এই সপ্তাহে সিরিয়ার প্রশ্ন অন্যান্য কূটনৈতিক বিষয় গুলিকে দ্বিতীয় সারিতে সরিয়ে রেখেছে. রাশিয়ার প্রশাসনের সদস্যদের সঙ্গে সোচী শহরে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিব বান কী মুনের দেখা হওয়ার সময়ে একটি মুখ্য বিষয় ছিল জেনেভাতে সিরিয়া নিয়ে নতুন সম্মেলনের আয়োজন. ১৬ই মে সিরিয়ার সঙ্কট নিরসনের বিষয়ে একই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি জ্যাকব জ্যুমার সঙ্গে. “জেনেভা – ২” নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তৈপ এর্দোগান.

মস্কো শহরে পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেছেন যে, রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন একসারি দেশের সঙ্গে কথা বলছেন, যাদের সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রশ্নে ডেকে আনার দরকার রয়েছে. আর আমেরিকার পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, “জেনেভা – ২” সম্মেলনের জন্য ঐক্যবদ্ধ সিরিয়ার বিরোধী জোট গড়তে সহায়তা করা হবে. এই সম্মেলন প্রস্তুতির প্রশ্ন সামগ্রিক ভাবে মস্কো শহরে মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জন কেরির সফরের সময়ে সমঝোতা করা হয়েছিল ৭ই মে তারিখে. জুন মাসের শুরুতে এটা করার কথা রয়েছে.

এই সম্মেলন দামাস্কাসের প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে আলোচনায় বসাতে উত্সাহ যোগানো ও রক্তক্ষয় বন্ধ করার চেষ্টা হওয়া উচিত হবে. এই বিষয়ে এক বিশদ সাক্ষাত্কারে লেবাননের “আল-মায়াদিন” টেলিভিশন চ্যানেলে ঘোষণা করে সের্গেই লাভরভ বলেছেন:

“আমরা ঠিক মনে করি না যে, বাইরের দেশের ক্রীড়নকরা সামাজিক- রাজনৈতিক গঠন বদলের জন্য কাজ করুক ও সিরিয়ার লোকদের জন্য কোন রকমের ড্রয়িং করে দিক. সিরিয়ার লোকদের এটা নিজেদের করার কথা. এটা খুব একটা সহজ কাজ হবে না ও দীর্ঘ দিনের ব্যাপার হতে পারে, কিন্তু শুধুমাত্র এই ক্ষেত্রেই একটা স্থিতিশীল সমঝোতা নিয়ে আশা করা যেতে পারে”.

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তৈপ এরদোগানের সঙ্গে আলোচনার শেষে ওয়াশিংটনে সাংবাদিক সম্মেলনে মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা পরিকল্পিত জেনেভা সম্মেলন নিয়ে খুবই সাবধানী হয়ে এক আশাবাদী অভিমত প্রকাশ করেছেন. এটাও সত্য যে, তিনি অবশ্য যোগ করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দামাস্কাসের উপরে চাপ দেওয়া থেকে বিরত হবে না ও আগের মতই মনে করে যে, রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ তাঁর ক্ষমতা অন্তর্বর্তী কালীণ প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে বাধ্য. এই প্রসঙ্গে ওবামা বলেছেন:

“আমি মনে করি যে, জেনেভা শহরে রুশ ও অন্যান্য প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে ঠিক হওয়া আলোচনা, যা তুলনামূলক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ক্ষমতা হস্তান্তর (দামাস্কাসের নতুন প্রশাসনের হাতে) নিয়ে হতে চলেছে, আর যে বিষয়টিকে সমস্ত পক্ষই সমর্থন করতে পারে, তা থেকে ফল হতে পারে. কিন্তু আপাততঃ আমাদের বিরোধী পক্ষকেই সহায়তা করা উচিত্ হবে ও সিরিয়ার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করা ঠিক হবে”.

তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তৈপ এর্দোগান জেনেভা শহরে পরিকল্পিত সিরিয়া সংক্রান্ত নতুন সম্মেলনকে সমর্থন করেছেন. তিনি ঘোষণা করেছেন যে, এই সম্মেলনে রাষ্ট্রসঙ্ঘের দুই স্থায়ী সদস্য দেশ হিসাবে রাশিয়া ও চিনের অংশ নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ সংজ্ঞা বহন করে.

রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভের কথামতো, মস্কো মনে করে যে, এই সম্মেলনে সেই সমস্ত দেশের প্রতিনিধিদের অংশ গ্রহণ করা উচিত্, যারা ২০১২ সালের জুন মাসের প্রথম জেনেভা সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল, কিন্তু শুধু তারাই নয়. রাশিয়ার মতে, “জেনেভা- ২” সম্মেলনে সেই রকমের গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ক্রীড়নকদেরও ডাকার দরকার রয়েছে যেমন, সৌদী আরব ও ইরান. রাশিয়া একই সঙ্গে মনে করে যে, এই সম্মেলনে জর্ডন, লেবানন ও সিরিয়ার সমস্ত প্রতিবেশী দেশের অংশ গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্র জেনিফার পাসকি যেমন ঘোষণা করেছেন যে, ওয়াশিংটন থেকে ইরানের অংশ গ্রহণ সিরিয়া সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বাদ দেওয়া হয় নি. পাসকি অবশ্য যোগ করেছেন যে, এই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের নির্দিষ্ট তালিকা নিয়ে কথা বলা এখনও তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে.