১৫ই মে ছিল মস্কো মেট্রোর জন্মদিন. ৭৮ বছর হল. নাগরিকদের মধ্যে সেই প্রথম দিন থেকেই মস্কো মেট্রো কাজ দিয়ে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল. আর এখনও মস্কোর সবচেয়ে সুবিধাজনক ও ভরসা করার মতো সামাজিক পরিবহন হয়ে রয়েছে মেট্রোরেল. আজকের রাজধানীর ভূগর্ভ রেল – এটা ১৮৭টি স্টেশন. ৩১০ কিলোমিটারের চেয়ে বেশী লম্বা রেলপথ আর দিনে নব্বই লক্ষ যাত্রী. ভীড়ের বিষয়ে মস্কো মেট্রোরেল পিছিয়ে রয়েছে শুধু টোকিওর কাছে. বিশ্বের রেটিং অনুযায়ী মস্কোর মেট্রো রেল সবচেয়ে দ্রুতগামী ও সবচেয়ে বোধগম্য. যেমন, যদি আপনি নিজের স্টেশন পার হয়ে যান আর তারপরে ফিরে আসতে চান, তাহলে যথেষ্ট হবে স্রেফ প্ল্যাটফর্মের অন্য দিকে যাওয়া. আর লন্ডনে বা প্যারিসে শুধু রেলপথের নম্বর মন দিয়ে খেয়াল করলেই চলে না, দরকার পড়ে ট্রেন কোন দিকে যাচ্ছে, সেটাও খেয়াল করার.

মস্কো মেট্রো বিশ্বে রেলগাড়ী আসার সময়ের মধ্যে ব্যবধানের বিষয়ে সবচেয়ে কম সময়ের রেকর্ড করেছে. দিনের মধ্য ভাগে তা হয় প্রতি দুটি ট্রেনের মধ্যে তিন থেকে চার মিনিটের ব্যবধানে আর যখন পিক আওয়ার, তখন দেড় মিনিট পর্যন্ত. এই কথা উল্লেখ করে রাজধানীর মেট্রো রেলের তথ্য দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর পাভেল সুখারনিকভ বলেছেন:

“যখন আমরা বিদেশীদের বলে থাকি যে, আমাদের পিক আওয়ারে দুটো ট্রেনের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ৯০ সেকেন্ড, তারা আশ্চর্য হয়ে যান. কিছু লোক আবার আমাদের কাছে এসে সময় মেপে দেখেছেন ক্রনমিটার দিয়ে. মেট্রোরেল এখন বাস্তবে শহরের একমাত্র পরিবহন ব্যবস্থা, যা মানুষকে একটি বিন্দু থেকে শহরের অন্য বিন্দুতে গ্যারান্টি সহ বাঁধা ধরা সময়ের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারে. এখানে উল্লেখ করার দরকার পড়বে যে, এখন মস্কো প্রশাসন মেট্রোরেল পরবর্তী কালে প্রসারের জন্য প্রচুর মনোযোগ দিচ্ছেন”.

২০১৩ সালে পরিকল্পনা রয়েছে ১৪ কিলোমিটার মস্কোর ভূগর্ভের রেলপথ বাড়ানোর, আর তৈরীর গতিতে মস্কোর চেয়ে শুধু এগিয়ে আছে চিনের সাংহাই মেট্রো.

বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর মেট্রো রেলের একটি আবার মস্কোর মেট্রোরেল. এর ৪৪টি স্টেশন শহরের স্থাপত্যের দ্রষ্টব্য হয়ে আছে, যা সমাজবাদী সময়ের শিল্পের নিদর্শন. বিশাল সব হল ঘর, স্টেশনের কারুকার্য খুবই ধনী – সেখানে মর্মর, গিল্টি সোনা, মোজাইকে করা কাজ, ঘোলাটে কাঁচের কাজকর্ম দিয়ে সমৃদ্ধ করা হয়েছিল. মস্কো মেট্রোর স্থপতিদের সামনে কাজ রাখা হয়েছিল যে, মানুষের জন্য প্রাসাদ বানাতে হবে, এই কথা উল্লেখ করে মেট্রোহাইপ্রোট্রান্স ইনস্টিটিউটের প্রধান স্থপতি নিকোলাই শুমাকভ বলেছেন:

“এটা অবশ্যই ছিল একটা ধারণা মূলক সিদ্ধান্ত. কারণ আমরা যে ভাবে প্রথম সমাজবাদী রাষ্ট্র তৈরী করছিলাম, সেই সময়ের মানুষের স্পৃহা ও যুগের মহত্ত্বকে ধরে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল সেই ভাবে. অন্যান্য মেট্রোরেল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে মস্কোর মেট্রো রেল জায়গা নিয়ে চিন্তার বিষয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য এবং নান্দনিক ধারা বহন করে নিয়ে গিয়েছিল. আমাদের সেই নবীন সোভিয়েত দেশের শক্তির প্রতিভাসে”.

মস্কোর মেট্রো শুধু যাত্রীদের বহন করেই নিয়ে যায় না, বরং তাদের আলোকিতও করে. একটি রেল পথে রয়েছে বিভিন্ন রকমের ধারণা দিয়ে সাজানো রেল গাড়ী, যাতে রয়েছে বিখ্যাত রুশ দেশের শিল্পীদের আঁকা ছবির প্রতিলিপি. আছে এমন রেল গাড়ী, যা সাহিত্য ও ইতিহাসের ঘটনার সাক্ষ্য বহন করে নিয়ে চলে. কিন্তু এটাও প্রধান নয়. মস্কো মেট্রোর প্রাথমিক দায়িত্ব নিরাপত্তা ও যাত্রী সুবিধা. তাই সেই সমস্ত আলাদা করা টার্মিনাল, যেখানে জানতে পারা যায়, কি করে এক স্টেশন থেকে অন্য স্টেশনে যেতে হবে, সেখানে এখন ভিডিও স্ক্রীণ যোগ করা হয়েছে. মস্কোর ভূগর্ভ রেল আগামী বছর গুলিতে বিদেশী পর্যটকদের জন্যও আরও সহজ হতে চলেছে. সমস্ত নির্দেশেই এবারে ইংরাজী হরফে লেখা থাকবে.