মঙ্গলবারে দিল্লী শহরে শুরু হয়েছে প্রতি দুই বছরে একবার হওয়া নৌবাহিনীর নেতৃত্বের সম্মেলন. এর একটি প্রধান প্রশ্ন হয়েছে বিগত কয়েক বছর ধরে ভারত মহাসাগরে চিনের সক্রিয়তা বৃদ্ধি.

কয়েকদিন আগে তৈরী করা ভারতীয় সৈন্য বাহিনীর লোকদের তরফ থেকে দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে পাঠানো এক রিপোর্টে ভারত মহাসাগরের জলে চিনের সামরিক নৌবহরের সক্রিয়তা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে. সেখানে আমেরিকার উত্স উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, চিনের ডুবোজাহাজ গুলি ২২ বার ভারত মহাসাগরে দেখতে পাওয়া গিয়েছে, অর্থাত্ চিনের নিজেদের সীমান্ত অনুবর্তী সমুদ্র থেকে অনেক দূরে.

বিশেষ করে ভারতের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়েছে চিনের “মুক্তামালা” নীতি. সেই নীতি অনুযায়ী এক গুচ্ছ মালার মতো ভারতের চারপাশ ঘিরে বানানো হয়েছে নানা রকমের বন্দরের সারি, এরা পাকিস্তানের গোয়াদার, শ্রীলঙ্কার হামবাতোঙ্গা, বাংলাদেশের চট্টগ্রাম, মায়ানমারের কিয়াউকফ্যু ও কোকো দ্বীপের লক্ষ্য রাখার স্টেশন, যা একসাথে উত্তর আফ্রিকা থেকে হাইনান দ্বীপপূঞ্জ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় চিনের সামুদ্রিক প্রহরার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ. বাস্তবে এই মুক্তামালা স্ট্র্যাটেজি ভারতের বিরুদ্ধে করা হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এই নীতির মূল লক্ষ্য হল বাণিজ্য করে আনা দ্রব্যের নিরাপত্তা, প্রাথমিক ভাবে কার্বন যৌগ, যা চিনে আসছে পূর্ব আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্য থেকে জাহাজে করে. দ্বিতীয় লক্ষ্য হল বিকল্প স্থল পথে রাস্তা তৈরী, পাকিস্তান ও মায়ানমার হয়ে, কারণ যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোট সঙ্গীরা এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় বাস্তবে একমাত্র বর্তমানে ব্যবহার যোগ্য অত্যন্ত সঙ্কীর্ণ মালাক্কা স্ট্রেইট দিয়ে জাহাজ চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়, তার জন্য. কিন্তু যা প্রায়শঃই আধুনিক বিশ্বে ঘটছে প্রত্যেক কাজেরই একটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া থাকে: এই ক্ষেত্রে এটা – চিনের সেই সমস্ত এলাকায় উপস্থিতি বৃদ্ধি, যা ভারত কয়েকদিন আগেও মনে করেছে একান্তই নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ব্যক্তিগত এলাকা বলে. তাই ভারতও নিজেদের পক্ষ থেকে সামরিক নৌবাহিনী বৃদ্ধি করছে, আর তারই সঙ্গে চেষ্টা করছে অসমঞ্জস ভাবে চিন যে এলাকা নিজের বলে মনে করে, সেখানে নিজেদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করার – অংশতঃ এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ গুলির সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি করে, তাদের মধ্যে সেই সমস্ত দেশের সঙ্গেও, যাদের সঙ্গে চিনের এলাকা সংক্রান্ত বিরোধ রয়েছে: জাপান, ভিয়েতনাম ও অন্যান্যরা”.

এখন প্রশ্নের উদয় হয়: যেমন ভারত, তেমনই চিনের জন্য কতটা এই একে অপরকে পেশী প্রদর্শন করে জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষিত হচ্ছে, আর তারই সঙ্গে বিরোধ ও প্রতিযোগিতার রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে. বোধহয়, যেমন বেজিংয়ে, তেমনই দিল্লীতেও এই বিষয়ে সহমত বোধহয় নেই, তাই বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এর প্রমাণ হয়েছে, যেমন কয়েকদিন আগে লাদাখ সীমান্ত এলাকার ঘটনা, সুখের বিষয় যে, তা ভাল ভাবেই সাঙ্গ হয়েছে, যা আগামী সপ্তাহে চিনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াং এর আগে থেকে স্থির হওয়া ভারত সফরের আগেই. দেখাই যাচ্ছে যে, চিনের নতুন প্রশাসন জমে থাকা বিরোধ নরম করতে চাইছে. এই সফরের আগে তথাকথিত “নীল বই” বের করা হয়েছে, যাতে কিছু সবচেয়ে তীক্ষ্ণ প্রশ্ন, যা দুই দেশের মধ্যে উজিয়ে রয়েছে, তা নিয়ে খুবই নরম করে বলা হয়েছে”.

এই পরিস্থিতিতে আধুনিক ভারত- চিন সম্পর্কের প্রধান দ্বিধা প্রতিফলিত হয়েছে: বাস্তব প্রয়োজনই দুই দেশকে বাধ্য করেছে কাছে আসতে ও উন্নতির পথ খুঁজতে, কিন্তু পুরনো হলেও অসমাধিত সমস্ত বিরোধ ও পারস্পরিক ভাবে একে অপরের প্রতি অবিশ্বাস, যা বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে রয়েছে, তা প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথেই ঠেলে দিচ্ছে. সমস্যা হল যে, যখন রাজনৈতিক নেতারা ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠী সহযোগিতার পক্ষে হর্ষধ্বনি দিচ্ছেন, তখন দুই পক্ষের সামরিক বাহিনীর লোকরা নিজেদের পথেই এগিয়ে চলেছে: কারণ যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে ক্ষুদ্রতম ইঙ্গিতও না থাকে, তবে তাদের বেঁচে থাকার অর্থই হারিয়ে যাবে.