১৯৮৮ সালের ১৫ই মে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করা শুরু হয়েছিল.

সামরিক বাহিনী প্রত্যাহারের রুটিন আগে থেকেই জেনেভা চুক্তি দিয়ে ঠিক করা হয়েছিল, যা তার থেকে এক মাস আগে কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল. সেই চুক্তির গ্যারান্টি দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত দেশ. ১৯৮৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারী শেষ সোভিয়েত সৈন্য সীমান্ত পার হয়ে এসেছিল.

সোভিয়েত দেশের আফগানিস্তানের বিরোধ থেকে বেরিয়ে আসার প্রয়োজন ১৯৮৮ সালের বসন্ত কালের অনেক আগেই প্রকট হয়েছিল. এই বিষয়ে নিয়ে ব্যাখ্যা করে বলেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের আফগানিস্তান বিভাগের প্রধান ভিক্টর কর্গুন:

“সোভিয়েত নেতা মিখাইল গরবাচেভ এই ধরনের সম্ভাবনার কথা ভেবেছিলেন. ১৯৮৬ সালে ভ্লাদিভস্তক শহরে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রোনাল্ড রেগানের সঙ্গে দেখা করার সময়ে তিনি আফগানিস্তানের নাম দিয়েছিলেন “রক্ত ক্ষরণ হতে থাকা ক্ষত” বলে. তখনই এই যুদ্ধের ইতি করার জন্য নানা রকমের উপায়ের কথা ভাবা হয়েছিল. যদিও সেই ৮৫-৮৬ সালেই সোভিয়েত দেশ আফগানিস্তানে সৈন্য সংখ্যা বাড়িয়েছিল, তাও পুরোদমে চালানো হচ্ছিল জেনেভা আলোচনার প্রস্তুতি”.

আফগানিস্তানের বিরোধে সম্পূর্ণ মাত্রায় দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ প্রতিফলিত হয়েছিল: পশ্চিমের পক্ষের ও পূর্বের পক্ষের যারা সোভিয়েত দেশের নেতৃত্বে ছিল. সোভিয়েত সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরে এই বিরোধ সাঙ্গ হয় নি, বরং তাতে আবার অন্য রকমের আকার দেখতে পাওয়া গিয়েছিল. বাস্তবে দেখা গেল যে, নিজেদের দায়িত্ব মস্কো থেকেই শুধু সম্পূর্ণ ভাবে করা হয়েছে, মুজাহেদ ও তাদের অভিভাবকরা নিজেদের চুক্তির অংশের কাজ কারবার কোন সময়েই করতে চায় নি.

তাই আফগানিস্তানের যুদ্ধ সোভিয়েত সেনা বাহিনী প্রত্যাহারের পরে শুধু নতুন শক্তিতে জ্বলে উঠেছিল. ফলে খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও আফগানিস্তানের নেতৃত্বে এসেছিল সেই মুজাহেদ লোকরাই. তাদের বদলে এসেছিল তালিবরা, যাদের ২০০১ সালে কাবুল থেকে উত্তরের জোট ন্যাটো জোটের শক্তির সহায়তায় তাড়িয়ে দিতে পেরেছিল. এই যুদ্ধ এখনও চলছে. তা হলে পঁচিশ বছর পরে কি বদলেছে?

এই প্রসঙ্গে ভিক্টর কর্গুন বলেছেন:

“আফগানিস্তানের লোকরা তুলনা করে দেখেছেন: রুশ লোকরা ছিল, অবশ্যই তখন যুদ্ধও চলছিল. কিন্তু রুটি আর কাজও ছিল. আর রুটি একেবারেই সরাসরি অর্থে: কাবুলে এই এলাকার সবচেয়ে বড় রুটি তৈরীর কারখানা কাজ করত. পরে সেটাতে বোমা ফেলা হয়েছিল, ধ্বংস করা হয়েছিল. এখন আবার সেটাকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে, আবার সেটা কাজ করছে. আরও অনেক কল কারখানাও কাজ করছে, যা সেই সোভিয়েত আমলেই বানানো হয়েছিল”.

গত শতকের আশির দশকে রুশীরা দুই বার চেষ্টা করেছিল আফগানদের সাহায্য করার, যাতে তারা নিজেদের মধ্যে লড়াই থামায়. প্রথমবার – যখন সৈন্য অনুপ্রবেশ করেছিল, আর দ্বিতীয়বার – যখন সৈন্য ফিরিয়ে নিয়েছিল. কিন্তু এই দেশকে বিদীর্ণ করার জন্য আজও সেই বিরোধ জাগ্রতই রয়েছে. আর এটাই আরও একবার করে প্রমাণ করে দেয় এক পুরনো সত্যকেই: কোন কিছু একটা লক্ষ্য সাধনে সাহায্য তখনই তাদের করা সম্ভব, যখন তারা নিজেরাই সমস্ত শক্তি এক করে এই দিকে চলে. আফগানিস্তানের সমাজের আভ্যন্তরীণ শান্তির প্রতি অগ্রসর হওয়ার ইচ্ছা, দেখাই যাচ্ছে যে, এখনও শুধু উদয়ের অপেক্ষাতেই রয়েছে.