রাশিয়ার জন্য এই সপ্তাহটি ছিলো বিজয়ের। পিতৃভূমি রক্ষা যুদ্ধ শেষ হওয়ার ৬৮ বছর পরে গত ৯ মে ছিল রাশিয়ার ও সেই যুদ্ধে বিজয়ী দেশগুলোর জন্য বিজয় দিবস। রাশিয়ার ভ্লাদিভস্তক থেকে কালিনিনগ্রাদ পর্যন্ত ২৪টি শহরে সামরিক কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বিজয় দিবস নানা প্রজন্মকে একটি সুঁতায় আবদ্ধ করে এবং দেয় ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি। সুখ, আনন্দ ও গর্ববোধ। এ সব কিছুই দেখতে পাওয়া যায় বিজয় দিবসে। যারা নাত্সী জার্মানির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে দেশের জন্য বিজয় ছিনিয়ে এনেছিলেন তাদের কাছে এ দিনের রয়েছে বিশেষ মর্যাদা।

আজকের রাশিয়া যাদের নিয়ে গর্ব করে তাদের সম্মানে রেড স্কয়ারে আয়োজন করা হয় সামরিক কুচকাওয়াজ। তবে প্রতিবছর মুক্তিযুদ্ধাদের সংখ্যা কমে আসছে। মস্কোর ঐতিহাসিক ওই সামরিক কুচকাওয়াজের শুরুতে তাদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি বলেন, "শ্রদ্ধেয় যুদ্ধবীরেরা! আমরা আজীবন আপনাদের দেখানো পথ অবলম্বন করবো। যারা যুদ্ধে নিহত হয়েছে তাদের জন্য শোক প্রকাশ করবো এবং সর্বদা যুদ্ধ নিয়ে সত্য কথা প্রচার করবো। আমরা প্রয়োজনে সব কিছু করবো যাতে আমাদের সন্তানদের, আমাদের বাড়ী, আমাদের মাটিতে কেউ হুমকি দিতে না পারে। পৃথিবীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সব কিছু করবো। ১৯৪৫ সালের মে’র বিজয় তা যুদ্ধবিহীন জীবন গড়ার প্রত্যয় জানায়। আমাদের সবাই এই পবিত্র বিশ্বাস নিয়ে বাস করছি। আমাদের মহান দাদা আর পিতাদের রেখে যাওয়া আস্থা রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য এবং আমাদের সন্তানদের জন্য একটি সমৃদ্ধ, স্বাধীন ও শক্তিশালী রাশিয়া রেখে যেতে চাই।আপনাদের সবাইকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা! মহান বিজয় দিবস অমর হোক! উরা!"

১১ হাজার সেনা, ১০০টিরও বেশি সাজোঁয়া যান, ১৭টি বৈমানিক দল, সামরিক সঙ্গিতবাদকসহ প্রায় ৮০০ লোকে পূর্ণ ছিল পুরো রেড স্কয়ার। কুচকাওয়াজের শুরুতে নিয়ে আসা হয় বিজয়ের স্মরক এবং জাতীয় পতাকা।

এরপর এগিয়ে যায় বাদকদের একটি দল। প্রতি মিনিটে ১২০ কদমের তালে চলতে থাকে। এরপর এগিয়ে যায় সেনা, বিমান, নৌবাহিনীর সৈন্যরা। আর প্রতিটি দলের জন্য আলাদা আলাদা বাদ্য বাজাচ্ছেন বাদকরা।

সেনাদের পরেই বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজে যোগ দেয় সাজায়ো যান। এবারই প্রথম কুচকাওয়াজে যোগ দেয় যুদ্ধযান টাইগার। একে একে এগিয়ে যায় টাংক টি-৯০ ও রকেটবিরোধী প্রতিরোধ ব্যবস্থা।

রেড স্কয়ারে সাজোয়া যানের প্রদক্ষিনের পরেই আকাশ থেকে ভেসে আসে বিমানের শব্দ। উপস্থিত দর্শকরা যটপট ক্যামেরা বের করে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। রোদ্যজ্জল নীল আকাশে মস্কোর বুক চিড়ে উড়ে যায় ৬৮টি যুদ্ধবিমান। বিজয় দিবসের ৬৮ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যেই ৬৮টি বিমান। এসব বিমানের মধ্যে ছিল মিগ-২৯, যুদ্ধ ক্ষেপনাস্ত্র বহনে সক্ষম সু-৩৪। আর অবশ্যই সারা বিশ্বে পরিচিত রুস্কি ভিতিয়াজি বিমানদল।

কুচকওয়াজ শেষে যুদ্ধবীররা সেই ৬৮টি বছর পূর্বের যুদ্ধকালিন সময়ের দিনগুলোর কথা স্মরণ করেন এবং রাশিয়ার আধুনিক অস্ত্রের শক্তি নিয়ে মতামত জানান। কুচকাওয়াজের প্রশংসা করেন বিদেশি অতিথিরাও।

মস্কোতে নিযুক্ত ইরাকি দূতাবাসের ডিফেন্স এট্যাসি ইব্রাহিম ইয়াসিন বলেন, "আমি প্রতিবছর ৯মে রেড স্কয়ারে আসি কুচকাওয়াজ দেখতে। এ দিন রেড স্কয়ারে উপস্থিত থাকা আমাদের জন্য অনেক সম্মানের। আমি এ নিয়ে তিনবার আমি মস্কোতে বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজ প্রত্যক্ষ করেছি। এ দিন রাশিয়ার গৌরবের সেনাবাহিনীর সদস্যদের দেখার সুযোগ পাওয়া যায়, যা সত্যিই অসাধারণ একটি ব্যাপার। আমাদের অনেক ভাল লাগে।"

১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত পিতৃভূমি যুদ্ধ বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে রাশিয়ার ২৪টি শহরে সামরিক কুচকাওয়াজের আয়োজন করা হয়। বিজয় দিবসের অন্যান্য অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল শিল্পীদের পরিবেশিত কনসার্ট, দর্শনীয় স্থান ঘুড়ে বেড়ানো এবং সর্বশেষে চোখ জুড়ানো আতশবাজি।