রাশিয়া ও যুক্তরাজ্যের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যত রুপরেখা ও সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ।

সোচিত আজ শনিবার দুই নেতার মধ্যে ওই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়।

দুই দেশের মধ্যে বানিজ্য-অর্থনীতি ও বিনিয়োগের পরিমান বেড়েই চলছে। গত বছর রাশিয়া-যুক্তরাজ্যের মধ্যে বানিজ্যের পরিমান ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। আর জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসে তা আরো ৩০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। রাশিয়ার অর্থনীতিতে যুক্তরাজ্যের বিনিয়োগ হচ্ছে প্রায় ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ডেভিড ক্যামেরুনের উপস্থিতি এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি আরো বলেন, "সম্ভাবনাময় প্রকল্পগুলোর কাজ সমন্বয় করতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যুক্তরাজ্যের অন্যতম কোম্পানী ব্রিটিশ পেট্রোলিয়াম রুশ তেল-গ্যাস কোম্পানীর ২০ শতাংশ শেয়ার কিনেছে।"

এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনায় প্রধান গুরুত্ব পায় সিরিয়া পরিস্থিতি। বিশেষকরে সিরিয়ার সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ইসরাইলি বিমান হামলার পর পরিস্থিতির আরো অবনতির দিকে যাচ্ছে। আর এই সংকট পরিস্থিতিকে পুরোপুরি ব্যবহার করছে অস্ত্রধারী যোদ্ধারা।

সিরিয়া সংকট সমাধানের জন্য মস্কো ও লন্ডনের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন থাকলেও তাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য একই। পুতিন বলেন, "আমাদের উভয় পক্ষই চাইছি খুব দ্রুত সিরিয়ায় সহিসংতা বন্ধ হোক এবং শান্তিপূর্ণ পথে সংকট সমাধানের দিকে এগিয়ে যাক। সেই সাথে সিরিয়ার স্বাধীনতা ও স্বার্বভৌম বজায় থাকার পক্ষে আমরা।"

ডেভিড ক্যামেরন পুতিনর সাথে একমত প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, "আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির যে পার্থক্য রয়েছে তা কারো কাছে গোপন নয়। তবে আমরা চাইছি, দ্রুত সংকটের অবসান হবে এবং সিরিয়ার জনগনকে নিজেদের সরকার গঠনে সহায়তা করা। রাশিয়া, ব্রিটেনসহ অন্যান্য দেশ মিলে সিরিয়ায় একটি অন্তর্বর্তীকালিন সরকার গঠনে এগিয়ে আসা উচিত। শুধুমাত্র আলোচনা বসার জন্য আমন্ত্রন জানালে হবে না বরং তার জন্য পরিবেশ তৈরী করতে হবে।"

শুধুমাত্র অর্থনীতি বা রাজনীতিই নয়। ডেবিড ক্যামেরুন ও ভ্লাদিমির পুতিন দুই দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিনিময় নিয়েও আলোচনা করেন। ২০১৪ সালে প্রথমবারের মত দুই দেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে সাংস্কৃতিক বর্ষ উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে উভয় দেশের রাজধানীতে মস্কো ও লন্ডন দিবস পালিত হবে।

0আনুষ্ঠানিক আলোচনা শেষে সোচি অলিম্পিক অবকাঠামো পরিদর্শন করেন ক্যামেরন ও পুতিন। উল্লেখ্য, সোচিতে শীতকালিন অলিম্পিক গেমসের প্রস্তুতি কাজে যুক্তরাজ্যের ৬০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান অংশ নিয়েছে।