটের এক সেনা। ভিডিওটি বিশ্বের সবকটি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচার করা হয়। অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, রাষ্ট্রপতি বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনীর একদল অপহরণ হওয়া সৈন্যদের গনফাঁসি দেয়া হয়। এই বর্বর আচরণের ভিডিও প্রকাশের পর সরকারবিরোধীদের তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ তাদের আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ তালিকায় আল-নুসরা ফ্রন্টের প্রধান নেতা মোহাম্মেদ আল-জাভলানির নাম তালিকাবদ্ধ করেছে।

জেনেভা-২ সম্মেলন আয়োজন করতে আয়োজকদের অনেক সমস্যার সম্মুখিন হতে হচ্ছে। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে সম্মেলনে অংশ নিতে সিরিয়ার বিরোধীজোটের প্রতিনিধি দল নির্বাচন করতে পারে। কিন্তু আপাতত আমাদের মধ্যে ঐক্যমতের অভাব রয়েছে। ল্যাবরোভ বলেন, “এখন সবচেয়ে প্রধান বিষয় হচ্ছে আসন্ন সম্মেলনে সিরিয়ার কোন পক্ষ অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছে তাই দেখতে চাই। আর এ ছাড়া কোন কিছুই হবে না। দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে বিভিন্ন দেশ থেকে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা করা। তবে ২০১২ সালে যারা জেনেভা সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাদের সবাইকে আমন্ত্রণ জানানো হবে। তবে গতবার ইরান ও সৌদি আরব সম্মেলনে উপস্থিত ছিলো না। সিরিয়ার প্রতিবোশী প্রত্যেকটি দেশেরই সম্মেলনে অংশ নেয়া উচিত।“

গত ১৬ মে ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠিত সাক্ষাতে বারাক ওবামা ও তাইপ এরদোগান সিরিয়া বিষয়ক আসন্ন সম্মেলন নিয়ে আলোচনা করেন। তুর্কি প্রধানমন্ত্রী সিরিয়া বিষয়ক জেনেভা সম্মেলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে ওই সম্মেলনে রাশিয়া ও চীনের অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ওই দিনই ওয়াশিংটনে সংবাদ সম্মেলনে এরদোগান বলেন, সিরিয়ায় নো ফ্লাই জোন হিসেবে ঘোষণা করার সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র নিরাপত্তা পরিষদ নিতে পারে।