১৫ই মে মস্কোর রেড স্কোয়ারে ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিনের মুসোলিয়ামের দরজা আবার খুলে ধরা হচ্ছে দর্শকদের জন্য. এই স্মৃতি সৌধের বড় মাপের পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে, যা গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে শুরু করা হয়েছিল.

বিখ্যাত স্থপতি আলেক্সেই শ্যুসেভের পরিকল্পনা অনুযায়ী লেনিন মুসোলিয়াম কোন রকমের বড় মেরামত ছাড়াই ৮০ বছর ধরে ছিল. বছর পর বছর ধরে এই সৌধের ভিত নীচে নেমে যেতে শুরু করেছিল, প্রসঙ্গতঃ এটি ইউনেস্কোর তালিকাভুক্ত স্মৃতি সৌধের একটি. এখন এই বাড়ীটির ভিত্তি প্রস্তরের নীচে কয়েকশো কূপ খনন করে তাতে কংক্রীট ঢেলে দেওয়া হয়েছে. এই স্মৃতি সৌধের নীচে উপর থেকে নীচে খুঁটির ব্যবস্থা করা হয়েছে, ফলে এই বাড়ীটি নীচে নেমে যাওয়া থামানো সম্ভব হয়েছে. মনে করিয়ে দিই যে, রেড স্কোয়ারের এই সমাধিতে গত শতকের বিশের দশকের মাঝামাঝি থেকে শয়ান অবস্থায় রয়েছে বিশ্বের শোষিত শ্রেনীর এক মহান নেতা ভ্লাদিমির লেনিনের মরদেহ. খুব কম লোকেই জানেন যে, বর্তমানের এই সৌধের মত বাড়ীটির আগে এখানে ছিল এক কাঠের বাড়ী, তাই এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে ইতিহাসে ডক্টরেট প্রফেসর আলেকজান্ডার দানিলভ বলেছেন:

“লেনিনের মৃত্যুর পরে কিছুদিনের জন্য সোভিয়েত দেশের নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তাঁর দেহ সাময়িক ভাবে মুসোলিয়ামে রাখার, যাতে যত বেশী সংখ্যক মানুষ তাঁদের শ্রদ্ধেয় নেতার কাছ থেকে বিদায় নিতে পারেন. আর তারপরে যখন প্রফেসর বরিস সবারস্কি বিশেষ ধরনের মমি বানানোর উপায় আবিষ্কার করেছিলেন, তখন এই কাঠের মুসোলিয়াম পাল্টে একটা পাকা বাড়ীর ব্যবস্থা করা হয়, যা একেবারেই অন্য কাজের জন্য তৈরী করা হয়েছে, যার সঙ্গে বিশ্ব শোষিত জনের নেতার মৃত্যুর পরের প্রথম দিন গুলির উদ্দেশ্যের কোন মিলই নেই”.

বহু দশক ধরে লেনিনের মরদেহ বায়োমেডিসিন টেকনলজি প্রশিক্ষণ – পদ্ধতি এবং বৈজ্ঞানিক – গবেষণা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞদের দেখাশোনার মধ্যে রয়েছে. তাঁরা এই দেহ ঠিক রাখার দায়িত্ব নিয়েছেন ও একই সঙ্গে লক্ষ্য করে যাচ্ছেন মমি করার জন্য ব্যবহার করা রসায়নের কাজকর্ম ও দেহের তন্তু নষ্ট হওয়ার প্রক্রিয়ার উপরে. বাস্তবে, এই মুসোলিয়ামে বৈজ্ঞানিকরা এক বিরল পরীক্ষা করছেন, আর তার ফলাফল যথেষ্ট প্রয়োজনীয় হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে আলেকজান্ডার দানিলভ বলেছেন:

“বহু দেশের নেতাদের দেহ মমি করার বিষয়ে সহায়তা করেছিলেন রুশ বিশেষজ্ঞরা. অংশতঃ, ১৯৯৫ সালে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম ইর সেনের দেহ, ১৯৬৯ সালে ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির নেতা হো চি মিনের দেহ, ১৯৭৯ সালে অ্যাঙ্গোলার রাষ্ট্রপতি আগোস্তিনো নেটোর দেহ ও আরও অনেকের. আজকের দিনে এই ধরনের বৈজ্ঞানিক কেন্দ্র, যা রাশিয়াতে রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই”.

বিশেষজ্ঞরা যেরকম ভরসা দিয়ে বলছেন, তাতে ভ্লাদিমির লেনিনের দেহ খুব সন্তোষজনক অবস্থাতেই আছে. তারই মধ্যে গত শতকের নব্বইয়ের দশকের শুরু থেকেই এই দেহকে কবর দেওয়া নিয়ে বিতর্ক আর থামছে না. অনেকেই মনে করেন যে, সোভিয়েত রাষ্ট্রের পতনের পরে বলশেভিক নেতার মরদেহ রক্ষা করা আবার সেই শেষকৃত্য না করা দেহ সকলের নজরের সামনে রাখা কি রকমের একটা মানুষের উপযুক্ত কাজ হচ্ছে না. যারা আবার মুসোলিয়ামের পক্ষে, তারা বলছেন যে, মুসোলিয়ামের যে জায়গায় দেহ রাখা রয়েছে, সই তলটি মাটির নীচেই, সুতরাং কবরের নিয়ম অনুযায়ী কোন রকমের নিয়মভঙ্গ করা হয় নি. কিন্তু এটাই প্রধান কারণ নয়. সমাজের একাংশের মতে, যাঁরা কমিউনিজমের আদর্শে বিশ্বাসী, তাঁদের কাছে লেনিনকে কবর দেওয়ার প্রশ্ন – খুবই বেদনা দায়ক, এই কথা উল্লেখ করে সমাজতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের উচ্চ কোটির লোকদের মতামত পর্যালোচনা কেন্দ্রের ডিরেক্টর ওলগা ক্রীশ্তানোভস্কায়া বলেছেন:

“আমার মনে হয় যে, এখন লেনিনের দেহ কবর দেওয়া হলে তা অনেক সংখ্যক লোকের একটা অসন্তোষ ও হতাশার কারণ হবে. আর আমি কোন প্রয়োজনই দেখতে পাচ্ছি না সমাজে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া ডেকে আনার. মুসোলিয়াম একটা ঐতিহাসিক স্মৃতি সৌধ, মস্কোর দ্রষ্টব্য. তাই আমার মনে হয়েছে যে, এখন কোন কারণই ঘটে নি যাতে লেনিনকে নতুন করে কবর দেওয়ার দরকার পড়েছে ও তা দিয়ে দেশের অর্ধেক লোকের একটা প্রতিবাদের ঝড়কে ডেকে আনানোর”.

বলা দরকার যে, রাশিয়ার সরকারও এটাকে পরবর্তী প্রজন্মের কাজ বলেই মনে করেছেন. রাষ্ট্রপতি পুতিনের কথামতো, লেনিনের মরদেহ কবরের কথা নিজের সময় মতোই উদয় হবে.