ভারতের পদাতিক বাহিনীর জন্য একশটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে চলমান কামান সরবরাহ করার জন্য রসআবারোনএক্সপোর্ট সংস্থা ও ভারতীয় কোম্পানী লারসেন অ্যান্ড ট্যুর্বো লড়াই করবে. এই চুক্তির মূল্য অনুমান অনুযায়ী ২ হাজার কোটি টাকা (৩৬ কোটি ৪০ লক্ষ ডলারের সমান). অন্য একটি ইতিমধ্যেই ঘোষিত টেন্ডারে ভারতীয় সেনাবাহিনীর জন্য একশটিরও বেশী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ করার জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছে যেমন ভারতীয় কোম্পানীগুলি, তেমনই বিদেশী কোম্পানীরাও, তার মধ্যেও রসআবারোনএক্সপোর্ট রয়েছে.

সাঁজোয়া বাহিনীর আধুনিকীকরণের জন্য পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারতীয় সামরিক বাহিনী এই কামান সরবরাহের টেন্ডার ঘোষণা করেছে. সব মিলিয়ে বাহিনীকে নতুন করে অস্ত্র দেওয়ার জন্য সাড়ে তিনশো কোটি ডলারেরও বেশী খরচ করার কথা রয়েছে. বিগত বছর গুলিতে ভারত খুবই পরম্পরা বজায় রেখে সরবরাহ করার মানচিত্রকে প্রসারিত করছে. বিভিন্ন রকমের টেন্ডারে বিভিন্ন দেশের কোম্পানী বিজয়ী হয়েছে. ভারত আঘাত হানায় সক্ষম হেলিকপ্টার apache বেছে নিয়েছে, কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ বিমান সরবরাহের প্রস্তাবকে অস্বীকার করে ফ্রান্সের রাফালে যুদ্ধবিমান পছন্দ করেছে. এর মধ্যে আবার ভারত রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা করছে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরীর জন্য.

লারসেন অ্যান্ড ট্যুর্বো কোম্পানী এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ার সামসুঙ টেখউইন কোম্পানীর সঙ্গে সহযোগিতায়. তারা প্রস্তাব করেছে ১৫৫ মিলিমিটার ব্যাসের গোলা কোরিয়ার এক স্বয়ংক্রিয় চলমান যন্ত্রের উপরে বসানোর, আর তার সঙ্গে শর্ত সাপেক্ষে ভারতে এই অস্ত্র প্রযুক্তি জোড়া দেওয়ার কথা রয়েছে. রাশিয়া, খুব সম্ভবতঃ, প্রস্তাব করবে স্বয়ংক্রিয় সাঁজোয়া গাড়ী “মস্তা”, যা যুদ্ধে ব্যবহার করে দেখা হয়েছে ও নিয়মিত ভাবেই আধুনিক করে তোলা হচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সংবাদপত্র সাইট “ভেস্তনিক পেভেও”র সাধারন সম্পাদক সৈদ আমিনভ বলেছেন:

““মস্তা” ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছে যেমন রাশিয়ার গোলার মাপ হিসাব করে, তেমনই ন্যাটো জোটের গোলার মাপের কথা ভেবেও. তাতে স্বয়ংক্রিয় লক্ষ্য স্থির করা ও অগ্নি বর্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে. রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও বেশ কিছু বিদেশী রাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর কাছে এই অস্ত্র রয়েছে. আর কিছু দিন আগেই রাশিয়া সফল ভাবে এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ভেনেজুয়েলাতে সরবরাহ করেছে”.

আকাশ প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত ব্যবস্থা সরবরাহের বিষয়ে খুব সম্ভবতঃ, অংশ নেবে ফ্রান্সের থ্যালে, আমেরিকার জেনারেল ডাইনামিক্স, ইজরায়েলের আইএআই আর রসআবারোনএক্সপোর্ট. এই প্রতিযোগিতায় রাশিয়ার কোম্পানীদের সাফল্যের সুযোগ নির্ভর করবে তার উপরে যে, কতখানি তৈরী করা থাকবে মার্কেটিং করার রাজনীতি, এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

“আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা একেবারে স্বল্প পাল্লা থেকে শুরু করে অত্যন্ত দূর পাল্লা পর্যন্ত খুবই সফল রকমের, তার ওপরে, সেই গুলি আবার একই সময়ে স্ট্র্যাটেজিক নয় এমন ধরনের রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাতেও ব্যবহার যোগ্য হওয়ার প্রভূত ক্ষমতা ধরে.তাই ভারতের সঙ্গে খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করা দরকার”.

ভারতের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করা হয়েছে আমেরিকা ও ইজরায়েলের প্রযুক্তির উপরে নির্ভর করে. রাশিয়ার পক্ষে এই টেন্ডারে সহজ হবে না জয়ী হওয়া. কিন্তু মস্কো এক ধরনের ব্যবস্থার সমাহার প্রস্তাব করতে পারে, অংশতঃ জেনিথ রকেট সিস্টেম বহু দূর পাল্লার আন্তেই – ২৫০০. সেই গুলি যেমন আকাশ প্রতিরক্ষার কাজ করতে পারে বহু দূর থেকে, তেমনই কৌশলের প্রয়োজনে রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে মাঝারি পাল্লার ক্ষেত্রেও.