প্রাচ্য দুনিয়াকে অনুধাবন করার জন্য রুশবাসী নবীন প্রজন্মের দেশ ছেড়ে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই. তাদের জন্য যথেষ্ট হবে মস্কোর খোদ কেন্দ্রস্থলে, ক্রেমলিনের ঠিক মুখোমুখি অবস্থিত লোমোনোসভের নামাঙ্কিত মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক ভবনটিতে আসা. নেপোলিয়ন মস্কো জবরদখল করে রাখার সময় ঘটানো অগ্নিকান্ডের পরে ভবনটির পুনর্নির্মান করা হয়েছিল ১৮১৯ সালে. আজ সেখানে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশসমূহ সম্পর্কিত ইনস্টিটিউটের স্থায়ী ঠিকানা. ১৯৫৬ সালের ২৬শে জুন সোভিয়েত সরকারের নির্দেশনামার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠা করা হয় এই ইনস্টিটিউট.

উক্ত ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে চলতি নাম যার – ‘ইসা’, দেশে বিষয়গত উচ্চ শিক্ষায়তনগুলির মধ্যে অগ্রগণ্য. ৫৭ বছরের অস্তিত্বকালে এই ইনস্টিটিউট থেকে ডিগ্রি পেয়ে বৃহত্তর জীবনের পথে যাত্রা করেছেন হাজার হাজার প্রাচ্যতত্ত্ববিদ. শুধুমাত্র রুশবাসীরাই তাদের মধ্যে নেই, আরও আছেন চীন, কোরিয়া, জাপান, ভিয়েতনাম, তুরস্ক, আমেরিকা প্রভৃতি দেশের নাগরিকরাও. শিক্ষোত্তর জীবনে ইসা’র স্নাতকরা হয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী, সরকারি দফতরের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা, বড়মাপের রাজনীতিনিদ, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী. বিভিন্ন সময়ে এই ইনস্টিটিউটে শিক্ষা লাভ করেছেন রুশী বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির অন্তর্গত প্রাচ্যতত্ত্ববিদ্যা মহাবিদ্যালয়ের বর্তমান কর্ণধার ভিতালি নাউমকিন, পররাষ্ট্রমন্ত্রকের দুই প্রতিমন্ত্রী – যথাক্রমে গ্রিগোরি কারাসিন ও ইগর মার্গুলোভ, লিবেরাল-ডেমোক্র্যাটিক পার্টির শীর্ষ নেতা ভ্লাদিমির ঝেরেনোভস্কি, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির তথ্য-সচিব দমিত্রি পেসকোভ, জনপ্রিয় সাহিত্যিক বরিস আকুনিন ও অন্যান্য বহু সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব. ইসা’র অধুনাতন কর্ণধার, চীনতত্ত্ববিদ ইগর আবীলগাজিয়েভও এই ইনস্টিটিউট থেকেই উচ্চশিক্ষা লাভ করেছিলেন.-

ইনস্টিটিউটের কর্ণধার বলছেন – ইসা’য় ইতিহাস, ভাষাতত্ত্ব, অর্থনীতি, রাজনৈতিক বিজ্ঞান বিষয়ে এশিয়া ও আফ্রিকার বহু দেশের জন্য বিশেষজ্ঞদের প্রস্তুত করা হয়. এখানে প্রাচ্য দুনিয়ার ৪০টিরও বেশি ভাষা শিক্ষা দেওয়া হয়. ছাত্রছাত্রীদের পড়ান তিনশোরও বেশি অধ্যাপক ও রীডাররা. কিছু কিছু কোর্সে লেকচার দেওয়ার জন্য রাশিয়া ও বিদেশের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক সংস্থা থেকে লব্ধপ্রতিষ্ঠ বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানানো হয়. ইসা’য় এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির সাথে সহযোগিতারত রাশিয়ার বড় রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশনগুলির কাজে মানানসই সুদক্ষ বিশেষজ্ঞদের তৈরি করার জন্য বিশেষ বিশেষ পাঠক্রম সংকলন করি আমরা. উঁচুমানের শিক্ষাপ্রাপ্ত কর্মী প্রস্তুতিকরণ ও গবেষণা প্রকল্পাবলীর রুপায়নের জন্য আমরা বিদেশের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান কেন্দ্রগুলির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করি.

এই কর্মসূচীর আওতায় কিছু প্রকল্প স্থায়ী ভিত্তিতে বাস্তবায়িত করা হয়. যেমন, আরবচর্চা ও ইসলাম তত্ত্ববিদ্যা, ভারততত্ত্ববিদ্যা, বৌদ্ধধর্ম তত্ত্ববিদ্যা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা নিয়ে চর্চা. অত্যন্ত জনপ্রিয় ইসা’র আন্তঃউচ্চশিক্ষায়তনীয় চীনা ভাষা শিক্ষার কোর্স. সেখালে পাঠক্রমের শাখা নির্বিশেষে চীনা ভাষায় হাতেখড়ি নিতে ইচ্ছুক সকল উচ্চশিক্ষার্থীকে গ্রহণ করা হয়. অধ্যাপক ও রীডারদের লিপিবদ্ধ বৈজ্ঞানিক রচনাবলী প্রকাশ করে ইসা’রই নিজস্ব প্রকাশনালয়.

এখন থেকে প্রতি বছর ১৬ই মে ইনস্টিটিউটে তার জন্মদিবস পালন করা হবে. এবারে উত্সবে অংশগ্রহণকারীদের সামনে পেশ করা হবে সদ্যরচিত ইসা’র প্রাতিষ্ঠানিক সঙ্গীত. আর উত্সবে সবচেয়ে স্মরণযোগ্য অনুষ্ঠানটি হবে – ইনস্টিটিউট ভবনের ভেতরে প্রাচ্যতত্ত্ববিদ্যার সংগ্রহশালার দ্বারোদ্ঘাটন.

এখানে উল্লেখ করতে চাই, যে আমাদের দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সম্প্রচারন বিভাগে মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত এশিয়া ও আফ্রিকার দেশসমূহ সম্পর্কিত ইনস্টিটিউট(ইসা)থেকে পাশ করা বহু কর্মী কাজ করেন. যেমন, বিভাগীয় প্রধান ইরিনা মাক্সিমেনকো ও ইন্টারনেট প্রকাশনার মুখ্য সম্পাদক ভ্লাদিমির ইভাশিন, হিন্দী ভাষায় অনুবাদিকা-ভাষ্যকার ল্যুদমিলা ব্লাঝেনকোভা, ইরিনা লেবেদেভা ও নাস্তিয়া গাত্সেল্যুক, উর্দু ভাষায় অনুবাদিকা-ভাষ্যকার ইলেনা বাদিকোভা ও নাজেঝদা ভেরকিনা, জনপ্রিয় প্রতিবেদন রচয়িতা নিনা রুকাভিশনিকোভা ও আনিয়া জাখারভা, এডিটর গেওর্গি ভ্লাসভ ও তানিয়া কোপীলোভা. বিগত কয়েক বছরে আমাদের এখানে কাজে যোগ দিয়েছেন ইসা থেকে সদ্য ডিগ্রি পাওয়া বহু তরুন তরতাজা কর্মী. আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করে দক্ষিণ এশিয়ার অধিবাসীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, ভারতীয় উপ-মহাদেশের বিপুল ধনশালী কৃষ্টির প্রতি আন্তরিক ভালোবাসা এবং আপনাদের জন্য আগ্রহোদ্দীপক ও সারবস্তু সম্পন্ন অনুষ্ঠানাদি প্রস্তুত করার ঐকান্তিক প্রয়াস.