সিরিয়া নিয়ে নতুন “জেনেভা -২” সম্মেলন জুন মাসের শুরুতে হতে পারে, কিন্তু তার সঠিক দিন এখনও ঠিক করা হয় নি. এই ধরনের একটা সম্মেলনের যে প্রয়োজন রয়েছে, তা নিয়ে সব মিলিয়ে একটা বোধগম্যতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র সচিব জন কেরির সাক্ষাত্কারের সময়ে. কেরি আগেও বলেছেন যে, এই ফোরাম আয়োজন করা মে মাসের শেষের আগে সম্ভব হবে না, কিন্তু তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই সম্মেলন জুন মাসে হবে.

প্রায় এক বছর আগে হওয়া জেনেভা সম্মেলন শেষ হয়েছিল সিরিয়ার সঙ্কট নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি কমিউনিকে স্বাক্ষর করার মধ্যে দিয়ে. এই পরিকল্পনায় হিংসা বন্ধ করা ও সেই দেশে সর্বজনীন নির্বাচনের কথা বলা হয়েছিল. সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী পক্ষ এই কমিউনিকে অগ্রাহ্য করেছিল.

তখন এই আলোচনা হয়েছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রী পর্যায়ে. “রেডিও রাশিয়ার” প্রতিনিধি সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে সের্গেই লাভরভ বলেছেন যে “জেনেভা – ২” সম্মেলনেও দেশের প্রথম সারির নেতাদের অংশগ্রহণের কথা উঠছে না. তিনি যোগ করেছেন:

“এখানে কথা হচ্ছে মন্ত্রী ও তাঁদের ডেপুটি পর্যায়ে. আমরা আজ এই সম্মেলনের সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে কথা বলেছি, কারা অংশ নেবে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে. সব মিলিয়ে মত, যারা গত বছরের জুন মাসের প্রথম জেনেভা সম্মেলনে ছিল, তাদেরই নতুন সম্মেলনে যোগ দেওয়া উচিত. রাশিয়ার ধারণা এই বিষয়ে এই রকমের যে, এই সমস্ত লোকদের সঙ্গে যোগ করা দরকার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়নকদের – ইরান ও সৌদি আরবকেও”.

রাশিয়া পররাষ্ট্র প্রধানের মতে, মস্কো এই নিয়েই বলে চলেছে যে, সমস্ত আঞ্চলিক দেশ ও সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশের উচিত্ এই সম্মেলনে যোগ দেওয়া. আর রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ কাজে লাগতে পারে পরামর্শ দেওয়ার ফোরাম হিসাবে. কিন্তু এখানে জড়ো হওয়া দরকার আরও বড় প্রসারিত অংশ গ্রহণের মাধ্যমে, তাই রুশ মন্ত্রী বলেছেন:

“কিন্তু সবচেয়ে মুখ্য বিষয় হল কোন একটা আপাত ভাবে অংশগ্রহণকারীদের গোষ্ঠী তৈরী করা নয়, বরং সেটাই করা যাতে সিরিয়ার প্রশাসন ও বিরোধী পক্ষ এই উদ্যোগ সমর্থন করতে পারে. প্রশাসন নিজেদের ঘোষণা করেছে, আর তা সব মিলিয়ে ইতিবাচক. বিরোধী পক্ষ আপাততঃ একসঙ্গে কিছু বলে নি. আমরা জন কেরির সঙ্গে সেই নিয়েই কথা বলেছি, যাতে আমাদের আমেরিকার সহকর্মীরা নিজেদের সমস্ত সম্ভাবনা ব্যবহার করে যাতে এই বিরোধী পক্ষ সবচেয়ে বেশী প্রতিনিধিত্ব মূলক অবস্থায় পৌঁছায় আর বিরোধী পক্ষ নিজেদের প্রতিনিধিদের নির্ণয় করে”.

এরই মধ্যে ফ্রান্সের পররাষ্ট্র মন্ত্রী লোরান ফাবিউস আরটিএল রেডিও কোম্পানীকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন যে, আগামী সপ্তাহের শেষে “জেনেভা – ২” নিয়ে পশ্চিমের পক্ষ থেকে পরামর্শ করা শুরু হবে. তা হবে দুই অধ্যায়ে. প্রথমটি সম্ভবতঃ হবে জর্ডনে, সেখানে তথাকথিত সিরিয়ার মিত্র দেশ নামক গোষ্ঠীর পররাষ্ট্র মন্ত্রীরা একজোট হবেন. তারপরে পরিকল্পনা রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেনের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্যারিসে সাক্ষাত্কার. তারপরে সিরিয়া নিয়ে সম্মেলনের প্রস্তুতি নিয়ে ভেবে দেখবেন রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলি.

ফাবিউস ঘোষণা করেছেন যে, ফ্রান্স “জেনেভা – ২” সম্মেলনের আয়োজনকে সমর্থন করে. ফ্রান্সের মন্ত্রীর কথামতো, পশ্চিম “এই সম্মেলনের আগে সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের বাধ্যতামূলক পদত্যাগকে” কোনও শর্ত করে নি. এই ধরনের দাবী নিয়ে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের একাংশ এগিয়ে এসেছে, যা এই ধরনের বোঝার অসুবিধা সৃষ্টি করেছে. “আমরা অন্তর্বর্তী কালীণ প্রশাসন তৈরী করতে চাই, যারা নিজেদের হাতে বাশার আসাদের দায়িত্ব নিতে সক্ষম হবে, যখন তিনি পদত্যাগ করবেন, তার পরে”, - ঘোষণা করেছেন ফাবিউস.