আগামী রবিবারেই যদি রাশিয়াতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হত, তবে ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ভোট দিতেন রাশিয়ার শতকরা ৫৬ ভাগ ভোটার. এই রকমের তথ্য যোগাড় করতে পেরেছেন রবিবারের প্রশ্নোত্তরের শেষে নাগরিক সমাজ উন্নয়ন তহবিলের কর্মীরা এক জনমত গ্রহণের পরে.

ভ্লাদিমির পুতিনের সমর্থকদের সংখ্যা দ্বিতীয় দশকেও বাস্তবে প্রায় একই রয়ে গিয়েছে. ২০০৫ সালে, ভ্লাদিমির পুতিনের দ্বিতীয়বার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার এক বছর পরে জনগনের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা একই রকম হয়েছিল, যা আজ দেখা যাচ্ছে. এই রাজনৈতিক প্রপঞ্চকেই রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা বলেন পুতিনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা, এই রকমের মন্তব্য করে রাশিয়ার প্লেখানভ নামাঙ্কিত অর্থনৈতিক অকাদেমির উপাচার্য সের্গেই মারকভ বলেছেন:

“প্রতিদ্বন্দ্বীদের ক্রুদ্ধ আক্রমণের পরেও, পুতিনের সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থকরা দীর্ঘকাল ধরেই স্থিতিশীল রয়ে গিয়েছে. পুতিন ক্ষমতায় এসে যখন দেখাতে পেরেছেন যে, তাঁর ক্ষমতা আছে দেশের সামনে উপস্থিত বাস্তব সমস্যা সমাধানের, তখন তা যেমন তৈরী হয়েছিল, সেই ভাবেই আজও রয়েছে”.

এর মধ্যেই পুতিনের ভোটে জয়ের ক্ষমতা তাঁর জনপ্রিয়তার চেয়েও বেশী. যেমন, ২০১২ সালের নির্বাচনের সময়ে ভ্লাদিমির পুতিন জিতেছিলেন শতকরা ৬৩ ভাগ ভোটে. আজও একই রকমের চিত্র দেখা যেতে পারত, তাই সের্গেই মারকভ বলেছেন:

“এখন চলছে সক্রিয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী তৈরী হওয়া, যা কোন এক রকম ভাবে ভ্লাদিমির পুতিনকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে. কিন্তু, প্রথমতঃ, এই সক্রিয় সংখ্যালঘু গোষ্ঠী কম লোকের – প্রায় ১০ – ১৫ ভাগ জনগন – আর তারা পুতিনের সংখ্যা গরিষ্ঠ দের সঙ্গে পেরে উঠছে না. দ্বিতীয়তঃ, এমনকি এই সক্রিয় সংখ্যালঘুরা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আবার ভ্লাদিমির পুতিনের দলে ফিরতেও পারে. যেমন, সেই ক্ষেত্রে, যদি সক্রিয় সংখ্যালঘুদের প্রাথমিক কাজের এলাকায় আশানুরূপ পরিবর্তন ঘটে”.

এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, পুতিনের এই ধরনের উঁচু রেটিং অনেকটাই বিপরীতে কেউ না থাকাতে ঘটছে. গত মাসে দেশের তিনটি খ্যাতনামা জনমত সংগ্রহকারী সংস্থা ভ্লাদিমির পুতিনের জনপ্রিয়তা নিয়ে জনমত সংগ্রহ করে দেখেছে, কিন্তু কেউই এমন কোনও রাজনৈতিক নেতাকে উল্লেখ করতে পারে নি, যিনি ভ্লাদিমির পুতিনের চেয়ে বেশী জনপ্রিয়, যদিও এই তথ্যের মধ্যে সংখ্যার কিছু পার্থক্য আছে. অংশতঃ, লেভাদা সেন্টার, ২০১৮ সালেও কি পুতিনের বিকল্পে কাউকে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসাবে দেখতে চান – এই প্রশ্নের উত্তরে ইতিবাচক উত্তর পেয়েছে শতকরা ৪১ ভাগ. কিন্তু এই ক্ষেত্রেও দেখতে পাওয়া গিয়েছে যে, বর্তমানের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে কাউকেই জনগন আগামী রবিবারে ভোট হলে শতকরা দশ ভাগ ভোটও দিতেন না. নাগরিক সমাজ উন্নয়ন তহবিলের জনমত গ্রহণে দেখা গিয়েছে যে, মত যাঁরা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে শতকরা ৪৬ ভাগ বিরোধী নেতাদের মধ্যে কাউকেই পুতিনের চেয়ে ভাল রাষ্ট্রপতির কাজ করতে পারেন বলে মনে করেন না. আর রাশিয়ার শহর গুলিতে থাকা শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ বলেছেন যে, তাঁরা কোন রকমের বিরোধ মিছিলে যোগ দিতেই যাবেন না.