রাশিয়ার অর্থডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিলের আজ থেকে পাঁচদিনের চীন সফর শুরু হয়েছে। তাঁর এ সফরকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যা দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। প্যাট্রিয়ার্ক কিরিলের এ সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে চীনা সরকারের আমন্ত্রনে। রুশ অর্থডক্স চার্চের ইতিহাসে এটিই প্রথম এ ধরণের কোন সফর।

প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল বেইজিং, সাংহাই ও হারবান শহর সফর করবেন। সংগত কারণেই তিনি এই যাত্রাপথ নির্বাচন করেছেন। এ শহরগুলোতেই ঠিক ৩০ বছর আগে চীনে অর্থডক্স খ্রিষ্ট চর্চা শুরু হয়েছিল।

ইতিহাস ঘেটে জানা যায়, চীনে রুশ অর্থডক্স চার্চের কার্যক্রম সূচনা হয়েছিল সাতারো শতকের দিকে। ওই সময়ে বেইজিং এসেছিলেন রুশ অর্থডক্স চার্চের এক পূন্যার্থী মাক্সিম লিওনতিব। ১৭১৩ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় রুশ আধ্যাত্মিক মিশন দল। খুব তাড়াতাড়ি চীনা সমাজে রুশ মিশন দল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। সময়ের সাথে সাথে রুশ অর্থডক্স চার্চের উদ্যোগে চীনে তৈরী করা হয় ১০০টিরও ওপরে অর্থডক্স খ্রিষ্ট ধর্ম চর্চা কেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে বিজ্ঞান, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি, সাহিত্য শেখার সুযোগ রয়েছে।

যদিও সম্প্রতি চীনে চার্চ জীবনে একটা মন্দাভাব যাচ্ছিল। ১৯৫৪ সালে চীনে রুশ আধ্যাত্মিক মিশন দলের কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। ১৯৬২ সালে মারা যায় চীনের সর্বশেষ অর্থডক্স চার্চের ধর্মগুরু। আর সেই থেকে চীনে কোন অর্থডক্স চার্চের কোন থাদার নেই। এমনটি বলছেন হংকংয়ে দায়িত্বরত পেতার ও পাভলা চার্চের ফাদার দিওনসি পাজদিনিয়াভ। তিনি জানান, গত শতকের ৭০ এর দশকে অত্যন্ত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল রাশিয়া ও চীনের সম্পর্ক। আর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে, চীনা অর্থডক্স কাঠামো পুরোটাই ভেঙ্গে পড়ে।

তবে, রুশ অর্থডক্স চার্চ কখনোও নিজেদের চীনা অর্থডক্স খ্রিষ্ট্র ধর্মানুরাগীদের সাথে সম্পর্কের ফাটল ধরতে দেয় নি। যেমন ২০০০ সালের শুরুতে হংকংয়ে চালু হয় একটি অর্থডক্স চার্চের আদলে একটি কেন্দ্র, যেখানে রুশ ভাষা শেখার ব্যবস্থ করা হয়। বর্তমানে চীনে অর্থডক্স খ্রিষ্ট্র ধর্মানুরাগী ও চার্চের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আরো বলছেন ফাদার দিওনসি পাজদিনিয়াভ। বর্তমানে হংকংয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আরো ৪টি অর্থডক্স চার্চ উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া বেইজিং ও সাংহাইয়ে অবস্থিত রুশ দুতাবাস প্রাঙ্গনে অর্থডক্স খ্রিষ্ট্র ধর্মানুরাগীরা প্রার্থনা করার সুযোগ পাচ্ছেন।

রাশিয়ার অর্থডক্স চার্চের প্রধান প্যাট্রিয়ার্ক কিরিল ১৫ মে পর্যন্ত চীনে অবস্থান করবেন। তার এ সফর ওই অঞ্চলে অর্থডক্স খ্রিষ্ট্র ধর্ম চার্চায় আরো গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।