রাশিয়ার টেলিচ্যানেল ‘মাইয়া প্লানেতা’র(যার অর্থ আমার গ্রহ) শ্যুটিং দল গীনেস রেকর্ড ভঙ্গ করেছে. সঞ্চালক ও দুজন ক্যামেরাম্যান মোটর গাড়ি চড়ে উত্তর মেরু অভিযান সম্পন্ন করেছেন. ঐ অভিযানে তারা একটা দেশের ভূখন্ডের মধ্যে দীর্ঘতম পথ অতিক্রম করেছেন. দূরদর্শন কলাকুশলীরা দুই মাসের মধ্যে মস্কো থেকে রওনা দিয়ে দূরপ্রাচ্যের পেত্রোপাভলভস্ক- কামচাতকা শহরে পৌঁছেছিলেন. অর্ধেক পথ তারা সড়ক পথে অতিক্রম করেছেন আর বাকি অর্ধেক ছিল পুরোপুরি জনপথবিহীন. রেকর্ড সৃষ্টিকারীদের জীবনে এটা ছিলঅবিস্মরণীয় ঘটনা.

ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশকে বিভক্ত করা উরাল পর্বতমালা, অনতিক্রম্য অরণ্য(তাইগা)সহ সাইবেরিয়া, জলস্ফীত নদী, গভীর হ্রদ, মসৃণ হাইওয়ে ও এবড়ো খেবড়ো গ্রাম্য পথ. এই অভূতপূর্ব অভিযানে অংশগ্রহণকারীরা দু’দুবার উত্তর মেরুবলয় প্রদক্ষিণ করেছেন, তাদের জীবনে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা – মাইনাস ৫৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাদের সহ্য করতে হয়েছে, প্রায় এক মাস তাদের অতিবাহিত করতে হয়েছে স্বাভাবিক মোবাইল ফোনের সংযোগ ও জীবনযাপনের প্রাথমিক অপরিহার্য উপাদানগুলি থেকে বঞ্চিত হয়ে, উদরপূর্তি করতে হয়েছে মহাকাশচারীদের মতো টিউবে ভরা ও টিনড্ ফুড খেয়ে. পথশূন্য প্রান্তরে তারা ঘন্টা প্রতি ১৫ কিলোমিটার গতিতে এগোতে পেরেছেন.

অভিযান চলা কালে তাদের জীবন রক্ষার কাজেও অংশ নিতে হয়েছিল. যেমন, কঠোর জলবায়ুর উত্তরাঞ্চলীয় প্রান্তরে, ইয়াকুতিয়ায় দলটি এক ব্যক্তির জীবন রক্ষা করেছে. পথে গাড়ি অচল হয়ে যাওয়ার কারণে যে কনকনে ঠান্ডায় দুই দিন ধরে নিকটবর্তী জনবসতি কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে হাঁটছিল. তাকে ঠান্ডায় জমে মৃত্যুবরণ করার হাত থেকে বাঁচিয়ে অভিযাত্রীরা পৌঁছে দিয়েছিল তার বাড়িতে.

তবে আসল কথা এই, যে অভিযাত্রীরা রাশিয়ার অপরুপ সৌন্দর্য্য অবলোকন করেছেন. তারা দুচোখ ভরে উপভোগ করেছেন উত্তর বলয়ের রাতের আকাশে বর্ণোজ্জ্বল আলোর বিচ্ছুরন, পরিচিত হয়েছেন সাইবেরিয়ার ক্ষুদ্র সব উপজাতি সমষ্টির সঙ্গে, তাদের জীবনধারা ও ঐতিহ্যাবলী ক্যামেরায় তুলে নিয়েছেন, হাজির হয়েছিলেন এমনকি রাশিয়ার কঠোর উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সবচেয়ে দূরবর্তী স্কুলটিতে ও উষ্ণ প্রস্রবনে খাবার বানানোর অভিজ্ঞতাও তাদের হয়েছে.

উপরোক্ত ক্যামেরাম্যানরা যে সব শট্ ক্যামেরায় তুলেছেন, সেই সবকিছু প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পাবেন‘মাইয়া প্লানেতা’ টেলিচ্যানেলের দর্শকরা.ইতিমধ্যেই ৬টি তথ্যচিত্র জোড়া লাগানোর কাজ চলছে ও শীঘ্রই দূরদর্শনের পর্দায় মুক্তি পাবে. ক্যামেরায় ধরে রাখা সংপৃক্ত ও ভীষন আগ্রহোদ্দীপক বিষয়বস্তু অবশ্যই দর্শকদের মন কাড়বে. সেখানে প্রকৃতির অতুলনীয় সৌন্দর্য্য, স্থানীয় অধিবাসীদের বিস্ময়কর জীবনের গল্প, সুবিশাল দেশ তার সমস্ত বৈচিত্র্য ও স্বকীয়তা নিয়ে উপস্থিত হবে টিভির পর্দায় দর্শকদের সামনে.

টেলিচ্যানেলটির মুখ্য সম্পাদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইদানীং দর্শকদের কাছ থেকে রাশিয়ার ওপর প্রোজেক্টের সংখ্যা বাড়ানোর আর্জি জানিয়ে বেশি ঘন ঘন অনুরোধ আসছে. আসন্ন গ্রীস্ম ও শরত্কালে এই টেলিচ্যানেলে একসারি চলচ্চিত্রের শুভমুক্তি ঘটবে, যার মধ্যে অবশ্যই থাকবে ‘মাইয়া প্লানেতা’র জন্য গীনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে স্থান করে দেওয়াঅবিস্মরণীয় অভিযানের ওপর তোলা তথ্যচিত্রগুলি.