রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভায় গৃহীত সিরিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে একদেশদর্শী ও বাস্তব সাপেক্ষ নয়. এই সিদ্ধান্তের খসড়া তৈরী করা হয়েছে সৌদী আরব ও কাতারের যৌথ উদ্যোগে – যারা বিরোধী জোটের প্রধান দাতা. এই দলিলে খুবই কড়া ভাবে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের প্রশাসনকে সমালোচনা করা হয়েছে ও তাতে বিরোধী জঙ্গী গোষ্ঠীদের কোন সমালোচনাই করা হয় নি.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের সাধারন সভার সিদ্ধান্ত, নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তের মত অবশ্য পালন করার জন্য নয়. কিন্তু এই ধরনের বিরোধী পক্ষদের সমর্থনের ফলে জুন মাসে সিরিয়া নিয়ে জেনেভা – ২ সম্মেলনের আয়োজন করা কঠিন হতে পারে.

যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মনে হয় খুবই অদ্ভুত, যা বিশেষ করে কয়েকদিন আগে প্রকাশিত এক জঙ্গী গোষ্ঠীর নেতার নরখাদক ভিডিও প্রকাশের পরে তার পরিপ্রেক্ষিতে দেখলে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর ভ্লাদিমির ইসায়েভ রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন:

“কোন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে, যা নেতিবাচক ভাবে আসন্ন সম্মেলনের উপরে প্রভাব ফেলতে পারে, তা উচিত্ ছিল অন্য একটি সিদ্ধান্ত দিয়ে আগে থেকেই উল্লেখ করা. রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত্ ছিল সমস্ত সিরিয়ার বিরোধীদের অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সমর্থন করা বন্ধ করানোর, যতক্ষণ না তারা সেই সমস্ত লোকদের নিজেদের দল থেকে ছেঁটে ফেলে যারা নরখাদক. এটা এমনকি মধ্যযুগীয় বর্বরতাও নয়. এটা কিছু একটা সীমা পার হয়ে যাওয়া ব্যাপার”.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর যে রকমের ঘোষণা করেছে, এই দলিলের খসড়া যারা তৈরী করেছে, তারা ইচ্ছে করেই সিরিয়াকে ঘিরে বিগত কয়েক সপ্তাহের খুবই সক্রিয় কূটনৈতিক কাজকর্মকে উপেক্ষা করতে চাইছে. এখানে কথা হচ্ছে রাশিয়া ও আমেরিকার মধ্যে সমঝোতা, যা সিরিয়া নিয়ে দ্বিতীয় জেনেভা সম্মেলন আয়োজনের জন্য করা হয়েছে. এই সমঝোতায় আসা সম্ভব হয়েছে মস্কো শহরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরির সফরের সময়ে ৭ই মে তারিখে. আর তা আবার করে ১৫ই মে কেরির লাভরভের সঙ্গে সুইডেনে দেখা হওয়ার সময়ে স্বীকৃতী দেওয়া হয়েছে.

জেনেভা – ২ সম্মেলন, এক গুরুত্বপূর্ণতম নতুন অধ্যায় হতে পারে সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ শান্তির জন্য, যদি তাতে বাইরে থেকে এই দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ বন্ধ করা নিয়ে শর্ত পালন করা হয়, এই বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

“যদি সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ভাবে সিরিয়ার জঙ্গী গোষ্ঠী গুলিকে বাইরে থেকে মদত দেওয়া হয়, তবে এই সম্মেলনের কোনও অর্থ থাকে না. সশস্ত্র গোষ্ঠীরা মোটেও উত্সাহিত নয় সিরিয়ার সঙ্কটের কোন রকমের শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য. যদি সন্ত্রাসবাদী শক্তি গুলির বাইরে থেকে সহায়তা করা বন্ধ হয়, তবে সম্মেলনের অর্থ হয়”.

বিগত সপ্তাহ গুলি ধরে বহু আরব দেশ সিরিয়ার প্রতি নিজেদের অবস্থানকে নরম করেছে. ১৫ই মে ইজিপ্টের পররাষ্ট্র প্রধান ঘোষণা করেছেন যে, কায়রো রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ অন্তর্বর্তী সময়ের জন্য নিজের পদে বহাল থাকলে, তাতে কোনও আপত্তি করবে না.