মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের এশিয়াতে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী দেশ – পাকিস্তানের এবারে নতুন পরীক্ষার সামনে হতে হয়েছে. পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) এর নেতা নওয়াজ শরীফের প্রধানমন্ত্রী পদে প্রত্যাবর্তন এই সম্পর্কে মধ্যে এক নতুন উত্তেজনাময় চক্রের সৃষ্টি করেছে, এই রকম মনে করেছেন আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন, তাই তিনি বলেছেন:

“ভালবাসা থেকে ঘৃণার দূরত্ব মাত্র এক পদক্ষেপ. এই প্রবচন নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের খুবই সহজ নয় এমন ঐতিহাসিক ভাবে স্বীকৃত সম্পর্কের মূলকে ব্যাখ্যা করতে পারে, যা খুব একটা কম ওঠাপড়া দেখে নি. আজ তাই সমস্ত মনোযোগই নিবদ্ধ রয়েছে পাকিস্তানের নেতার উপরে, যিনি খুবই পরস্পর বিরোধী সঙ্কেত পাঠাচ্ছেন কিভাবে তাদের এক সাহায্যকারী, অস্ত্র দাতা ও একই সঙ্গে বোমা মারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তিনি সম্পর্ক স্থির করতে চলেছেন”.

একদিকে, নওয়াজ শরীফ খুবই চাইছেন কঠোর ও জাতীয় স্বার্থের নীতিগত ভাবে রক্ষাকারী হিসাবে. লাহোরে নিজের বাড়ীতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি ইতিমধ্যেই বুঝতে দিয়েছেন যে, আকাশ পথে হামলা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান – যা বিগত বছর গুলিতে দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে প্রধান বিরক্তির কারণ হয়েছে, তা তাঁর জন্য একটি প্রাথমিক কর্তব্য. তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন – “ড্রোন বিমান আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন তুলেছে. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন, আর আমি আশা করি যে, আমাদের উদ্বেগ সঠিক ভাবেই বোঝা হবে”.

কিন্তু নওয়াজ শরীফ কঠোর থাকতে পেরেছেন মাত্র দুটি বাক্যের জন্যই, তার পরেই তাড়াতাড়ি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, আমাদের সম্পর্ক ভাল হবে তাতে যদি কোন না কোন পক্ষ আমাদের কাছে তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে ও তা নিয়ে আমরা সাধ্যমত কাজ করতে পারি. ২০১৪ সালে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনীর, তাই নওয়াজ শরীফ ইঙ্গিত করতে ভোলেন নি যে, আমেরিকার সামরিক বাহিনীকে পাকিস্তানের তরফ থেকে সর্বতোভাবে সহায়তা দেওয়া হবে, তাই আমাদের সমীক্ষক সের্গেই তোমিন বলেছেন:

“নওয়াজ শরীফ বাধ্য হচ্ছেন আঁকা বাঁকা ভাবে চলতে. তাঁর মুসলিম লীগ (এন) নিজেদের প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারে খুবই জোর দিয়ে পাকিস্তান পিপলস্ পার্টিকে আক্রমণ করেছিল যে, তারা আমেরিকার কাছে দেশ বেচে দিয়েছে বলে, তার ওপরে আবার নিজেদের ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষক দল হিসাবে প্রচার করে চরমপন্থী ঐস্লামিকদের সেন্টিমেন্ট ব্যবহার করে ফয়দা করেছে, এবারে তারা আবার আশা করছে যে, ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র নীতিতে একেবারে ওলোটপালট হবে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সহযোগিতা বন্ধ করা হবে”.

আরও একটি প্রমাণ যে, নওয়াজ শরীফের আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ককে এবারে পরীক্ষায় ফেলা হবে, তা হল ভোটের ঠিক পরেই এবারে বিরোধী শিবিরে যাওয়া পিপলস্ পার্টির বিখ্যাত নেতা শেরি রহমান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত পদ থেকে হঠাত্ই ইস্তফা দিয়ে চলে এসেছেন.

এখানে উল্লেখযোগ্য ঘোষণা করেছেন পাকিস্তানের তরফ থেকে ২০১১ সালে পদত্যাগ করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাক রাষ্ট্রদূত হুসেইন হাক্কানি. “নওয়াজ শরীফ বলছেন যে, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক চান আর কিছু আমেরিকার লোকের সঙ্গে বাস্তবেই তিনি ভাল রকমের ঘনিষ্ঠ ও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বানিয়ে ফেলেছেন. কিন্তু তিনি কি চরমপন্থী দল গুলির উপরে গুরুতর ভাবে আক্রমণ করতে পারবেন, যারা তাঁকে নির্বাচনের সময়ে সাহায্য করেছে? আমি এই বিষয়েই ভরসা পাচ্ছি না” – বলেছেন হাক্কানি. এই বক্তব্য দিয়েই তিনি সেই সমস্ত উল্টো দিক থেকে আসা দাবীর প্রতি মনোযোগ দিয়েছেন, যা পাকিস্তানের নতুন প্রশাসনকে অবশ্যম্ভাবী ভাবেই ওবামা প্রশাসন থেকে করা হতে চলেছে.

হোয়াইট হাউসে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের সমস্ত বহু রকমের অর্থবহ বিষয়ে বোঝা হয়েছে ও তারা চাইছে এবারে খেলায় এগিয়ে থাকতে, তাই নির্বাচন শেষ হওয়ার পরেই খুবই আসন্ন ভবিষ্যতে পাকিস্তানে আসছেন মার্কিন রাষ্ট্র সচিব জন কেরি.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনের অবস্থান থেকেই পাকিস্তান- মার্কিন সম্পর্কের অনেক কিছু নির্ভর করে, তবে মোটেও সবটা নয়. নওয়াজ শরীফ দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির পরিস্থিতির কাছে বন্দী থাকতে বাধ্য হবেন, যেখানে অনেক কিছু হিসেব করার জন্যই মার্কিন সম্পর্ককে তুলনা করা হয়ে থাকে. সুতরাং নওয়াজ শরীফের আমেরিকা দিয়ে পরীক্ষা শুধু এবারে শুরু হতে চলেছে.