এই বছরের গরমের শুরুতে রাশিয়াতে শব্দভেদী অস্ত্র বা শব্দাতীত গতি সম্পন্ন অস্ত্র তৈরীর পরিকল্পনা করা হয়েছে. সেটি তৈরীর জন্য ষাটের বেশী কারখানা অংশ নিচ্ছে. সেই সোভিয়েত দেশের সময় থেকেই শব্দভেদী অস্ত্র তৈরীর চেষ্টা করা হয়েছিল. ২০০৯ সালের শুরু থেকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের থেকে পাওয়া নির্দেশ অনুযায়ী এই অস্ত্র তৈরী করা আবার করে শুরু করা হয়েছে.

এখানে কথা হচ্ছে এক বহুমুখী লক্ষ্য সম্পন্ন পরিকল্পনার, যা এই ধরনের অস্ত্র তৈরীর জন্য প্রয়োজন. এই ধরনের অস্ত্র নির্মাণের জন্য নেতৃস্থানীয় সংস্থা হয়েছে ট্যাকটিক্যাল রকেট আর্মামেন্টস কর্পোরেশন. রাশিয়াতে শব্দভেদী অস্ত্র তৈরী যদিও কিছু একটা খুবই নতুন ব্যাপার নয়, আর এই বিষয়ে বেশ কিছু কাজ থেকেই গত শতকে করা হয়ে গিয়েছে, তাই স্বাধীন সামরিক পর্যালোচনা সংবাদপত্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক ভিক্টর লিতোভকিন বলেছেন:

“সোভিয়েত দেশের সময়ে খুবই সফল সব প্রকল্প ছিল, কিন্তু বোঝা দরকার যে, সময় চলে গিয়েছে. এই ধরনের প্রকল্পগুলি থেকে গিয়েছিল নানা নির্মাণ ব্যুরোতে, কারণ তা তৈরী করার মতো অর্থ যোগান ছিল না. আর এটাও ঠিক যে, স্রেফ প্রয়োজনও ছিল না... কিন্তু দেখা গেল যে, যখন পশ্চিমে এই ধরনের অস্ত্র তৈরী করা হচ্ছে, তখন আমরা সরে দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না, কারণ তা আমাদের বিরুদ্ধেই কোন পরিস্থিতিতে তাক করা হতে পারে. তাই আমাদেরও উচিত্ হবে নিজেদের কিছু একটা তৈরী করার, যা গত শতকের নব্বইয়ের দশক থেকে অভিজ্ঞতা হিসাবে জমা হয়ে আছে, তা ব্যবহার করে”.

বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী, শব্দভেদী অস্ত্র বা রকেট অবিশ্বাস্য রকমের গতি অর্জন করতে পারে, যা শব্দের গতির চেয়েও দ্রুত অর্থাত্ ঘন্টায় ১২০০ কিলোমিটারের চেয়েও দশ বা তার চেয়েও বেশী গুণ জোরে. এই ধরনের অস্ত্র রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থার জন্য তৈরী করা হচ্ছে না, বরং করা হচ্ছে তা পার হওয়ার জন্যেই, তাই রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের ডেপুটি ডিরেক্টর আলেকজান্ডার খ্রামচিখিন বলেছেন:

“এটা আঘাত হানার অস্ত্র, তা আকাশ বা রকেট প্রতিরোধের কাজে লাগানোর জন্য নয়. এটার প্রাথমিক বিশেষত্বই হল অত্যধিক দ্রুত গতি. যদি এই ধরনের অস্ত্র তৈরী হয়, তবে মনে তো হয় না যে, কেউ তা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে যে, তার উপরে কি ধরনের বিস্ফোরক রয়েছে. যদিও শুধু প্রবল গতির কারণেই এই অস্ত্রের উপরে পারমানবিক বা অন্য কোনও ধরনের অস্ত্র যোগ না করা হলেও চলতে পারে, কারণ নিজের ভর দিয়েই এই অস্ত্র শুধু গতির জন্যই লক্ষ্য ধ্বংস করে দিতে সক্ষম হবে”.

জানা রয়েছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শব্দাতীত গতি সম্পন্ন অস্ত্র বানানোর কাজ চলছে, যা তাদের জন্য ২০১৫- ২০১৮ সালে বহুমুখী রকেট তৈরীর সম্ভাবনা খুলে ধরতে চলেছে, রাশিয়া অবশ্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামতে চায় না বরং ২০১৫ কি ২০১৬ সালে এই ধরনের অস্ত্র তৈরী করে ফেলতে চায়, তাই ভিক্টর লিতোভকিন উল্লেখ করেছেন:

“তার ওপরে এটা ঘটনা যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালেই কার্যকরী শব্দাতীত অস্ত্র তৈরী করে ফেলবে. আর তা শুধু অস্ত্রই নয়, এই ধরনের অস্ত্রের ব্যবস্থাও. কারণ আজকের দিনে এই অস্ত্রের আলাদা কোন অংশ যুদ্ধ ক্ষেত্রে কোন রকমের ভূমিকাই নিতে পারে না. যেমন, এই ধরনের রকেট ছাড়া বিমান এই ধরনের অস্ত্র সহ বিমানের চেয়ে অবশ্যই অনেক কম ক্ষমতা সম্পন্ন, আর এই রকেট কোন রকমের পরিবাহক ছাড়া কোনও ক্ষমতাই ধরে না, যদি না সেটাকে ডুবোজাহাজ বা দূরে গিয়ে বোমা ফেলার মতো বিমানে না রাখা হয়. এখানে হওয়া দরকার অস্ত্রের ব্যবস্থা – শুধু পরিবাহক নয়, বরং নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা, লক্ষ্য নির্দেশের ব্যবস্থা, আরও অনেক কিছু, যা যুদ্ধের ব্যবস্থা নামের ধারণার মধ্যে থাকতে পারে. তাই আমরা নিজেদের শব্দাতীত অস্ত্রের ব্যবস্থা তৈরীকরতে চলেছি”.

সুতরাং রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সামনে খুব একটা সহজ কাজ নেই. বরং একটা লক্ষ্য পূরণ করার মতো পরিকল্পনা থাকলে, তা বেশ কিছু দিকে কাজ করার বিষয়ে দিক নির্দেশ করতে পারবে. এই ক্ষেত্রে কাজ কর্ম সম্পূর্ণ নতুন ধরনের গুণমান সম্পন্ন অস্ত্র ব্যবস্থা তৈরী করার সম্ভাবনা করে দেবে.