সিরিয়ার সঙ্গে সীমান্ত এলাকার রেইখানলী শহরে শনিবারে ঘটা বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ধরা পড়া নয় জন লোকের সকলেই তুরস্কের নাগরিক. এই সম্বন্ধে ঘোষণা করেছেন তুরস্কের উপ প্রধানমন্ত্রী বেশির আলতাই, খাতাই প্রদেশে দেওয়া এক সাংবাদিক সম্মেলনের বক্তৃতায়. প্রাথমিক ভাবে তুরস্কের সরকার অন্তর্ঘাতের কাজকর্মের সঙ্গে সিরিয়ার গুপ্তচর সংস্থার যোগাযোগের কথা ঘোষণা করেছিল.

শেষ অবধি পাওয়া খবর অনুযায়ী দুটি গাড়ী বোমা বিস্ফোরণের ফলে ৪৬ জন নিহত হয়েছেন, ১৪০ জন আহত. সিরিয়ার তথ্য মন্ত্রী ওমরান আজ-জৌবি তুরস্কের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী মুয়াম্মার গ্যুলের যে দামাস্কাসের উপরে এই অন্তর্ঘাতের দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে চেয়েছেন, তার চেষ্টাকে প্রতিহত করেছেন. তিনি বলেছেন যে, “তুরস্কের প্রশাসন এখনও কোন রকমের সাক্ষ্য প্রমাণ আদায় করতে পারে নি, অথচ ইতিমধ্যেই সিরিয়াকে অভিযোগ করেছে. মনে হচ্ছে যে, এবারে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তের ফলাফলকে বানিয়ে নেওয়া হবে”.

এই বিস্ফোরণ হয়েছে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী তৈপ এরদোগানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর ও তাঁর মার্কিন রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সঙ্গে সাক্ষাত্কারের মাত্র চার দিন আগে. এই ঘটনা বেশ কিছু পর্যবেক্ষকের জন্য ভিত্তি দিয়েছে ভাবার যে, এই অন্তর্ঘাত সেই সব শক্তিরাই ঘটিয়েছে, যারা সিরিয়া নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সম্মেলন ভণ্ডুল করতে চায়. রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী জন কেরি এই সম্মেলন আয়োজনের কথা বলেছেন ৭ই মে তারিখে.

সব মিলিয়ে সিরিয়ার দিকে তুরস্কের রাজনীতি দেখাই যাচ্ছে যে, ধ্বসে পড়ছে, এই রকম মনে করে নিকটপ্রাচ্য ও ককেশাস কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক নব গঠিত রাষ্ট্র গুলির ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

“তুরস্কের বের হওয়ার পথ আছে, হয় তাদের জেনেভা কমিউনিকে সমর্থন করতে হবে, যাতে তারাও একসময় স্বাক্ষর করেছে ও নতুন করে পথ নির্দেশ তৈরী করার কাজে সামিল হতে হবে. অথবা এর থেকে দূরে সরে যেতে হবে – আর তখন তুরস্ক শান্তি প্রক্রিয়ার বাইরে বেরিয়ে যাবে. আর যদি এই সন্ত্রাসবাদী কাণ্ডকে এই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হয়, তবে এটা বাস্তবেই কোন একটা চরমপন্থী শক্তির সক্রিয়তা বৃদ্ধির প্রমাণ, যারা সিরিয়া নিয়ে নতুন আন্তর্জাতিক সম্মেলনকে ভণ্ডুল করে দিতে চাইছে”.

এরই মধ্যে বিশ্লেষকরা উল্লেখ করেছেন যে, তুরস্কের অন্তর্ঘাত বিভিন্ন চরমপন্থী শক্তিদের করা কাজ হতে পারে. এটা হতে পারে স্থানীয় ঐস্লামিক মৌলবাদী, আবার বামপন্থী প্রতিক্রিয়াশীল লোকরা. এখানে বাদ দেওয়া যেতে পারে না সিরিয়ার জঙ্গীদের মধ্যের কোন না কোন গোষ্ঠীকেও. খোদ তুরস্কেই কিছু প্রশাসনের সমালোচকরা বলছেন যে এরদোগানের রাজনীতির জন্য দেশ একটা যুদ্ধ ক্ষেত্রের সামনের সারির রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে. আঙ্কারা থেকে নেওয়া খোলা সীমান্ত রাজনীতির ফলে সিরিয়ার দিক থেকে উদ্বাস্তুদের জন্য সীমান্ত খোলা রাখা হয়েছে, যেখানে সীমানা পার হওয়ার জন্য এমনকি কোন রকমের পাসপোর্টের দরকার পড়ছে না. তুরস্কের সীমান্ত এলাকার রাজ্য গুলি এই পরিস্থিতিতে সিরিয়াতে একে অপরের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রত জঙ্গী গোষ্ঠীদের নিজেদের মধ্যে হিসাব নিকাশ করার জন্য জায়গায় পরিণত হওয়ার ঝুঁকি নিতে বাধ্য হচ্ছে.

একই সময়ে মার্কিন কংগ্রেসে এক আইন পেশ করা হয়েছে, যার নাম হয়েছে সিরিয়াতে ২০১৩ সালে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার অ্যাক্ট. তাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিরিয়াতে সশস্ত্র জঙ্গী বাহিনীকে অস্ত্র সাহায্য দেওয়ার জন্য ছাড়ের. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়াতে উড়ান মুক্ত এলাকা তৈরী করে দেবে ও বিরোধী পক্ষকে ভারী অস্ত্র সরবরাহ করবে, যার মধ্যে ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবস্থা প্যাট্রিয়ট থাকবে, এই কথা এবিসি টেলিভিশন চ্যানেলে ঘোষণা করেছেন জন ম্যাকেইন, তিনি যোগ করেছেন:

“আমরা সিরিয়ার উপরে উড়ান মুক্ত এলাকা তৈরী করে দিতে পারি, আমরা তাদের অস্ত্র দিতে পারি ও সমস্ত প্রয়োজনীয় সাহায্য দিতে পারি, যাতে এই অর্থহীণ রক্তক্ষয় বন্ধ করা সম্ভব হয়”.

এরই মধ্যে এই ধরনের আইন পেশ করতে যাওয়া মার্কিন পররাষ্ট্র সচিবের সদ্য করা ঘোষণার সঙ্গে খুবই খারাপ ভাবে মেলে, যেখানে তিনি অঙ্গীকার বদ্ধ হয়েছিলেন যে, সিরিয়া বিষয়ে নতুন সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছেন রাজনৈতিক সমাধানের আশায়. দেখাই যাচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক প্রবাহের মধ্যে লড়াই চলছে, আর কাদের পক্ষ এই লড়াইতে জিতবে – যারা যুদ্ধের পক্ষ, নাকি যারা শান্তির পক্ষে – তা এখনও স্পষ্ট নয়.