ভারতের রাজধানীর কোথায় রাশিয়া সম্পর্কে কোনোকিছু জানা যেতে পারে? যেমন, কিভাবে ও রাশিয়ার কোন শহরে নিজস্ব ব্যবসা শুরু করা যায় – সেই ব্যাপারে খবরাখবর. রুশবাসীরা কোন গ্রেডের ভারতীয় চা পছন্দ করে, তা ভালো করে জেনে নেওয়া. অথবা ভারতে রুশী জাজ ও রক সঙ্গীতশিল্পীদের আসন্ন জলসা সম্পর্কে অবহিত হওয়া. কেউ কেউ প্রস্তাব দেবে রাশিয়ার বাণিজ্যিক প্রতিনিধি দপ্তরে খোঁজখবর করার, অথবা ২৪ নম্বর, ফিরোজ শাহ রোডে অবস্থিত রাশিয়ার বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে যাওয়ার. শুধু স্বল্পসংখ্যক সবজান্তাই রুশ ভবনের সাথে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেবে.

রুশ ভবন খোলার অন্যতম উদ্যোক্তা ভাসিলি পপোভ ব্যাখ্যা করে বলছেন – মাত্র কয়েকমাস হল পশ্চিম দিল্লীর রাজোরি বাগে এই ভবন খোলা হয়েছে.

পাঁচ বছর আগে সাইবেরিয়ায় জন্মজাত যথেষ্ট সফল এই আন্তর্জাতিক আইনজীবি একাতেরিনবার্গে একটি বিদেশী কোম্পানীর প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত ছিলেন. সেই সময় নয়াদিল্লির একটি কোম্পানীর ইন্টারনেটে দেওয়া কর্মখালির বিজ্ঞাপন তার মনোযোগ আকর্ষন করে. তিনি ঐ চাকরিটি পান. নয়াদিল্লিতে তিন বছর কাজ করার পরে ভাসিলি পপোভ ‘ডেনভোস সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড’ নামক একটি কোম্পানীর পত্তন করেন. তিনি বিষদে জানাচ্ছেন – আমরা শুরু করেছিলাম রাশিয়ান প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি এটিএম ভারতে সরবরাহ করা দিয়ে.-

আমরা স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল মেশিনকে ‘ইউনি পে’ ব্র্যান্ড নামে নথিভুক্ত করি ও তারপর দিল্লি মেট্রো সহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ১৫০টি অনুরুপ মেশিন বসাই – বলছেন ভাসিলি পপোভ – আমাদের পদাঙ্ক অনুসরন করে আরও কয়েকটি রাশিয়ান কোম্পানীও রুশী এটিএম সরবরাহ করতে শুরু করে দিল্লিতে. আমাদের কোম্পানী এই প্রোডাক্টটি ভারতের অন্যান্য রাজ্যেও লঞ্চ করানোর পরিকল্পনা করেছে. তাছাড়াও আমরা রাশিয়ার বৈদ্যুতিক সাবস্টেশনের জন্য ভারতীয় কমপোনেন্ট রপ্তানী করি রাশিয়ায়. এরকম স্পেয়ার পার্টসের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে রাশিয়ায়.

রাশিয়ার পণ্যদ্রব্য নিয়ে ভারতের বাজারে প্রবেশ করতে বিভিন্ন জটিলতার সম্মুখীন হয়ে ও সাফল্যের সাথে তা অতিক্রম করে, ভাসিলি পপোভ ও তার সহকর্মীরা এই কাজে অন্যান্য স্বদেশী কোম্পানীদের সাহায্য করচে মনস্থ করেছেন. সেইসাথেই তারা যে সব ভারতীয় ব্যবসায়ী রাশিয়ার বাজারের প্রতি আগ্রহ পোষন করছেন, তাদেরও সাহায্য করতে চান.

 

ভারতে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহ করে আমি টের পাচ্ছি ভারতীয় ব্যবসায়ীদের রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক যোগাযোগ স্থাপণ করার আগ্রহ. আপাততঃ এই সহযোগিতায় মূলতঃ অংশগ্রহণ করে রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন ও আধা-সরকারি সংস্থাগুলি. কিন্তু মাঝারি ও ছোটো ব্যবসার যোগদানই পারস্পরিক সহযোগিতার পরিমান বহুলাংশে বাড়াতে পারবে ও তার সুবাদে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক আবর্তণকে পরিকল্পিত ২০০০ কোটি ডলারের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সাহায্য করবে – এই সম্পর্কে দৃঢ়বিশ্বাসী ভাসিলি পপোভ.-

ভাসিলি পপোভ উল্লেখ করছেন, যে রুশ ভবনের লক্ষ্য হচ্ছে রাশিয়া ও ভারতের মাঝারি ও ক্ষুদ্র বাণিজ্যের একে অপরকে খুঁজে বার করতে সাহায্য করা ও পারস্পরিক লাভজনক যোগাযোগ গড়ে দেওয়া. এই মুহুর্তে রুশ ভবনের পোর্টফোলিওয় এরকম আবেদন ও প্রস্তাব কম নেই. তার মধ্যে আছে ক্ষুদ্র বিদ্যুত্শিল্প ও কৃষিশিল্পের জন্য রাশিয়ার প্রযুক্তি ও নোহাউ. অন্যান্য অভিমুখও আছে. যেমন এখন আমরা কাজ করছি ভ্লাদিমির শহরের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে, যারা ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে সিনেমা হলগুলিতে ৫ডি প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে, যার সুবাদে হলে বসে সিনেমা দেখার লোমহর্ষক অনুভূতি অনেক বেশি তীব্রতর হবে. ভারতের একসারি মাল্টিপ্লেক্সের মালিকরা এই প্রস্তাবে আগ্রহ প্রকাশ করছেন এবং আমরা তাদের সাথে কথাবার্তা চালাচ্ছি.

রুশ ভবন পর্যটন শিল্পের অভিমুখেও পদক্ষেপ করছে. ভাসিলি পপোভ স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন, যে গত একবছরে ভারতে আসা রুশী পর্যটকদের সংখ্যা ৩০% বেড়েছে, এবং তারা সবাই যে গোয়ায় আসছে, তা নয়. অনেক রুশবাসীরাই ভারতের বিভিন্ন প্রত্যন্ত এলাকায় ভ্রমন করছেন. তারা কখনো কখনো এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন, যখন তাদের প্রয়োজন রুশী ভাষায় তথ্যাবলী, পরামর্শ, রাশিয়ার পক্ষ থেকে আইনি সাহায্য. দিল্লিতে রুশ ভবন এখন ২৪ ঘন্টার টেলিফোন হটলাইন বসানোর কাজে নিয়োজিত, স্বদেশবাসীদের সাহায্য যোগানোর জন্য. ঐ হটলাইন চালু হবে নতুন পর্যটন মরশুমের শুরুতে, অক্টোবর মাসে.