পিয়ংইয়ং মনে করে যে, উত্তর কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিমিত্স নামক বিশালাকায় পারমানবিক শক্তি চালিত বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজের তিনদিন ব্যাপী দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর সঙ্গে পীত সমুদ্রে মহড়া খুবই বিপজ্জনক. বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞরাই, নিজেদের তরফ থেকে আমেরিকার কাজকর্মকে প্ররোচনা বলে নাম দিয়েছেন, যা সুস্থ চিন্তা থেকে কখনোই করা যেতে পারে না.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ও দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক নৌবহরের প্রশিক্ষণ কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় সোমবারে শুরু হয়েছে. সেই মহড়ায় যারা অংশ নিয়েছে তারা অনুশীলন করেছে কি করে প্রতিপক্ষের রকেট আটকে ধ্বংস করে দেওয়া যায়, যুদ্ধ জাহাজ ও ডুবোজাহাজ বিরোধী মহড়া ও বিমান আক্রমণ প্রতিহত করা শিখেছে.

এই মাত্র কয়েকদিন আগেই সারা বিশ্বের জন সমষ্টি খুবই আতঙ্কিত ছিল এক বিরাট যুদ্ধের ভয়ে. বিগত সময়ে উত্তেজনা মনে হতে যাচ্ছিল যে, কম হয়েছে. কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পেশী প্রদর্শন অব্যাহত রেখেছে. যেই উত্তর কোরিয়ার কথার সুর বেশী শান্তিপূর্ণ শুনতে পাওয়া গেলেই, প্রতিপক্ষ তাতে ইন্ধন যোগাচ্ছে – পরবর্তী সামরিক চলাফেরা শুরু করে দিচ্ছে, যা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে প্ররোচনা ছাড়া অন্য কিছু বলে মানাই যেতে পারে না. ফলে কোরিয়া উপদ্বীপ অঞ্চলের সঙ্কট এক স্থায়ী চরিত্র নিয়েছে.

একটা ধারণা রয়েছে যে, উত্তর কোরিয়া আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই ব্যালিস্টিক রকেট সমেত পারমানবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে পারে. কিন্তু এটা – ভবিষ্যতের ব্যাপার. আর আজকের দিনে দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী পেন্টাগনের সহায়তা ছাড়াই উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে দিতে পারে.

সুতরাং বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষিণের লোকদের বাস্তবে ভয় পাওয়ার মতো কিছু নেই. উত্তরে লোকরা খালি হুমকি দিতেই পারে. তাহলে কি কারণে আমেরিকার করদাতাদের বিশাল পরিমান অর্থ সেখানে শক্তি প্রদর্শনের জন্য খরচ করা হচ্ছে, যেখানে এমনিতেই সে সম্বন্ধে সকলেই সব জানে? সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, নিজেদের এই এলাকায় প্রভূত্ব বিস্তারের জন্যই এটা করা হচ্ছে.

কিন্তু এটা দক্ষিণ কোরিয়ার নিরাপত্তার সঙ্গে কোন বিশেষ সম্পর্ক রাখে না, আর একেবারেই এই উপদ্বীপ এলাকায় উত্তেজনার পারদকে নামিয়ে আনতে সাহায্য করে না, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের কোরিয়া কেন্দ্রের অগ্রণী বৈজ্ঞানিক কর্মী ও দর্শন শাস্ত্রে ডক্টরেট করা ইভগেনি কিম বলেছেন:

“মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য বোধগম্য. দক্ষিণ কোরিয়ার ইচ্ছাও বোঝা যাচ্ছে. জন গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কোরিয়ার কাজকর্মের উদ্দেশ্যও বুঝতে পারা যায়. আমি শুধু আগে থেকে বলে দিতে পারি যে, জুলাই মাসে আবার একটি উত্তেজনার পাক বৃদ্ধি পাবে. আর তার পরবর্তী হবে – আগষ্ট মাসে. জুলাই মাসে – কোরিয়া যুদ্ধে শান্তি সমঝোতা চুক্তির ষাট বছর উপলক্ষে প্রত্যেক পক্ষ থেকেই বলা হবে যে, আমরা জয়ী হয়েছিলাম! আবার শুরু হতে চলেছে গুরুতর কথার উপর কথা চাপিয়ে যুদ্ধ. আর আগষ্ট মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া আবার করে বিশালাকৃতি যুদ্ধ মহড়া শুরু করতে চলেছে. তাতেও পারমানবিক বিমানবাহী যুদ্ধ জাহাজ অংশ নেবে, পারমানবিক ডুবোজাহাজ অংশ নেবে, এজিস ব্যবস্থা সহ ফ্রিগেট ও ইত্যাদি থাকবে”.

দুঃখের বিষয় হল যে এক কুচক্র উদ্ভব হচ্ছে, যা থেকে বেরিয়ে আসা খালি কঠিন থেকে কঠিনতরই হচ্ছে.