সাইবেরিয়ার ইর্কুতস্কের বিজ্ঞানীরা নতুন বাতাসচালিত জেনারেটর উদ্ভাবন করেছেন. নতুন জেনারেটর সাধারণ জেনারেটরের তুলনায় আয়তনে অনেক ছোট এবং বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন. উপরন্তু এর ঘূর্ণায়মান ব্লেডগুলি আবরনে ঢাকা, যার সুবাদে তীব্র হাওয়া, বৃষ্টি ও ভেজা বরফে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে রক্ষা পায়.

নিরীক্ষার জন্য নমুনা প্রস্তুত. সেটাকে বসানো হবে ইর্কুতস্কের রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাদে, তার প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা পরখ করে দেখার জন্য. নির্মাতা ‘এ্যারোডাইনামিকটেক’ সংস্থার প্রযুক্তি আধিকারিক ইউরি ক্রিউলিন ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া ইন্টারভিউয়ে বলছেন, যে যন্ত্রটিতে সর্বাধুনিক এ্যারোডাইনামোর কার্যনীতি ব্যবহার করা হয়েছে.-

এই কার্যনীতি ততখানি বায়ুবিদ্যুত উত্পাদনে প্রয়োগ করা হয় না, যতখানি হয় উড্ডয়নক্ষম বস্তুতে. আমরা এমন নক্সা বানাতে সমর্থ হয়েছি, যা বিদুত্শক্তি উত্পাদন করতে পারে. আধুনিক বিমান ও হেলিকপ্টারে যেরকম টার্বাইন-রকেট ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়, আমরা সেই প্রযুক্তি প্রয়োগ করায় জেনারেটরের কার্যকারিতা উঁচুমানের. সম্প্রতি আমরা প্রদর্শনযোগ্য নমুনাতে এই যন্ত্রের ব্যবহারিক কার্যকারিতা দেখিয়েছি. ঐ সফল পরীক্ষা করা হয়েছে বৈকাল হ্রদের তীরে.

যন্ত্রটি অত্যন্ত সংবেদনশীল – বাতাসের মাত্র সেকেন্ড প্রতি ১ মিটার বেগেই সে কাজ করতে শুরু করে. বায়ুচালিত যন্ত্রের পক্ষে এটা তুলনাবিহীন. এর অন্যতম অমূল্য সুবিধা হচ্ছে এই, যে এই যন্ত্রঢাকা কনস্ট্র্যাকশনের সুবাদে নির্গত শব্দের তীব্রতা তিনগুণ কমিয়ে দেয় – বলছেন ইউরি ক্রিউলিন.-

স্বাভাবিকভাবেই এই জেনারেটর শহরের মধ্যেই বসানো যেতে পারে, যেহেতু ঘূর্ণায়মান কোনো কলকব্জা তার বডির বাইরে নেই. এই জেনারেটর উত্পাদিত কিলোওয়াট-ঘন্টার মূল্য অনুরুপ যন্ত্র উত্পাদিত বিদ্যুত্শক্তির মূল্যের অর্ধেক.

ইর্কুতস্কের বিজ্ঞানীদের দ্বারা নির্মিত জেনারেটরটি তার অন্তর্নিহিত সামর্থ্যের দিক থেকে অনুরুপ বিদেশী জেনারেটরদের অনেক পেছনে ফেলে দেবে. উদাহরনস্বরুপ, সিমেন্সের তৈরি এমন একটি যন্ত্র সর্বাধিকযে পরিমান বিদ্যু্শক্তি উত্পাদন করতে সক্ষম, ইর্কুতস্কের জেনারেটার তার দ্বিগুণ পরিমান – ৫০ থেকে ৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ উত্পাদন ক্ষমতাসম্পন্ন. যন্ত্রটির উদ্ভাবকরা ইতিমধ্যেই বিদেশে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সাথে ব্যবসায়িক কথাবার্তা বলছেন. এশিয়ার দেশগুলি, বিশেষতঃ কাজাখস্তান খুব আগ্রহশীল. ইউরোপেও এই জেনারেটর নিয়ে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে, সেখানে যে প্রাকৃতিক দূষণমুক্ত বিদ্যুত্ অগ্রাধিকার পায়.