প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের নেতৃত্বে পাকিস্তান মুসলিম লীগ (এন) দলের সর্বজনীন নির্বাচনে আত্মবিশ্বাসী বিজয় বহু ইতিবাচক আশা যেমন পাকিস্তানে, তেমনই প্রতিবেশী দেশ গুলিতেও জন্ম দিয়েছে. কিন্তু প্রশ্ন হল যে, নতুন সরকার এই আশা পূরণ করতে সমর্থ হবে কি না, তা অনেকগুলি জটিলতায় গিয়ে আটকেছে, যা যেমন নতুন প্রশাসনের পক্ষে, তেমনই আগামী তৃতীয়বার প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ নিতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের জন্যও পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে.

বর্তমানের নির্বাচন প্রচারের সময়ে পরস্পর বিরোধী বিষয় ও প্যারাডক্স ইতিমধ্যেই একাধিকবার পর্যবেক্ষকরা উল্লেখ করেছেন, যা আবার করে ১১ই মে নির্বাচনের দিনেও দেখতে পাওয়া গিয়েছে আর সম্ভবতঃ – আরও বেশী মাত্রাতেই দেখতে পাওয়া যেতে পারে, যখন নতুন প্রশাসন এই প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারের অঙ্গীকার গুলিকে চাইবে বাস্তবে জীবন দিতে, তাই রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“এটা ঠিক যে, এই নির্বাচন পাকিস্তানের ইতিহাসে প্রথম সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যখন এক সরকার অন্য সরকারকে কোনও সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে না গিয়ে অথবা পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের ফলে ক্ষমতা না হারিয়ে নিজেদের সংবিধান সম্মত মেয়াদ শেষ করেই ক্ষমতা হস্তান্তর করছে. কিন্তু এই বারের নির্বাচনই হিংসার বিস্তারে হয়েছে অভূতপূর্ব ও তা ঘটেছে ভোটের দিনেও. ফলে প্রত্যেক প্রাক্ নির্বাচনী সমাবেশই ছিল সন্ত্রাসবাদীদের লক্ষ্য ও আর এবারের নির্বাচনের সময়ে ১৩০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের মধ্যে বেশ কিছু লোক আবার ভোটের দিনেই.

কোন সন্দেহ নেই যে, এবারের ভোটে অবিসংবাদিত ভাবেই বিজয়ী নির্ধারিত হয়েছে, আর এর মানে হল যে, আগামী মন্ত্রীসভার পক্ষে নিজেদের পছন্দের রাজনীতি করার ক্ষেত্রে কোন রকমের সমস্যা না হওয়ার কথা. প্রাথমিক ফলাফল অনুযায়ী মুসলিম লীগ (এন) দল ১৩০টি কেন্দ্রে জয়ী হয়েছে. এর অর্থ হল যে, একেবারেই সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার জন্য নওয়াজ শরীফের দলকে ছোট দল বা নির্দল সাংসদদের স্বল্প কয়েকজনের সমর্থন পেলেই তা যথেষ্ট হবে”.

কিন্তু যদি প্রাদেশিক বিধানসভা গুলিতে ভোটের ফলের দিকে নজর দেওয়া হয়, তাহলে চিত্র হচ্ছে অনেক বেশী জটিল ও মুসলিম লীগের জন্য ততটা স্বচ্ছন্দ নয়. শুধুমাত্র পাঞ্জাব রাজ্যেই চারটি প্রদেশের মধ্যে এই দলের পক্ষে সম্ভব হয়েছে জয়ী হওয়ার. যা এমনিতেই সব সময়ে তাদেরই ঘাঁটি ছিল. সিন্ধ প্রদেশে জয়ী হয়েছে পিপলস্ পার্টি, আর খাইবার পাখতুনভা প্রদেশে তেহরিক-এ-ইনসাফ, আবার বেলুচিস্তানে ( দেশের একটি সবচেয়ে উত্তপ্ত এলাকায়) কোন একটি দলের পক্ষেও সম্ভব হয় নি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার, কিন্তু তুলনামূলক ভাবে বেশী জায়গা পেয়েছে জাতীয়তাবাদী বেলুচ ও পুস্তুন দলের লোকরা. এর অর্থ হল যে, এমনকি জাতীয় স্তরে বেশীর ভাগ পদ পাওয়া সম্ভব হলেও সরকারের জন্য কোন রকমের গ্যারান্টি নেই যে, নিজেদের রাজনীতি করতে গিয়ে তাদের জটিলতার সম্মুখীণ হতে হবে না. আর কেন্দ্র বিমুখী রাজনীতি যা বিগত কয়েক বছরে দেখা গিয়েছে, বিশেষত বেলুচিস্তানে, তা আপাততঃ থেকেই যাচ্ছে.

যখন নওয়াজ শরীফকে তাঁর আগামী রাজনীতির তিনটি প্রধান প্রাথমিক কর্তব্যের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি বলেছেন যে, অর্থনীতি, অর্থনীতি ও আরও একবার অর্থনীতি. এই ধরনের অবস্থান, বলে দেয় যে, দেশের ভিতরের সমস্যার দিকেই নজর দেওয়া, সরকার এই এলাকার সমস্ত দেশের সঙ্গেই চাইবে সু প্রতিবেশী মূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে.

প্রতিবেশী দেশ গুলির সমস্ত নেতৃস্থানীয় লোকরাই পাকিস্তানের ভোটের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, এই কথা উল্লেখ করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

“ভারতে বিশেষ করে মনে করা হচ্ছে সেই উষ্ণ সময়ের কথা, যা ১৯৯৯ সালের শুরুতে হয়েছিল, যখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে সেই নওয়াজ শরীফই ছিলেন. কিন্তু সেই উষ্ণতার শেষ হয়েছিল সেই বছরেরই গরম কালে কারগিল যুদ্ধে শেষ হয়েছিল আর পাকিস্তানে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছিল সেই বছরেরই অক্টোবর মাসে.

একই ধরনের আশা ভরতের পক্ষ থেকে ২০০৮ সালে আসিফ আলি জারদারির প্রশাসনের শুরুতেও জড়ানো হয়েছিল, কিন্তু ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে মুম্বাই শহরে হয়েছিল সন্ত্রাসবাদী হামলা, যা আয়োজনের জন্য ভারত পাকিস্তানকেই দোষ দিয়েছিল, আর সমস্ত আশা নিভে গিয়েছিল”.

সুতরাং আগামী প্রশাসনের প্রতি আশা খুবই বেশী, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে কি না – এটা খুবই বড় প্রশ্ন, এই রকম মনে করেছেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ.